প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফুটবল উন্নয়নে ১৬০০ ইউরো ব্যয়ে সাইফের নতুর প্রযুক্তি

আশরাফ রাসেল : বিশ্ব ফুটবলে প্রযুক্তি উৎকর্ষতার যুগে পিছিয়ে থকতে চায় না বাংলাদেশের ক্লাবগুলো। জিপিএস-ভিডিও অ্যানালিস্ট সফটওয়্যারের মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়ে গেছে দেশের ফুটবলে। এরই ধারাবাহিকতায় আরও একটি প্রযুক্তির সংযোজন করলো দেশের অন্যতম শীর্ষ একটি ক্লাব।

নতুন সেই প্রযুক্ত হলো ভিইও (VEO Camera) ক্যামেরা। ম্যাচ বিশ্লেষণে কার্যকরী হিসেবে ব্যবহৃত এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে দেশের ফুটবলারদের উন্নতির দিকটি মাথায় রেখে প্রযুক্তিটি নিয়ে এসেছে ক্লাবটি। ক্লাব সূত্রে জানা যায়, ফুটবলারদের দীর্ঘমেয়াদী উন্নতি মাথায় রেখে সাইফ কোচ জোনাথন ম্যাকেন্সট্রির পরামর্শে ডেনমার্ক থেকে ১৬০০ ইউরো ব্যয়ে এই ক্যামেরা সেট দেশে এনেছে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব।

এমন একটি ক্যামেরা আনার কথা আগেই বলেছিলেন ক্লাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসির উদ্দিন চৌধুরী। এই ক্যামেরা ব্যবহারের উপযোগিতা উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এই ক্যামেরা নিজে নিজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কোনো ক্যামেরাম্যানের প্রয়োজন নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে ফুটবলারদের দক্ষতা বিশ্লেষণে এটি কাজ করে থাকে। পুরো মাঠে খেলোয়াড়রা কেমন আচরণ করছে সেটা এই ক্যামেরার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা যাবে। এতে দলের দুর্বলতার কারণ আর কি করতে হবে ভিডিও অ্যানালিস্টের মাধ্যমে বের করা যাবে।’

জিপিএস, ভিডিও অ্যানালিস্টের পর নতুন আরেক প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। যা দেশের ফুটবলে একেবারে নতুন। গত মৌসুমে ঘরোয়া ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে অভিষিক্ত ক্লাবটি দেশের ফুটবল উন্নয়নে ভিডিও অ্যানালিস্ট সফটওয়্যার ব্যবহারে এই ক্যামেরা ব্যবহার করতে পারবে। সফটওয়্যারটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে একটি দলের বিশ্লেষণ, খেলার ধরনের তুলনামূলক অবস্থা এবং খেলা পরিবর্তনের সেট-প্লে বিশ্লেষণ করে থাকে। এ প্রযুক্তি বলে দিতে পারবে কিভাবে বিপক্ষ দল আচরণ করছে এবং করবে ও খেলবে।

দ্য ভিডিও অ্যানালিস্ট সফটওয়্যার নিয়ে কাজ করছেন সাইফের সহকারী কোচ আলেক্স ম্যাককার্থি। ইতোমধ্যে দলের খেলার উন্নয়নে এই প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করে দিয়েছে সাইফ। এই প্রযুক্তি কিভাবে কাজ করেআ্থ এমন প্রশ্নে আলেক্স ম্যাককার্থি গণমাধ্যমকে জানান, ‘খেলার ভিডিওকে বিভিন্নভাবে ভাগ করে দেখায় এ প্রযুক্তি। কোথায় সমস্যা, কোথায় ুর্বলতা দেখিয়ে দেয় এই প্রযুক্তি। কোন খেলোয়াড় কোথায় অবস্থান নেবে, তার কি দায়িত্ব তারও সুপারিশ করবে এই প্রযুক্তি। ফুটবলকে আরও সহজ করবে এই প্রযুক্তি।’

ফুটবলারদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনারই অংশ হিসেবে এই প্রযুক্তি আনা হয়েছে বলে জানান ক্লাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসির উদ্দিন চৌধুরী, ‘গত মৌসুমের পর থেকেই এ বছর কোচিং স্টাফ, ব্যাকগ্রাউন্ড ইকুয়েপমেন্সের জন্য ম্যাক্সিমাম বরাদ্দের উপর জোর দিয়েছি। খেলোয়াড়রা যাতে ঠিকপথে থাকে, আন্তর্জাতিকমানের হয় সেজন্য চেষ্টা করছি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এ বছর প্লেয়ারদের চেয়ে দশগুণ বেশি খরচ করেছি এসব সরঞ্জমাদি ও কোচিং স্টাফ নিয়োগ দিতে।’

গত বছর দেশের পেশাদার লিগে নাম লেখানো সাইফ দেশের তারকা ফুটবলারদের নিয়েই গেল মৌসুমে বড় বাজেটের দল সাজিয়েছিল। প্রথমবারেই এএফসি কাপ খেলেছে তারা। পরের মৌসুমে এবার অনেকটা রহমত-জাফরদের মতো তরুণ তুর্কীদের নিয়ে দল গঠন করেছে সাইফ। তারকা ফুটবলার বলতে জামাল ভুঁইয়া আছেন।

তারকাসমৃদ্ধ দল না গড়ে দেশের তরুণ ফুটবলারদের আন্তর্জাতিক মানের হিসেবে তৈরি করতেই এই প্রযুক্তি এনেছেন বলে জানালেন নাসির উদ্দিন চৌধুরী, ‘ট্রেনিং ফ্যাসিলিটিসগুলো নিশ্চিত করতে চাই ফুটবলারদের। ম্যাচ বিশ্লেষণের জন্য ভালো সফটওয়্যার ব্যবহার করছি। সামনে আধুনিক আরও প্রযুক্তি নিয়ে আসব ধীরে ধীরে পরিকল্পনা মোতাবেক। ক্যামেরা এনেছি। সেটা দিয়ে পুরো মাঠের খেলোয়াড়দের অবস্থান বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে এই সফটওয়্যার ব্যবহার করে অনেক ভিডিও খেলোয়াড়দের দেয়া হয়েছে। তাদেরও অ্যাডপ্টেশনের ব্যাপার আছে।’

এভাবেই প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে ফুটবল উন্নয়নে কাজ করে চলছে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। তাদের পথ ধরে দেশের বাকি ক্লাবগুলোও প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা বোধ করে এগিয়ে আসবে এমনটাই কামনা দেশের ফুটবল সমর্থকদের।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত