প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খেলাপি ঋণের ভারে জর্জরিত ৯ ব্যাংক

রমজান আলী : খেলাপি ঋণের কারণে সার্বিকভাবে দেশের ব্যাংকিং খাত এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ও হারের দিক থেকে শোচনীয় অবস্থানে রয়েছে সরকারি-বেসরকারি ও বিদেশিসহ ৯টি ব্যাংক। এগুলো হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল), রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) এবং বেসরকারি ফারমার্স ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক ও বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক। এছাড়া বিদেশি ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান-এ খেলাপি ঋণের হার সর্বোচ্চ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, পরিমাণের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে জনতা ব্যাংকে। আলোচ্য সময় পর্যন্ত ব্যাংকটি ঋণ বিতরণ করেছে ৪৫ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়েছে ১৪ হাজার ৩৭৬ কোটি টাকা, যা মোট ঋণ বিতরণের ৩১ দশমিক ৩১ শতাংশ।

একই সময়ে সোনালী ব্যাংক ঋণ বিতরণ করেছে ৩৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়েছে ১২ হাজার ৭৭৮ কোটি টাকা, যা মোট ঋণ বিতরণের ৩৪ দশমিক ০৪ শতাংশ।

পরিমাণের দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে থাকলেও শতকরা হিসেবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে বেসিক ব্যাংকে খেলাপি ঋণের হার সবচেয়ে বেশি। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেসিক ব্যাংক বিতরণ করেছে ১৪ হাজার ৮১৪ কোটি টাকার ঋণ। এর মধ্যে ৯ হাজার ১৪৪ কোটি টাকাই এখন খেলাপি। যা বিতরণ করা মোট ঋণের ৬১ দশমিক ৭২ শতাংশ।

বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিতরণ করেছে ১ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়েছে ৮৪৮ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৫৫ দশমিক ১০ শতাংশ।

রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের বিতরণ করা ৫ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে ১ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা খেলাপিতে পরিণত হয়েছে, যা মোট ঋণের ২৫ দশমিক ১৪ শতাংশ।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে বিতরণ করা ঋণের ৫৭ দশমিক ৮২ শতাংশই খেলাপি হয়েছে নতুন প্রজন্মের ফারমার্স ব্যাংকে। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটি ঋণ বিতরণ করেছে ৫ হাজার ৩১১ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়ে পড়েছে প্রায় ৩ হাজার ৭১ কোটি টাকা।

শতকরা হিসাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঋণ খেলাপি হওয়া ব্যাংকটি হলো আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই ব্যাংকটি বিতরণ করেছে ৮৪৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়েছে ৭০৯ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৮৩ দশমিক ৯২ শতাংশ।

বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক ঋণ বিতরণ করেছে ২ হাজার ১৩০ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়েছে ৫৫৭ কোটি টাকা, যা মোট ঋণ বিতরণের ২৬ দশমিক ১৪ শতাংশ।

তবে শতকরা হিসেবে খেলাপি ঋণের শীর্ষে রয়েছে বিদেশী ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে এই ব্যাংকটি বিতরণ করেছে ১ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়েছে ১ হাজার ৩৬২ কোটি টাকা, যা মোট ঋণ বিতরণের ৯৪ দশমিক ৩০ শতাংশ। অধিকাংশ ঋণ খেলাপি হওয়ায় ব্যাংকটির কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতের ঋণ বেড়ে হয়েছে ৮ লাখ ৬৮ হাজার ৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়েছে ৯৯ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা। গত জুনে যা ছিল ৮৯ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১০ হাজার ৩০ কোটি টাকা।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, গত সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ বাড়লেও আগামী ডিসেম্বর প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ কমে আসবে। সম্পাদনা : সোহেল রহমান, খালিদ আহমেদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত