প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মেঘনার ভাঙন থেমে নেই, ভাঙন চলছে !

আমজাদ হোসেন আমু, রামগতি-কমলনগর,(লক্ষ্মীপুর): লক্ষ্মীপুরের রামগতি-কমলনগর উপজেলার প্রতিদিনই কোন না কোন পরিবার মেঘনার ভাঙনে নিঃস্ব হচ্ছেন। মৌসুম ছাড়াই ভাঙনের কবলে জর্জরিত হাজার পরিবার। চোখের পলকে বিলিন হচ্ছে ফসলি জমি, ভিটে-মাটি, শত বছরের প্রিয়জনের কবর। হারিয়ে যাচ্ছে শত বছরের স্থাপনা সমুহ। অব্যাহত ভাঙনে উপজেলার তিনের এক অংশ নদী গর্ভে চলে গেছে। মেঘনার ভাঙন থেমে নেই। ভাঙন চলছে নিজ গতিতে।

রামগতি-কমলনগরে ৩৭ কিঃ মিঃ নদী ভাঙনে কবলিত। অথচ মাত্র ৫ কিঃ মিঃ নদী রক্ষা বাঁধে কাজ হয়েছে। যার মধ্যে রামগতি ৪ কিঃ মিঃ কমলনগর ১ কিঃ মিঃ। যা তুলনায় সামান্য। রামগতি রক্ষা বাঁধ সেনাবাহিনী দিয়ে করার কারণে বাঁধে ধস বা সমস্যা হয়নি। কিন্তু কমলনগরে ঠিকাদার দিয়ে সামান্য ১ কিঃ মিঃ কাজ করার ফলে সাত থেকে আট বার বাঁধে ধস নামে।

বার বার নদী ভাঙন ও বাঁধে ধস নামার কারণে এ জনপদের মানুষ এখন নদী ভাঙন আতঙ্কে দিশেহারা। প্রতিদিনই হারাচ্ছে উপকূলীয় অঞ্চল সহ বিশাল এলাকার আবাস ভূমি। ভাঙন রোধে রামগতি দশ এবং কমলনগরে আট কিঃমিঃ বাঁধ খুবই জরুরী।

তবে মেঘনার ভাঙনে কমলনগর উপজেলাটি মানচিত্র থেকে বিলিনের পথে। এখানে প্রতিনিয়ত ভাঙন চলছে। প্রথম ধাপের ১ কিঃ মিঃ কাজ শুরু হয়ে শেষ হয়ে গেছে। অথচ দ্বিতীয় ধাপে কাজ শুরু হবে বললেও হচ্ছে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু না হলে যেটুকু বাঁধ নির্মাণ হয়েছে তাও নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে মারাত্মক হুমকিতে পড়বে উপজেলা সদরসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন।

সরেজমিনে, কমলনগরের মাতাব্বরহাট তীর রক্ষা বাঁধ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, নির্ধারিত এক কিলোমিটার বাঁধ প্রায় বিধ্বস্ত। গত দেড় বছরে ওই বাঁধে অন্তত আট বার ধস নামে। আগামী বর্ষা মৌসুমে এ বাঁধটিকে নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ সংস্কার ও দুই পাশে আরও বাঁধ নির্মাণ করা না হলে কমলনগরে জন্য মহাবিপদ নেমে আসবে। এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজন জরুরি ভিত্তিতে আরও তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ।

স্থানীয়রা বলেছে, গত বর্ষায় এক কিলোমিটার তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে মাতাব্বরহাট বাজারসহ আশপাশের বেশ কিছু এলাকা রক্ষা পেয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ না হওয়ায় হুমকির মুখেও বাঁধটি। আগামী বর্ষার আগে তীর রক্ষা বাঁধের সংস্কার ও আরও আট কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ জরুরি।

তারা আরও বলেন,একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মেঘনার ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছেন প্রার্থীরা। এখন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের কাছে প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চায় স্থানীয় জনগণ ।

ইউপি চেয়ারম্যান আবুল খায়ের জানান, মেঘনার ভাঙন থেমে নেই। যেভাবে ভাঙছে , অতিদ্রুত বাঁধ নির্মানে কাজ না করলে শীর্ঘ্র নদী গর্ভে বিলিন হবে এ উপজেলাটি। সরকার বরাদ্দ দিচ্ছে, তবে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম হচ্ছে না বিধায় কাজ হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে দ্রুত বাঁধে কাজ করার জোর দাবী জানাচ্ছি।

এর আগে ২০১৪ সালে মেঘনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধের জন্য ১৯৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। বরাদ্দ টাকায় কমলনগরে এক কিলোমিটার, রামগতির আলেকজান্ডারে সাড়ে তিন কিলোমিটার ও রামগতিরহাট মাছঘাট এলাকায় এক কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ হওয়ার কথা। ২০১৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারিতে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ১৯ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন আলেকজান্ডার এলাকায় ভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করে চার কিলোমিটার সফলভাবে বাস্তবায়ন করে।

এদিকে ওই বরাদ্দের ৪৮ কোটি টাকায় কমলনগরে এক কিলোমিটারের কাজ পায় নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। অর্থ বরাদ্দের দুই বছর পর ২০১৬ সালের শুরুর দিকে প্রতিষ্ঠানটি ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিংকে দিয়ে কাজ শুরু করে। ওই বছর নিম্নমানের বালু ও জিও ব্যাগ দিয়ে কাজ শুরু করায় স্থানীয়দের চাপের মুখে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। অনিয়মের প্রতিবাদে ও যথাযথভাবে কাজ করার দাবিতে ওই সময় মানববন্ধন করে স্থানীয় এলাকাবাসী। পরবর্তীতে অনিয়মের মধ্য দিয়ে এক কিলোমিটার কাজ করা হলেও দেড় বছরে আট বার ধস নামে ওই বাঁধে।

২০১৭ সালের ১৪ মার্চ লক্ষ্মীপুরের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রামগতি-কমলনগর নদীর তীররক্ষা বাঁধের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজের আশ্বাস দেন।

স্থানীয়দের মতে, প্রধান মন্ত্রীর আশ্বাসে দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙন রোধে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও হচ্ছে না। তবে দ্রুত সময়ে না হলে হুমকির মুখে পড়বে রামগতি-কমলনগর উপজেলা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত