প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডাকসু নির্বাচনের কাউন্ট-ডাউন শুরু

এনায়েত হোসেন রেজা : ত্রিশ বছরের অচলাবস্থা ভাঙলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ডাকসু নির্বাচনের কাউন্ট ডাউন শুরু হয়ে গেছে। অচল ডাকসু সচল করার জন্য বিভিন্নজন বিভিন্ন রকম ভূমিকা রেখেছে। কেউ কলম ধরেছেন, কেউ যুদ্ধ করেছেন কিবোর্ড দিয়ে। আদালতে রিট হয়েছে, আমরণ অনশন হয়েছে; মহামান্য চান্সেলর পর্যন্ত বক্তৃতা করেছেন অচল ডাকসু নিয়ে। বন্ধ ডাকসুর অর্গল খুলে দিয়ে ছাত্রদের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্র সংগঠনগুলোর বিভিন্ন প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। সংগঠনগুলোর ব্যস্ততা বেড়েছে পলিসি নির্ধারণে, কলাকৌশল গ্রহণে, প্রার্থী মনোনয়নে। অন্তঃপ্রতিযোগিতায় শামিল হয়েছে বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ। স্নায়ু যুদ্ধ চলছে ভেতরে ভেতরে। দলের নেতাকর্মের বাইরেও সাধারণ মানুষ থেকে বিদগ্ধজন সবাই ভোটের হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত; সমীকরণ দাড় করছেন নিজের মতো করে। আওয়ামী লীগ সরকারে থাকার কারণে ছাত্রলীগের কর্মী, সমর্থক ও শুভাকাক্সক্ষীর বাইরেও ব্যক্তিগত লাভ-ক্ষতির হিসেব করে ছাত্রলীগের পক্ষে থাকবেন অনেকেই। এর বাইরে ছাত্রলীগের ‘গণভিত্তি’ অন্যান্য সংগঠন থেকে কয়েকগুন শক্তিশালী। গত দশ বছরে ছাত্রদল থেকে ছাত্রলীগে হিজরতকারী মোহাজেরদের ভোটও ছাত্রলীগই পাবে। তাছাড়া নবজাগরণের ছাত্রলীগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই নেতৃত্ব দিচ্ছে শতাধিক আলেকজান্ডার। কেন্দ্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ নেতৃত্বেও রয়েছে ভাইব্রেন্ট নেতা। আসন্ন ডাকসু নির্বাচনে শীর্ষ দুই পদে ছাত্রদলের জেতার সুদূর সম্ভাবনা নেই। তাদের ডাকসু উপযোগী কর্মী নেই, নেতা নেই, সমর্থক নেই। ছাত্রদলের সেটআপ হলো ৪০-৪৫ যাদের ব্যাচমেট বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হয়ে গেছেন। তরুণদের সঙ্গে তাদের ন্যূনতম যোগাযোগ নেই। তারা যাদের প্রার্থী দেবে তাদের হয়তো প্রাথমিক সদস্য পদও নেই সংগঠনে। কী করে ডাকসুর মতো জায়গা নেতৃত্ব দেবে!

সারাদিন ক্যাম্পাসে ধুলি ওড়ানো বাম ছাত্র সংগঠনগুলো যখন ইভিনিং কোর্সের শিক্ষার্থীদের ভোটার করার দাবি জানায় তখন বুঝতে হবে তারা আদর্শিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে। আদর্শে ক্যান্সার ছড়িয়ে না পড়লে তারাই ছাত্রলীগের সঙ্গে ফাইট দিতে পারতো ভোটের মাঠে। কারণ ঢাবিতে শিবিরের ভোট দিন শেষে বাম ছাত্র সংগঠনের বাক্সে যায়, ছাত্রদলের বাক্সে নয়।

যারাই জিতুক আগামী দিনের ডাকসুকে ঐতিহ্যের জায়গায় নিয়ে যেতে হবে। পৃথিবীর সর্বত্র যেখানে এগিয়ে সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঐতিহ্য সংকট’, অস্তিত্ব সংকট। বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিবর্তনের গুরুভার ছাত্রনেতাদের হাতেই বর্তেছে। সময় বদলেছে, রাজনীতির নীতি-আদর্শ বদলেছে। ৩০ বছরের স্থবিরতা দূর করতে হবে। ছাত্র রাজনীতির দৈন্যতা মুক্তির আশায় উদগ্রীব পুরো জাতি। ডাকসু ও হল সংসদের চাঁদা খাতে গত ত্রিশ বছরে ছাত্রদের থেকে আদায় করা কোটি কোটি টাকা নয়-ছয় হয়েছে বলে জানা যায়। বড় অঙ্ক তছরুপের কথাও বলেছেন কেউ। নির্বাচিত নেতৃত্বের প্রথম পদক্ষেপ হবে ত্রিশ বছরের ডাকসু ও হল সংসদের চাঁদার তহবিল নয়-ছয়ের তদন্ত করা। ফেসবুক থেকে

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত