প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বরগুনার একটি সরকারি স্কুলের সিলেবাস করা হয়েছে গাইডবই প্রকাশনীর বই দিয়ে

সাজিয়া আক্তার : বোর্ড নির্ধারিত সিলেবাসের বাইরে গাইডবই, প্রকাশক কোম্পানির সুপারিশ করা বই দিয়ে পাঠদানের অভিযোগ উঠেছে বরগুনার বামনা উপজেলার সরকারি একটি বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে। শুধু পাঠদান নয়, এই কোম্পানির গাইডবই কিনতেও বাধ্য করা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি বোর্ড থেকে সিলেবাস পেতে দেরি হওয়ায় এমনটা করছেন তারা। সূত্র : সময় টেলিভিশন

বরগুনার বামনা উপজেলার সরকারি সারওয়ারজান পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এখানে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত একটি স্টেশনারির দোকান থেকে সিলেবাস সংগ্রহের জন্য বলেছেন শিক্ষকরা। দোকান থেকে সংগ্রহ করা সিলেবাসটি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত বই অনুসারে করা হয়নি। করা হয়েছে কাজল ব্রাদার্স লিমিটেডের অনুপম গাইডবই অনুসারে। সিলেবাসগুলোর নিচে সহায়ক বই হিসেবে অনুপমের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তাই সরকারিভাবে বিনামূল্যে বই পেলেও আলাদা সিলেবাসের কারণে অভিভাবকরা বাধ্য হয়েছেন শিক্ষার্থীদের অনুপমের গাইড কিনে দিতে।

অভিভাবকরা জানালেন, আমরা অনুপম গাইডে বিশ্বাসি না। আমরা সরকারের স্বীকৃত বই অনুসারে সন্তানদের পড়াতে চাই। কিন্তু স্কুলের শিক্ষকরা আমাদের অনুপম গাইড কিনে দিতে বাধ্য করছেন। তারা অনুপম গাইড এবং তাদের প্রকাশিত সিলেবাস অনুযায়ী পড়াচ্ছেন।

কিন্তু বিদ্যালয়টির সহকারি শিক্ষকরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে সরকারি সারওয়ারজান পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ এস এম হারুন-অর রশিদ বলেন, সরকারি সিলেবাস পেতে কয়েকদিন দেরি হয়েছে, তাই আমরা একটি নমুনা সিলেবাস হিসেবে এটি অনুসরন করেছি।

বোর্ড নির্ধারিত প্রতিটি বিষয়ে, প্রতিটি পরীক্ষায় যতটুকু পাঠ্যবই পড়ানো জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তার অর্ধেকটা করা হয়েছে এই কোম্পানির সিলেবাসে। শিক্ষার্থীরা এটি অনুসরণ করলে বইয়ের অনেক কিছু পড়া থেকে বাদ পড়বে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

বরগুনার সচেতন নাগরিক কমিটির সহসভাপতি মনির হোসেন কামাল বলেছেন, এখানে এক ধরনের শিক্ষাবাণিজ্য চলছে। এই বাণিজ্য বন্ধ করার উচিত।

বরগুনার জেলা প্রশাসক কবির মাহমুদ বলেছেন, শতভাগ শিক্ষার্থী বইয়ের আওতায় আনা হয়েছে। এই বইগুলোর বাইরে স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না।

প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন ২০১৭ শিক্ষাবোর্ড নির্ধারিত পাঠ্যসূচি অনুযায়ী পাঠদান না করলে সেটা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। আর সে জন্য অনধিক ২ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা উভয়দণ্ডে দন্ডিত হতে পারেন।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত