প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইউএনও’র নির্দেশে নেই কোনো ভ্রুক্ষেপ, গ্রামীণ সড়কগুলো ডাঁটা চাষীদের দখলে

জামাল হোসেন খোকন : চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার গ্রামীণ জনপদের সড়কগুলো শাকের ডাঁটা চাষীদের দখলে চলে যাওয়ায় জনদূর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। এসব সড়কের ওপর শাকের ডাঁটা বিঁছিয়ে শুকানোর কারণে প্রায় দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে।

এ অবস্থা উত্তরণের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরজমিনে নিজে রাস্তা থেকে শাকের ডাঁটা অপসারণ করেন এবং কৃষকদের নির্দেশ দেন রাস্তার ওপর শাকের ডাঁটা বিঁছিয়ে জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করা হলে সংশ্লিষ্ট চাষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কিন্তু তার সে নির্দেশ উপেক্ষা করে কৃষকেরা রাস্তায় শাকের ডাঁটা শুকানোর কাজ অব্যাহত রেখেছেন।

তবে ভুক্তভোগীদের দাবি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ ব্যাপারে শক্ত ভূমিকা গ্রহণ না করলে, এসব সড়কে বড় ধরণের দুর্ঘটনা আশঙ্কা রয়েছে। জীবননগর উপজেলা একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নে বসবাসকারীদের ৮৫ ভাগ মানুষ কৃষির সাথে জড়িত।

এসব জনপদের কৃষকেরা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে বেশি মুনাফা আয়ের লক্ষ্য নিয়ে তাদের জমিতে শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন সময়ে বিভিন্ন প্রকার সবজির আবাদ করে থাকেন। শাকের ডাঁটা থেকে বীজ বের করতে আধুনিক প্রযুক্তির মেশিন বের হলেও চাষীরা তা ব্যবহার না করে রাস্তার ওপর বিঁছিয়ে দিয়ে শুকানো-মাড়াইয়ের কাজ করছেন।

এসব জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তার উপর কাঁচা শাকের ডাঁটা শুকানোর কারণে তার উপর দিয়ে চলাচলকারী মোটর সাইকেল আরোহীরা পিঁছলে পড়ে প্রায়ই আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে থাকে।

সরজমিনে উপজেলা বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে,বাঁকা ব্রিক ফিল্ড থেকে আন্দুলবাড়ীয়া,খয়েরহুদা-থেকে কাশিপুর,পিয়ারাতলা থেকে কাশিপুর মাঠপাড়া ছাড়া রায়পুর,বালিহুদা,নতুন চাকলা,পুরাতন চাকলা, মারুফদহ, নিধিকুন্ডু, বাজদিয়া, পাকা,শ্রীরামপুর, হাসাদহ, কাটাপোল, মারফদহ, পুরন্দরপুর, মোক্তারপুর, কুলতলা, মিনাজপুর, করিমপুর, বকুন্ডিয়া এলাকার রাস্তাগুলোতে দীর্ঘ লাইনে কাঁচা শাকের ডাঁটা ফেলে শুকানো ও মাড়াইয়ের কাজ চলছে। এসব রাস্তা দিয়ে চলাচলকারীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

এসব রাস্তায় লম্বা লাইনে বিছানো হয়েছে শাকের ডাঁটা। হাসাদহ-করিমপুরগামী রাস্তা দিয়ে গত রোজার মাসে যাওয়ার সময় রাস্তার উপর নেড়ে দেয়া শাকের ডাঁটায় পিঁছলে পড়ে খোকন নামের এক মোটর সাইকেল যাত্রী মারা যান। এমন দূর্ঘনার পরও রাস্তার ওপর শাকের ডাঁটা শুকানোর কাজটি ঠেকানো যায়নি।

এদিকে সম্প্রতি জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাস্তার ওপর শাকের ডাঁটা শুকানোর ফলে নিজে উপস্থিত থেকে রাস্তা হতে শাকের ডাঁটা অপসারণ করেন। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা যায়।

এ ব্যাপারে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিরাজুল ইসলাম বলেন, রাস্তার ওপরে শাকের ডাঁটা শুকানোর ঘটনা বিপদজনক। আমি রাস্তায় যাতে কোন কৃষক শাকের ডাঁটা রেখে রাস্তায় চলাচলকারীদের বাধা সৃষ্টি করতে না পারে সে জন্য সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে করণীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত