প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গণতন্ত্র হলো উন্নত জীবনের প্রতিশ্রুতি এবং স্বাচ্ছন্দ্য স্বাতন্ত্র্যের প্রতিচ্ছবি : ড. এমাজউদ্দীন আহমদ

নাঈমা জাবীন : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেছেন, গণতন্ত্র অবশ্যই একধরনের ব্যবস্থা। বৈশিষ্ট্যপূর্ণ এক সমাজ ব্যবস্থা। একধরনের সিস্টেম। সবার আশা-আকাক্সক্ষা ধারণ করে গণতন্ত্র। গণতন্ত্র সবার জীবনকে স্পর্শ করে। সবার জন্য রচনা করে এক বলিষ্ঠ জীবনবোধ। সমস্বার্থের মোহনায় সবাইকে করে সম্মিলিত। সমস্বার্থের সুষম বন্ধনে সবাইকে করে সংগ্রথিত। সূত্র : সমকাল

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র সাম্য, মৈত্রী ও সৌভ্রাতৃত্বের উপত্যকায় সবাইকে করে সংগঠিত। এই ব্যবস্থায় সংখ্যাগুরু যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যালঘুও। অন্যদিক থেকে গণতন্ত্র এক প্রক্রিয়াও বটে। এই প্রক্রিয়ায় ব্যক্তি স্বীকৃত হয় স্বতন্ত্র, অনন্য, এককরূপে। কারো ওপর নির্ভরশীল সে নয়, নয় কারো মুখাপেক্ষী। আপন মহিমায় সবাই ভাস্বর। তার সম্মতি ছাড়া তাকে শাসন করার কারো অধিকার নেই। তার সম্মতি ছাড়া তার ওপর কর ধার্য করার ক্ষমতা নেই কারো। তা ছাড়া যে কোনো নীতি নির্ধারণে এই প্রক্রিয়ায় সর্বাধিক সংখ্যক ব্যক্তির ইচ্ছা হয় প্রতিফলিত। সবার সম্মতি নিয়েই সমাজ ব্যবস্থা হয় পরিচালিত। সংখ্যাগুরু আর সংখ্যালঘু তাই একত্রে কাজ করে। আর এদিক থেকে বলা যায়, গণতন্ত্র এক ধরনের নৈতিকতা। পরিশীলিত এক কর্মপ্রবাহ। রুচিকর এক যৌথ উদ্যোগ। পরিচ্ছন্ন ও সচেতন এক পদক্ষেপ। গোপনীয়তার জমাট বাঁধা অন্ধকার ছাপিয়ে গণতান্ত্রিক কার্যক্রমের সূচনা হয় সর্বসাধারণের সমক্ষে, মুক্ত আলোয়। ষড়যন্ত্রের অন্ধকার গুহা থেকে বেরিয়ে আসে সামগ্রিক কর্মকা-। বেরিয়ে আসে প্রকাশ্য দিবালোকে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলতে হয় বলে সমমানসিকতা প্রতিফলিত হয় রাজনৈতিক কার্যক্রমে। অন্যের দিকে তাকিয়ে সবাই নির্ধারণ করে নিজেদের পদক্ষেপ। নিয়ন্ত্রণ করে নিজেদের আচার-আচরণ। আমার জন্য যা পীড়াদায়ক অন্যের কাছে তা সুখকর হতে পারে না। আমি যা খুশি করবো, তা তো হতে পারে না। এই সত্যের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি। এই সংস্কৃতির চর্চা ছাড়া গণতন্ত্রের চর্চা সম্ভব নয়। গণতন্ত্রের কৌশল রুচিসম্মত। তার চর্চা হয় অবাধ ও মুক্ত পরিবেশে। নীরবে নয়, তার স্বরে। নির্জনে নয়, জনারণ্যে। সুতরাং একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা হিসেবে গণতন্ত্র হলো উন্নত জীবনের প্রতিশ্রুতি। সুরুচির প্রতীক। স্বাচ্ছন্দ্য ও স্বাতন্ত্র্যের প্রতিচ্ছবি। সাম্য, মৈত্রী ও সৌভ্রাতৃত্বের নিশ্চিত নীড়। প্রক্রিয়া হিসেবে গণতন্ত্র হলো সহযোগিতার সূত্র। আস্থা ও বিশ্বাসের অন্তরঙ্গ সুর। সমঝোতার ক্ষেত্র। মুক্তবুদ্ধির বিস্তীর্ণ অঙ্গন। এদিক থেকে গণতন্ত্র যেমন উপায়, তেমনি উপেয়। সমাজ জীবনের যেমন লক্ষ্য, তেমনি মাধ্যমও। গন্তব্য ও পথ দুই-ই।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত