প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হাইপোথেটিক্যাল একটি সিনারিও আমার কেন মনে হলো?

আলী রীয়াজ : ধরুন কোনো ‘ব্যবসায়’ সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই, ব্যবসাটা আইনত অবৈধ। ফলে সেখানে এন্ট্রিট্রাস্ট আইনের বালাই নেই, মনোপলি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থার প্রশ্নই ওঠে না । যেহেতু এই ব্যবসাটা সবার জন্যই, মানে যে ঝুঁকি নিতে চায় তার জন্যই উন্মুক্ত, ফলে একটা প্রতিযোগিতা আছে। এই অবস্থায় যারা এই ব্যবসায় জড়িত তারা নিজেরাই প্রতিযোগিতার আইন বা কোড তৈরি করবে, অথবা তারা পরস্পরকে মেরেকেটে নিজেদের ব্যবসা চালাবে, অন্যকে যেভাবে পারবে সেইভাবেই মোকাবেলা করবে, খুন করবেÑ অবস্থাটা আপনি যেকোনো মাফিয়া সিনেমা দেখলে বুঝতে পারবেন। এখন এই ব্যবসায়ীদের একজন রাষ্ট্রের সমর্থন জোগাড় করলেন, রাষ্ট্র জানে, সরকার জানে, সাধারণ মানুষ জানে, ভোক্তারা জানেÑ এই ব্যবসায়ীর ব্যবসা কী। সরকারকে সে কি বলতে পারে যে, এই বেআইনি ব্যবসা বন্ধের দায়িত্ব আমাকে দাও? তাকে যদি সেই ক্ষমতা দেয়া হয় তিনি এই ক্ষমতা দিয়ে কী করবেন? মনোপলি ব্যবসার ধারণা বলে যে, তিনি তার প্রতিদ্বন্দ্বিদের শায়েস্তা করবেন, হয় শক্তি দিয়ে, রাষ্ট্রের শক্তি ব্যবহার করে তা করবেন, নতুবা প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে তিনি একটা সমঝোতা করবেন যাতে করে ব্যবসায় তার মনোপলি তৈরি হয়। সমঝোতা মানে হচ্ছে দু’পক্ষকেই পেতে হবে- এক্ষেত্রে দ্বিতীয় পক্ষকে যদি জীবনের নিশ্চয়তা, সঞ্চিত সম্পদ রক্ষার গ্যারান্টি, সমাজে সম্মানহানির বিপদে না পড়ার ব্যবস্থা ও দায়মুক্তি দেয়া হয় যার বিকল্প হচ্ছে বিপদাপন্ন হওয়া তাহলে সে নিরাপদ জীবনের জন্য ‘সেফ হোমে’ যেতে রাজি হবে। এ অবস্থায় রাষ্ট্র ও সরকার সমর্থিত ব্যক্তির জন্য তৈরি হবে মনোপোলির গ্যারান্টি। তার মানে দাঁড়ালো রাষ্ট্র ও সরকার বেআইনি একটা ব্যবসার মনোপলি একজনের হাতে তুলে দিলো এবং ওই ব্যবসার সমস্ত কোড তৈরির ক্ষমতাও থাকলো তার হাতেই।
এখন বলুন তো এই হাইপোথেটিক্যাল সিনারিও আমার কেন মনে হলো? ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত