প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইরানকে হারিয়ে এশিয়ান কাপের ফাইনালে জাপান

স্পোর্টস ডেস্ক: রক্ষণাত্মক কৌশল এবং বিতর্কিত এক পেনাল্টিতে ভর করে এশিয়ান কাপের ফাইনালে পৌঁছেছে জাপান। সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত সেমি-ফাইনালে তারা ৩-০ গোলে হারিয়েছে ফেভারিট ইরানকে। এর ফলে পঞ্চম বারের মত শিরোপা জয় থেকে আর মাত্র এক ম্যাচ দূরত্বে অবস্থান করছে বু-সামুরাইরা।
ম্যাচের প্রথমার্ধে কোনো গোল না আসলেও বিরতির পর বিতর্কিত গোল করে জাপানকে এগিয়ে দেন ইয়ুয়া ওসাকো। ইরানি খেলোয়াড়রা রেফারির একটি ভুল সিদ্ধান্তের আপত্তি জানানোর জন্য থেমে যাওয়ার সুযোগে এই গোলটি হয়। এরপর মোর্তেজা পওরালিগাঞ্জির বিপক্ষে ফের আরও একটি পেনাল্টির নির্দেশ দেন কর্তব্যরত রেফারি। টেলিভিশিন রিপ্লেতেও দেখা যায় দুর্ঘটনাবশত তার হাতে বল লেগেছিল।

ম্যাচের শেষ মিনিটে জেনকি হারাগুচির গোল বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে চারবারের চ্যাম্পিয়নদের। এটি ছিল দীর্ঘ সময় ধরে ইরানি দলকে গড়ে তোলার কারিগর প্রধান কোচ কার্লোস কুইরোজের শেষ সুযোগ। প্রায় আট বছর ধরে ইরান জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছিলেন তিনি। এই সময় দলকে দুইবার পৌঁছে দিয়েছেন বিশ্বকাপ ফুটবলের চুড়ান্ত আসরে।
খেলা শেষে কুইরোজ বলেন, ‘এটি ছিল ‘নির্দোষ ভুল’ যার সুবাদে প্রথম গোলটি হয়েছে। খেলোয়াড়রা রেফারিকে ঘিরে ধরে আপত্তি জানানোর মুহূর্তে ওই গোলটি করেছে জাপানীরা। যার মাধ্যমে তাদেরকে আবেগতাড়িত করে ধ্বংস করা হয়েছে।

বক্সের কাছেই তাকুমি মিনামিনুর বিপজ্জনক চ্যালেঞ্জের প্রতিবাদে খেলোয়াড়রা খেলা থামিয়ে দেয়ার কারণ হচ্ছে তারা ভেবেছিল রেফারি ওই ঘটনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। ওই পরিস্থিতিতে আমার দলকে আবেগতাড়িত করে থামিয়ে দেয়ার পর প্রতিপক্ষ দলটি সক্রিয় হয়ে উঠে।’

এই ঘটনার ১১ মিনিট পর মিনামিনুর ক্রসের বলে দুর্ঘটনাবশত পওরালিগাঞ্জির বাহুর স্পর্শ লাগলে তাৎক্ষণিকভাবেই পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়া রেফারি ক্রিস বেথ। পেনাল্টি থেকে গোল করে জাপানকে দ্বিগুন ব্যবধানে পৌছে দেন ওসাকো। এ সময় খেলার আর মেয়াদ ছিল মাত্র ২৩ মিনিট। ওই সময়ে শিরোপার জন্য ৪৩ বছর ধরে অপেক্ষমান ইরানীদের আর কোন গোলের সুযোগ আসেনি।

খেলা শেষে জাপানের কোচ হাজিমে মরিয়াসু বলেন, ‘আমার দল আন্ডার ডগ হিসেবে ম্যাচে অংশ নিলেও তাদের প্রস্তুতি ছিল বেশ ভাল। ম্যাচে তারা দারুন লড়াকু মেজাজের প্রতিফলন ঘটিয়েছে। এমন একটি অনুপ্রেরনা ও লড়াইয়ের মাধ্যমে ছেলেদের এই বিজয়ে আমি খুশি। এই জয় নিজদেশে অবস্থান করা সমর্থকদের উৎসর্গ করা হয়েছে।’

এই জয়ের ফলে জাপান আগামী শুক্রবার টুর্নামেন্টের ফাইনালে কাতার কিংবা সংযুক্ত আরব আমিরাতের মোকাবেলা করবে। দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে পরস্পরের মোকাবেলা করবে দল দুটি।

সোমবার হাজ্জা বিন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠত ম্যাচে এশিয়া জয়ের লক্ষ্য নিয়েই নিস্প্রভ জাপানিদের মোকাবেলায় নেমেছিল কুইরোজের ইরান। তবে শেষ পর্যন্ত বু­সামুরাইরাই তাদের ওই সুযোগটি কেড়ে নিয়েছে।

ম্যাচের ৫৬ মিনিটে গোল করে জাপানকে এগিয়ে দেন ওসাকা (১-০)। ১১ মিনিট পর পেনাল্টি থেকে দ্বিতীয় গোল করে দলকে দ্বিগুন ব্যবধানে পৌছে দেন তিনি (২-০)। ম্যাচের ৯০ মিনিটে হতাশা নেমে আসা ইরানী জালে শেষবারের মত বল পাঠিয়ে জাপানকে ৩-০ গোলে জয়ী করেন হারাগুচি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত