প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মার্কিনীরা ঠাণ্ডায় নাকাল, প্রেসিডেন্ট ব্যস্ত ঠাট্টা-মশকরায়

সালেহ্ বিপ্লব : সুতীব্র শীতে বিপর্যস্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনজীবন। এই সপ্তাহটি মার্কিনীদের জন্যে যেনো নরক-যন্ত্রণা বয়ে আনতে যাচ্ছে। দেশটির ইতিহাসে তাপমাত্রা এখন সবচেয়ে কম। বাঘা বাঘা আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এক জেনারেশনে একবারই দেখা যায় এতো তীব্র শীত। উত্তর মেরুর ঘূর্ণিবাতাস শীতে কাহিল করে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষকে, তুষার ঝড়ে প্রাণহানির ঘটনা এইতো কদিন আগের। দেশটির মধ্য পশ্চিমাঞ্চলে এই নাজুক হাল থাকবে আরো দুদিন, তাপমাত্রা কমতে থাকবে ক্রমেই। ফারেনহাইটে মাইনাস ৬৪ হবে, সেন্টিগ্রেডে ৫৩! এরই মধ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে উইসকনসিন, মিশিগান, ইলিনয়স, আর দক্ষিণের আলাবামা ও মিসিসিপিতে। বিবিসি।

আইওয়া অঙ্গরাজ্যের আবহাওয়া-কর্তারা রাজ্যের মানুষকে গভীর শ্বাস নিতে বারণ করেছেন। ঘরের বাইরে গেলে খুব কম কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (এনডব্লিউএস) বলেছে, এমন শীতে ১০ মিনিট খোলা জায়গায় থাকলে ফ্রস্টবাইটে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এনডব্লিউএস-এর আবহাওয়া-বিশেষজ্ঞ জন গেগন বলেছেন, এই রকম তীব্র শৈত্যপ্রবাহ এক জীবনে একবারই দেখা যায়।

পূর্বাভাস বলছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় আরো মারাত্মক হয়ে উঠবে পরিস্থিতি। তাপমাত্রা আরো নেমে যাবে, শিকাগো হয়ে উঠবে এন্টার্কটিকার চেয়েও শীতল! ইলিনয়স সিটিতে তাপমাত্রা মাইনাস ২৭ ডিগ্রি ফারেনহাইটে নামবে বলে আশংকা করা হচ্ছে। প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলবে এই উইন্টার স্টর্ম। কোথাও কোথাও দু’ফুট উচ্চতায় বরফ জমে গেছে, ইঞ্চি ইঞ্চি জমেছে প্রায় সব জায়গাতেই। আলাবামা ও জর্জিয়াতেও তুষারপাতের পদধ্বনি শুনছেন আবহাওয়াবিদরা।

তীব্র শীতের এই ধাক্কা শুধু সাধারণ মানুষকেই ভোগাচ্ছে, বিষয়টা এমন নয়। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই আবহাওয়া নিয়ে চিন্তিত। ‘মধ্যপশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা মাইনাস ৬০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে নেমে যাচ্ছে, সামনের ক’দিনে হাড়জমানো ঠা-া আরো বাড়বে’ টুইট বার্তায় উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। বলেছেন, ‘অবস্থাটা এমন দাঁড়িয়েছে যে, মানুষের পক্ষে কয়েক মিনিটও ঘরের বাইরে থাকা সম্ভব হচ্ছে না।’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের টুইট বার্তার এটুকু পড়ে মনে হতেই পারে তিনি দেশের মানুষের কষ্ট নিয়ে খুব চিন্তায় পড়ে গেছেন।

হাজার হোক বেশ ক’জন মানুষ ঠাণ্ডার কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন, এ নিয়ে দেশের প্রেসিডেন্ট টেনশনে পড়তেই পারেন। শুধু মানুষ নয়, জীবজন্তুও মারা পড়ছে উত্তর মেরুর ঘূর্ণিহাওয়ার কবলে পড়ে। কিন্তু ট্রাম্প বলে কথা! কথায় ফাঁস লাগানো কিংবা দুম করে বেফাঁস কথা বলে ফেলতে তার জুড়ি নেই। টুইট বার্তার শেষের অংশে তিনি জানতে চেয়েছেন, ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং কোথায় গেছে, কী করছে?’ বৈশ্বিক উষ্ণায়নের বিষ ছড়ানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের দায়ভার বেমালুম ভুলে যাওয়ার হাস্যকর প্রয়াস বটে! টুইট-বার্তা শেষ হয়েছে এভাবে, ‘( গ্লোবাল ওয়ার্মিং) তুমি তাড়াতাড়ি ফিরে এসো। তোমাকে খুব দরকার।’

জনজীবন জমে যাওয়ার উপক্রম, শতাব্দির এমন ভয়াবহ শীতেও আমেরিকার মানুষ হয়তো ট্রাম্পের এসব ‘বাত কি বাত’ মেনে নিতে পারতো তার স্বভাবসুলভ খামখেয়ালিপনা হিসেবে। কিন্তু গড়বড় লাগিয়ে দিয়েছে মার্কিন সরকারেরই একটি আবহাওয়া সংস্থা। দ্য ন্যাশনাল ওশেনিক এন্ড এটমোসফেরিক এডমিনিস্ট্রেশন টুইটারে এমন এক মন্তব্য পোস্ট করেছে, যাতে বোঝাই যাচ্ছে, প্রেসিডেন্টের লাগামহীন বকবকানিকে একটু খোঁচা দেয়াকে তারা হয়তো দায়িত্ব বলেই মনে করেছে। সংস্থাটি লিখেছে, ‘শীতের (তুষার) ঝড় মানে কিন্তু এটা নয় যে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে না।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত