প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হাকালুকিতে দুই বছরে পাখির সংখ্যা কমেছে

কালের কন্ঠ : এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকি হাওরে এ বছর ৫১ প্রজাতির ৩৭ হাজার ৯৩১টি জলচর পাখির সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে এর আগে ৩৩ প্রজাতির যে ৩৭০টি পাখিকে বার্ড রিংগিং করা (পাখির পায়ে রিং লাগানো) হয়েছিল এবার তার একটিরও সন্ধান পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের দুই দিনের ‘জলচর পাখিশুমারি’ শেষে ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও দেশের খ্যাতিমান পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক কালের কণ্ঠকে এ তথ্য জানান।

বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ইনাম আল হক ও পল থম্পসনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের সাত সদস্যের একটি দল হাকালুকি হাওরে পাখিশুমারিতে অংশ নেয়। শুমারিতে অন্যদের মধ্যে অংশগ্রহণ করেন বার্ড ক্লাবের মোহাম্মদ ফয়সাল, ওমর শাহাদাত, সাকিব আহমেদ, বশীর আহমেদ ও তারেক অণু।

ইনাম আল হক জানান, ২৬-২৭ জানুয়ারি সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দুটি ভাগ হয়ে হাকালুকি হাওরের ৪০টি বিলে জলচর পাখিশুমারি করা হয়। এতে সর্বমোট ৫১ প্রজাতির ৩৭ হাজার ৯৩১টি জলচর পাখির সন্ধান পাওয়া গেছে। পাখির সংখ্যা ২০১৮ ও ২০১৭ সালের চেয়ে কম (যথাক্রমে ৪৫ হাজার ১০০ ও ৫৮ হাজার ২৮১); কিন্তু তার আগের তিনি বছরের চেয়ে বেশি।

শুমারিতে হুমকির মুখে আছে এমন ছয় প্রজাতির পাখি পাওয়া গেছে। সেগুলো হলো মহাবিপন্ন বেয়ারের ভুতিহাঁস; সংকটাপন্ন পাতি-ভুতিহাঁস ও বড় গুটি ইগল; এবং প্রায়-সংকটাপন্ন মরচেরং-ভুতিহাঁস, ফুলুরি-হাঁস ও কালামাথা-কাস্তেচরা।

পাখিসমৃদ্ধ বিলের মধ্যে নাগুয়া ধলিয়া বিল প্রথম (আট হাজার ৬৭৬টি পাখি) এবং চাতলা বিল দ্বিতীয় (পাঁচ হাজার ৩২৭টি পাখি)। জলচর পাখির মধ্যে মাত্র ৪০৫টি সৈকত পাখি ছিল। পরোতি, বালিজুড়ি, নাগুয়াধলিয়া বিলে বিষটোপ দিয়ে মারা পাখি পাওয়া গেছে।

হাকালুকি হাওরের হাওয়াবন্যা, কালাপানি, রঞ্চি, দুধাই, গড়কুড়ি, চোকিয়া, উজান-তরুল, ফুট, হিংগাউজুড়ি, নাগাঁও, লরিবাঈ, তল্লার বিল, কাংলি, কুড়ি, চেনাউড়া, পিংলা, পরোটি, আগদের বিল, চেতলা, নামা-তরুল, নাগাও-ধুলিয়া, মাইছলা-ডাক, চন্দর, মালাম, ফুয়ালা, পলোভাঙা, হাওর খাল, কইর-কণা, মোয়াইজুড়ি, জল্লা, কুকুরডুবি, বালিজুড়ি, বালিকুড়ি, মাইছলা, গড়শিকোণা, চোলা, পদ্মা, কাটুয়া, তেকোণা, মেদা, বায়া, গজুয়া, হারামডিঙা, গোয়ালজুড়—এই ৪০টি বিলে পাখিশুমারি চলে।

ইনাম আল হক কালের কণ্ঠকে জানান, বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব ও আইইউসিএন বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে হাকালুকি হাওরে দুই দিনব্যাপী পাখিশুমারি অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে ২০১৮ সালের ৩ ও ৪ ফেব্রুয়ারি পাখিশুমারি শেষে পাখি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলেন, ৪৪ প্রজাতির ৪৫ হাজার ১০০ পাখির মধ্যে হাকালুকি হাওরের হাওরখাল বিলে ১৫ হাজার ৭৩৫টি পাখি গণনা করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রজাতির পাখির মধ্যে সংখ্যার দিক থেকে পিয়ং হাঁস (গ্যাডওয়াল) পাঁচ হাজার ৬৭৫টি। ২০১৮ সালে বিলুপ্ত প্রজাতির যেমন বেয়ারের ভুতিহাঁস, মরচে রঙের ভুতিহাঁস, দাগি রাজহাঁসের মতো কোনো পাখির দেখা মেলেনি দেশের সর্ববৃহৎ এই পাখির সমাগমস্থলে।

হাকালুকি হাওরটি কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় অরক্ষিত হাওরে বিষটোপ আর ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করায় দিন দিন অতিথি পাখির সমাগম কমছে। মৎস্য অভয়াশ্রম থাকলেও সেই অভয়াশ্রমগুলোতে শিকারিরা হানা দেয়। হাওরের ইকো সিস্টেম রক্ষায় অবিলম্বে হাওরকে উন্নয়ন প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি হাওরতীরের মানুষের।

২০১৫ সালের ১৮ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি হাকালুকি হাওরে ৩৩ প্রজাতির ৩৭০টি পাখির পায়ে যে রিং লাগানো হয়েছিল কিংবা ২০১০ সালের মার্চ মাসে যে ১৬টি পাখির গায়ে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার এবং ৩৪টি পাখির পায়ে রিং লাগানো হয় সেসব পাখির সন্ধান এবার পেয়েছেন কি না, এ প্রশ্নের জবাবে বার্ড ক্লাবের সদস্য বশীর আহমেদ গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘২০১৫ সালে ৩৩ প্রজাতির ৩৭০টি পাখিকে বার্ড রিংগিং (পাখির পায়ে রিং লাগানো) করা হয়েছিল। এবার তার একটারও সন্ধান পাওয়া যায়নি। তা ছাড়া ২০১০ সালে যে ১৬টি পাখির গায়ে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার লাগানো হয়েছিল ২০১১ সাল পর্যন্ত সেগুলো আমাদের মনিটরিংয়ে ছিল, তার পর থেকে ওই পাখিগুলোর আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত