প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মেডিক্যাল কলেজ এবং ‘ফোর স্টার’ জেনারেল চায় পুলিশ

বাংলা ট্রিবিউন :  বাণিজ্যিক ব্যাংক আদায়ের পর এবার মেডিক্যাল কলেজের দাবি পুলিশের। এছাড়া এক লাখ জনবল, পৃথক পুলিশ বিভাগ, একাধিক আইজিপি (মহাপরিচালক) পদ এবং চিফ অব পুলিশ পদ সৃষ্টি করে সেটিকে ‘ফোর স্টার’ জেনারেল পদমর্যাদায় উন্নীত করার দাবিও তাদের। এর পাশাপাশি বিভিন্ন দূতাবাসে একজন করে পুলিশ কর্মকর্তারও নিয়োগ চায় বাংলাদেশ পুলিশ। এবারের পুলিশ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এসব দাবি জানানো হবে।

পুলিশ সপ্তাহ শুরু হবে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি। এবারের পুলিশ সপ্তাহের স্নোগান ‘পুলিশ-জনতা ঐক্য গড়ি, মাদক-জঙ্গি নির্মূল করি’।

পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনকল্যাণে দিন দিন পুলিশের ভূমিকা বাড়ছে। এরই মধ্যে পুলিশের মহপরিদর্শক (আইজিপি) পদকে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় উন্নীত করা হয়েছে। আইজিপির গাড়িতে ‘থ্রি স্টার’ ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে পুলিশের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বাড়াতে আরও উদ্যোগ প্রয়োজন। বাড়াতে হবে জনবল। কারণ, পুলিশে নতুন অনেকগুলো ইউনিট গঠন করা হয়েছে। এবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে আরও এক লাখ জনবল চাওয়া হবে। বর্তমানে প্রায় দুই লাখ সদস্য কাজ করছে পুলিশে।
পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, এ সরকারের সময়ে পুলিশকে অনেক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে জনবল। এরপরও আরও এক লাখ জনবল বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে। তাছাড়া বিশাল পুলিশ বাহিনীর জন্য পুলিশ লাইনে ২৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল স্থাপনের দাবিও জানানো হবে। পুলিশ সদস্যদের সুচিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য প্রয়োজন একটি মেডিক্যাল কলেজেরও। এছাড়াও আবাসন সংকট দূর করা, থানাগুলোতে যানবাহন ও লোকবল বাড়ানোর দাবি জানানো হবে। এর পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোতে একজন করে পুলিশ কর্মকর্তার নিয়োগও চাওয়া হবে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াও দেশের ট্রাফিক ব্যবস্থা, শিল্পাঞ্চল, নদীপথ ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বাড়ানো ছাড়াও সমুদ্রসৈকত ও পর্যটন কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা দিচ্ছে পুলিশ। তাছাড়া নারীর ক্ষমতায়ন ও সমতায় কাজ করছে পুলিশ। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পুলিশের পদচারণা বাড়ছে। তাই নতুন নতুন ইউনিট গঠন, আধুনিকায়ন, উন্নতর প্রশিক্ষণ ও জনবল বাড়ানোর মাধ্যমে পুলিশ জনগণ ও সরকারের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

পুলিশ সদর দফতরের জনসংযোগ বিভাগের এআইজি মো. সোহেল রানা  জানান, পুলিশ সপ্তাহের সব প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাস, মাদক ও জঙ্গি দমন ছাড়াও পুলিশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছে।’

এর আগে ‘কমিউনিটি ব্যাংক’ নামে পুলিশের বাণিজ্যিক ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়াও ‘৯৯৯’ সার্ভিসসহ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, শহীদ পুলিশ মুক্তিযোদ্ধাদের স্বাধীনতা লাভ, পুলিশ মেমোরিয়াল ডে করা হয়েছে।

রাজশাহীতে পুলিশের একটি অনুষ্ঠানে আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, কর্মক্ষেত্রকে সেবার কেন্দ্রস্থলে পরিণত করতে হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে পুলিশ সাফল্য দেখিয়েছে।

এবারের পুলিশ সপ্তাহে বিডি পুলিশ হেল্পলাইন, জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ নম্বরের মাধ্যমে সেবাপ্রাপ্তি, আইজিপি কমপ্লেইন সেল, নারী ও শিশুবান্ধব পুলিশিং, কমিউনিটি পুলিশিং ইত্যাদি সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা হচ্ছে।

জনবান্ধব পুলিশি সেবা দেওয়ার জন্য ওপেন হাউজ ডে আয়োজন, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের সেবা সম্পর্কে প্রচারণা, অনলাইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সেবা, ইমিগ্রেশন পুলিশের আধুনিকায়ন এবং এর কার্যক্রমের ওপর প্রদর্শনী করা হচ্ছে। সিটিটিসি, সোয়াট, সিডিএমএস এবং মাদক নির্মূল ও জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ পুলিশের কার্যক্রম, ট্রাফিক পুলিশের ‘ই-প্রসিকিউশন’ সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করার কাজও চলছে। ট্রাফিক সচেতনতা বাড়ানোর কাজও চলছে এবারের পুলিশ সপ্তাহে। পুলিশকে সহায়তা করা এবং পুলিশের সেবা গ্রহণের জন্য নাগরিকদের অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত