প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ওএসডির নামে ঘরে বসিয়ে বেতন দেয়ার মানে কী শাস্তি?

কামরুল হাসান মামুন : ‘কর্মস্থলে না থাকলে, সেবা না দিলে চিকিৎসক-নার্সদের ওএসডি’Ñ প্রধানমন্ত্রী। ‘৪০ শতাংশ সরকারি চিকিৎসক থাকেন না কর্মস্থলে’Ñ দুদক। ‘গোপনে স্কুল পরিদর্শনে দুদক চেয়ারম্যান, কর্মস্থলে নেই ৮ শিক্ষকের মধ্যে ৭ জন’- দুদক চেয়ারম্যানের ক্ষোভ। ‘প্রাথমিকের শিক্ষকদের সন্তানরা কিন্ডারগার্টেনে পড়তে পারবে না’ -প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন।

যারা হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে লুট করে তাদের ক্ষেত্রে তো এ রকম মন্তব্য শুনি না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কারা চালায়? সেখানকার ভয়াবহ দুর্নীতির বিরুদ্ধে তো এ রকম মন্তব্য শুনি না। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কারা চালায়? সেখানকার ভয়াবহ দুর্নীতির বিরুদ্ধে তো এ রকম মন্তব্য শুনি না। ডাক্তার, শিক্ষক, নার্স দুর্নীতি করলেও কতোটুকু পারে? ওপরের শিরোনাম দেখলেই বোঝা যায় দুর্বলের ওপর কী রকম খড়গ চলে। শুধু কী ডাক্তাররা কর্মস্থলে থাকে না? শুধুই কী স্কুল শিক্ষকরা স্কুলে থাকেন না? শুধুই কী নার্সরা ঠিকমতো সেবা দেয় না? আমি তো দেখি কিছু দিলে এরাই এখনো দেয়।

ডাক্তাররা কর্মস্থলে থাকবেন কী ইউএনওদের মাতব্বরি সহ্য করতে? যারা সমাজের সবচেয়ে মেধাবী তারা ডাক্তারি পড়ে ডাক্তার হয়ে সেই সময়ের ব্যর্থরা গাইড বই পড়ে আমলা যারা হয় তাদের আন্ডারে থাকতে চাইবে কোন বলদে? প্রাথমিকের শিক্ষক কারা হয়? তাদের বেতন কতো? তারা কী সেই বেতনে জীবিকা নির্বাহ করতে সক্ষম? কতো টাকা ঘুষ দিয়ে তাদের চাকরি পেতে হয়েছে? যে বেতন প্রাথমিকের শিক্ষকরা পান তা দিয়ে কী তারা তাদের ছেলেমেয়েদের কিন্ডারগার্টেনে পড়াতে পারেন? খড়গটা কেন প্রাথমিক শিক্ষকদের ওপরই? তাহলে সরকারি আমলা-মন্ত্রীরা কেন তাদের ছেলেমেয়েদের কিন্ডারগার্টেনে পড়াবেন? তাদের ক্ষেত্রে কেন ওই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না? আর ওই ওএসডি ওএসডি থ্রেট আর কতোদিন? ওএসডি কী আসলে কোনো শাস্তি? শাস্তির নামে একজনকে বিনা কাজে বসিয়ে বসিয়ে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন দিয়ে চালানো কী ধরনের শাস্তি আমি আজও বুঝি না।

আমি তো দেখি ঢাকার বাইরের সরকারি অনেক কর্মকর্তা আছেন যারা সোমবারে কর্মস্থলে যান আর বুধবারে কর্মস্থল ত্যাগ করে ঢাকায় চলে আসেন। আমি তো দেখি সংসদে সংসদ সদস্যরা থাকেন না। দুর্বলদের শাস্তি দেয়া সহজ। কিন্তু এতে সমাধান হবে না। ওপরে ঠিক করেন আগে। কথাবার্তা, আদেশ-নিষেধ, নিয়ম-কানুন ইত্যাদি আরো সুচারুভাবে চিন্তা-ভাবনা করে করুন এবং বলুন। মিষ্টি খাওয়াটা আগে নিজে বন্ধ করুন, তারপর অন্যকে নিষেধ করুন। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত