প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিএনপি অবৈধ বললেই কী সরকার সংকটে পড়ছে ?

বিভুরঞ্জন সরকার : বিএনপি বর্তমান সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে যাবে না বলে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। তারা উপনির্বাচন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচন, উপজেলা নির্বাচন-এর কোনোটাতেই অংশ নেবে না। দলের কেউ যাতে স্বতন্ত্র প্রার্থী না হন -সে চেষ্টাও নাকি বিএনপি করবে। এটা করলে বিএনপির কী লাভ হবে? বিএনপি অংশ না নিলে কী সরকারের অবস্থান নড়বড়ে হয়ে যাবে? বিএনপির সিদ্ধান্ত কী কোনোভাবে রাজনীতিকে প্রভাবিত করতে পারবে? নির্বাচন কী স্থগিত হয়ে যাবে? নাকি সব ধরনের নির্বাচন থেকে দূরে গিয়ে বিএনপির জনবিচ্ছিন্নতা আরো বাড়বে? নিজের ভালো নাকি পাগলেও বোঝে! বিএনপি কি তাদের ভালো-মন্দ বোঝার ক্ষমতাও হারিয়েছে?

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের অনিয়ম নিয়ে যতো প্রচার-প্রচারণাই বিএনপি এখন করুক-না কেন তাতে সরকারের আসন টলবে না। ট্রেন স্টেশন ছেড়ে গেলে প্লাটফরমে দাঁড়িয়ে টিকেট হাতে যাত্রী হইচই করলেও কোনো লাভ হয় না। দেশের বাইরে সরকারের গ্রহণযোগ্যতার কোনো সংকট নেই। কোনো দেশই শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে অনীহা প্রকাশ করেনি। কেউ বলেনি যে, বিএনপির সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তি না করলে বা তাদের দাবি না মানলে তারা শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গে নেই। আবার দেশের জনগণও বিএনপির অভিযোগের সঙ্গে একমত হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে নামেনি, নামছে না। তাহলে বিএনপি কিসের জোরে সরকারের বিরুদ্ধে কথার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে? বিএনপি অবৈধ বা অনির্বাচিত বললেই যে সরকারের বৈধতা সংকটের মুখে পড়ে না- সেটা সরকারের আগের মেয়াদেও প্রমাণ হয়েছে। বর্তমান দুনিয়ায় রাজনীতির নীতি-নৈতিকতা স্বার্থনিরপেক্ষ নয়।

বিএনপি ভুল কৌশলে, ভুল পথে হাঁটছে। প্রধানমন্ত্রীর চায়ের নিমন্ত্রণ রক্ষা না করা রাজনৈতিক শিষ্টাচার পরিপন্থি। এটা বিএনপির রাজনৈতিক পরিপক্কতার পরিচয় বহন করবে না। সব কিছুতে ‘না’ বলে রাজনীতিতে আর সুফল পাওয়া যাবে না। বিএনপি যদি রাজনীতিতে টিকে থাকতে চায় তাহলে তার কৌশল বদলাতে হবে, রাজনৈতিক মিত্রের তালিকায়ও পরিবর্তন আনতে হবে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে শত্রুর মতো আচরণ করা চলবে না। আওয়ামী লীগের সঙ্গে লড়তে হলে আওয়ামী লীগের মতো করেই প্রস্তুতি নিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে ধোঁয়াশা রেখে আওয়ামী লীগকে কাবু করা যাবে না। বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকার করে রাজনীতিতে জায়গা পাওয়া বাংলাদেশে সহজ হবে না। জামায়াত নিয়ে কৌশলের খেলা খেললে দুর্গতি বাড়বে। মনে রাখতে হবে কিছু মানুষকে কিছু সময়ের জন্য বিভ্রান্ত করা যায়, সব মানুষকে সব সময়ের জন্য বোকা বানানো যায় না। সরকার কেন জামায়াত নিষিদ্ধ করে না-এই প্রশ্ন তুলে জামায়াতকে পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত রাখা বিএনপির জন্য আত্মঘাতী হচ্ছে। সরকার বা আওয়ামী লীগ কী করে বা করবে সেটা দেখে বিএনপি নীতি-কৌশল ঠিক করলে বিএনপি আওয়ামী লীগের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারবে না, পেছনেই হাঁটতে হবে। নির্বাচনেও না, আন্দোলনেও না, আলোচনায়ও না, চা চক্রেও না-তাহলে বিএনপির হ্যাঁ কিসে সেটা স্পষ্ট করতে না পারলে বিএনপির রাজনীতির আকাশ থেকে ‘এ আঁধার যাবে না মুছে’।

লেখক : গ্রুপ যুগ্ম সম্পাদক, আমাদের নতুন সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত