প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অভিযাত্রী শেকেল্টনের জাহাজের খোঁজে এন্টার্কটিকা অভিযান

নূর মাজিদ : বরফ আর তুষারের রাজ্য এন্টার্কটিকা মহাদেশ, যার প্রথম অভিযাত্রীদের একজন ছিলেন ব্রিটিশ অভিযাত্রী স্যার আর্নেস্ট শেকেল্টন। ১৯১৫ সালে এক দুঃসাহসিক মেরু অভিযানের সময় তার জাহাজ এন্ডুরেন্স জমাট বরফে আটকে যায়। ১০ মাস ধরে এভাবেই আটকা পড়ে এন্ডুরেন্স। পরবর্তীতে ওই জমাট সামুদ্রিক বরফের প্রবল চাপেই ভেঙ্গে যায় জাহাজের খোল। ফলে এন্টার্কটিকার ওয়েড্ডেল সাগরের দুই মাইল নিচের সাগরতলে হারিয়ে যায় জাহাজটি। এবার সেই জাহাজটির খোঁজ পেতেই নতুন এক মেরু অভিযান শুরু করছেন একদল বিজ্ঞানী। অভিযাত্রী বিজ্ঞানীদের আশা এবার আবহাওয়া তাদের অনুকূলেই থাকবে, এমনটি হলে তারা সহজেই সমুদ্রগর্ভে জাহাজটির সন্ধান পাওয়ার আশা করছেন। দ্য গার্ডিয়ান

অভিযাত্রী বিজ্ঞানীরা যে জাহাজে করে এই অভিযান চালাবেন তার নাম এসএ আগুলাস-২। এটি একটি ১৩ হাজার ৭শ টন ওজনের বিশেষায়িত আইস ব্রেকিং বা বরফ ভাঙ্গার জাহাজ। যা মেরু সাগরের পুরু বরফাচ্ছাদিত আবরণ ভেঙ্গে চলাচলের জন্যেই তৈরি করা হয়েছে। অভিযান শুরু করে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই ওয়েড্ডেল সাগরে পৌঁছে যাবে আগুলাস-২। তবে এই জন্যে জাহাজটিকে অনুকূল আবহাওয়ার ওপরই নির্ভর করতে হবে। কারন এন্টার্কটিকা মহাদেশের আবহাওয়া কখন কোন পরিস্থিতিতে আকস্মিক বদলে যায়, তার সঠিক পূর্বাভাষ দেয়া আধুনিক আবহাওয়া বিজ্ঞানের জন্যেও তাৎক্ষণিকভাবে অনুমান করা বেশ কঠিন।

প্রতিকূল মেরু আবহাওয়ার কবলে পড়লে বর্তমান অভিযাত্রীদেরও প্রকৃতির বিরূপতার শিকার হতে হবে।
এই বিষয়ে অভিযাত্রী দলের পরিচালক বিজ্ঞানী মেন্সুন বান্ড দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আজ আমরা এমন এক সাফল্যের আশা করছি যা ইতোপূর্বে অসম্ভব বলেই মনে করা হতো। তবে এখনও সাফল্য পেতে আমাদের অনেক বাঁধা অতিক্রম করতে হবে। বিশেষ করে, আমি মনে করি প্রকৃতির শক্তির মোকাবেলা করেই আমাদের সফল হতে হবে।তবে আমাদের অভিযাত্রী দলের সকলেরই অটুট মনোবল এবং ইতিবাচক উদ্দীপনা রয়েছে। যার কারণেই আমরা আশা করছি যে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আমরা নির্ধারিত সময়েই আমরা ওয়েড্ডেল সাগরের অনুসন্ধান এলাকায় পৌঁছাতে সক্ষম হব।’

উল্লেখ্য, বছরের অধিকাংশ সময়েই ওয়েড্ডেল সাগর প্রায় ৩ মিটার পুরু বরফের চাদরে আচ্ছাদিত থাকে। এই কারণে বিজ্ঞানীরা কৃত্রিম উপগ্রহ এবং ড্রোণের ছবি ব্যবহার করে সামুদ্রিক বরফের অবস্থান, ঘনত্ব এবং সঞ্চালমান অবস্থা জেনে একটি চলাচলের চার্ট তৈরি করবেন। এর মাধ্যমে তারা চলাচলের জন্য একটি অপেক্ষাকৃত সহজ ও নিরাপদ পথ তৈরি করতে সক্ষম হবেন এমন আশা করছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ