প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দেশের অর্থনীতিতে সম্ভাবনার হাতছানি বিকল্প খামার

মঈন মোশাররফ : বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে যাচ্ছে বিকল্প খামার। উট, উট পাখি, টার্কি, সাপ, ব্যাঙ্গ, কুচিয়া,কাঁকড়া , কুমিরের মতো প্রাণীর খামার গড়ে উঠছে বাণিজ্যিকভাবে। সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে রপ্তানির। এ সব বিকল্প খামারের তালিকা এখনো কৃষি সম্প্রসারণ বা মৎস ও প্রাণিম্পদ অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত হয়নি ঠিকই, কিন্তু ব্যক্তি উদ্যোগে চলছে কাজ । তবে কুচিয়, কাঁকড়া, কাছিম চাষ মৎস অধিদপ্তর স্বীকৃত এবং রাষ্ট্রীয়ভাবেই রপ্তানি প্রকল্প রয়েছে। মৎস ও প্রণিম্পদ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী দেশের ছয়টি জোনে পূর্ণাঙ্গভাবে কুচিয়া ও কাঁকড়া চাষ হচ্ছে। বরিশাল, নোয়াখালী, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, নেত্রকোণা, শেরপুর, ময়মনসিংহ জেলায় মৎস অনেক খামারি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কুচিয়া ও কাঁকড়া চাষ করছেন। সূত্র : ডয়চে ভেলে।

উটের খামার হয়েছে দেশের ৪-৫টি স্থানে। দেশের সর্বপ্রথম উটের খামার হয় রাজধানী ঢাকার কমলাপুরে । ২০০৪ সালে কমলাপুরে দেওয়ানবাগ দরবার শরীফের ১০ বিঘা জায়গায় এই খামার গড়ে ওঠে । গত ১৫ বছরে বাণিজ্যিকভাবে লাভের মুখ দেখেছে খামারটি । এছাড়া মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় জাকের হোসেন ও খুলনার আবদুল জব্বারের উটের খামার উল্লেখযোগ্য। ইতোমধ্যে বাণিজ্যিক সফলতার মুখ দেখছেন জাকের।

সমাজ, রাষ্ট্র, মানবজাতি টিকেই আছে শ্রমের ওপর। কিন্তু এখনো সেই অতীত কালের ধ্যান-ধারণা নিয়ে ‘ছোট কাজ’ ‘বড় কাজের’ গ্যঁড়াকলে আমরা বন্দি । দ্রত এ হীন মানসিকতা দূর করতে না পারলে দেশ এগোলেও, এগোবে না দেশের মানুষ।

অন্যদিকে দিনাজপুরে উটপাখি লালন করে রীতিমতো তারকা বনে গেছেন নারী কৃষি উদ্যোক্তা আনজুমান আরা। যেহেতু বাংলাদেশের আবহাওয়া উটপাখির খামার করার উপযোগী, সে চিন্তা থেকে বাণিজ্যিকভাবে খামার করার পরিকল্পনা করেন তিনি। আফ্রিকা থেকে ২৪টি উটপাখির বাচ্চা এনে খামার দেন । ৬ মাসে তাঁর প্রতিটি উটপাখির ওজন ৮০ থেকে ৯০ কেজি হয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে রপ্তানির পরিকল্পনা করছেন তিনি । দেশের দ্বিতীয় উট পাখির খামার রয়েছে খুলনায়। সজিব আহমেদ ব্যক্তি উদ্যোগে বাণিজ্যিকভাবে তাঁর সমন্বিত খামারে উট পাখি, গাড়ল (এক প্রজাতির ভেড়া), টার্কি ও ছাগল পালন করছেন।

এদিকে গত তিন বছর টার্কি চাষে রীতিমতো বিপ্লব এসেছে বাংলাদেশে। দেশে শতাধিক খামারে টার্কি চাষ হচ্ছে। টার্কি চাষের পর বাজারজাতকরণের জন্য গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি সংগঠন। এর মধ্যে ‘টার্কি মিট বিডি’ অন্যতম। টার্কি চাষে প্রশিক্ষণও দিয়ে আসছে । মুরগির বিকল্প হিসেবে টার্কির চাষ বেশ লাভজনক বলেই মনে করছেন চাষীরা। প্রতি কেজি টার্কি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে । ফলে একটি ১০ কেজি ওজনের টার্কির দাম ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা। অচিরেই টার্কি রপ্তানিকারক হিসেবে উল্লেখযোগ্য দেশগুলোর তালিকায় নাম লেখানোর স্বপ্ন দেখছেন খামারিরা ।

অন্যদিকে কোনো ধরনের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া একেবারে ব্যক্তি উদ্যোগে দেশে সাপের চাষ হচ্ছে । তবে সাপের বাজারজাতকরণ, রপ্তানির কোনো সুযোগ না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে খামারিরা সাপের চাষ করলেও লাভের মুখ দেখছেন না কেউ । বাংলাদেশে সাপচাষীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাড়া জাগিয়েছেন পটুয়াখলির আবদুর রাজ্জাক, রাজবাড়ীর রবিউল ইসলাম রঞ্জু, গাজীপুরের কাপাশিয়ার বরন গ্রামের যুবক প্রদীপ চন্দ্র দাস, রাজশাহীর বোরহান বিশ্বাস । এর মধ্যে প্রদীপ চন্দ্র সাপের খামারিদের সংঘও গড়ে তুলেছেন । তবে রাষ্ট্রীয়ভাবে সাপ বা বিষ রপ্তানির কোনো সুযোগ নেই। ২০০৮ সালে সাপ চাষ ও বিষ রপ্তানি নিয়ে একটি গেজেট ও ২০১৪ সালে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হলেও বিষয়টির কোনো সুরাহা হয়নি । অনেক চাষী সাপের পাশাপাশি কেঁচো বা কচ্ছপ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

অন্যান্য বিকল্প প্রণী চাষে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপুষকতা না থাকলেও বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে কাছিম চাষ হচ্ছে এই উদ্যোগে ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও মিলেছে প্রকল্প মালিকদের । বিরল প্রজাতির কচ্ছপ সংরক্ষণের জন্য।

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ছাড়াও বন বিভাগের বর্ধিত আরেকটি প্রজেক্ট রয়েছে সুন্দরবনের করমজলে। এছাড়া ব্যক্তি উদ্যোগে অ্যাকুরিয়ামে বিক্রির উদ্দেশ্যে বেশ কয়েকটি স্থানে কাছিম চাষ হচ্ছে ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত