প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গণভবনে চা-চক্রে না গেলে কী পাবে বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট?

প্রভাষ আমিন : ওবায়দুল কাদের আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এবার এলো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনের আগে সংলাপে অংশগ্রহণকারী সকল দল, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল দল এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের গণভবনে এক চা-চক্রে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ওবায়দুল কাদের যখন এই সৌজন্য সাক্ষাতের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন, তখন অনেকে একে সংলাপ বলে ভুল করেছিলেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেছিলেন, পুনঃনির্বাচনের বিষয়টি এজেন্ডায় থাকলে তারা তাতে অংশ নিতে পারেন। পরে ওবায়দুল কাদের নিশ্চিত করেন, এজেন্ডার তো প্রশ্নই ওঠে না। কারণ এটি কোনো সংলাপ নয়, নিছক সৌজন্য সাক্ষাত।

যদিও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী সংলাপ করবেন। তবে সেটা আপাতত হচ্ছে না। ওবায়দুল কাদেরের কথাই ঠিক। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবার সাথে নির্বাচনোত্তর সৌজন্য সাক্ষাত করবেন। ইতিমধ্যেই সবাইকে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে। বিএনপি এরইমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে তারা প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে চা খেতে যাচ্ছেন না। ঐক্যফ্রন্ট এখনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানায়নি। তবে গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী জানিয়েছেন, তার ব্যক্তিগত মত না যাওয়ার।

এমনিতে সংলাপ, আলোচনা, সৌজন্য সাক্ষাৎ আর চা-চক্র যাই হোক; সামনাসামনি দেখা হলেই দূরত্ব কমে আসে। একদিনের দেখায়, কথায়, চা খাওয়ায় সব সমস্যা মিটে যাবে না। কিন্তু দেখাসাক্ষাৎ না হলে দূরত্ব আরো বাড়বে। বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের চা-চক্রে না যাওয়ার পক্ষে অনেক যুক্তি আছে। বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে সংলাপে শেখ হাসিনা তার অধীনেই সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস দিয়েও রাখেননি। মামলা-গ্রেপ্তার না করার অঙ্গীকার করেও রাখেননি। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করার কথা দিয়েও রাখেননি। তাই তাদের আট জন সংসদ সদস্য শপথ নেয়নি। তার মানে তারা সংসদে যাচ্ছেন না, যাচ্ছেন না চা-চক্রেও।

কিন্তু গণভবনে চা খেতে না গেলে কি বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্ট বিশাল কিছু অর্জন করতে পারবে? সৌজন্য সাক্ষাৎ মানে সৌজন্য সাক্ষাৎই। গণভবনে গেলেই তো আর সরকারকে স্বীকৃতি দেয়া হয়ে যাবে না। বরং শেখ হাসিনাকে সামনে পেলে তারা মুখের ওপর বলে দিতে পারতেন, আপনি কথা দিয়ে কথা রাখেননি, মামলা-গ্রেপ্তার বন্ধ হয়নি, নির্বাচন ভালো হয়নি। তাদের মূল যে দাবি, নির্বাচন বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের দাবি; তাও তুলে ধরতে পারবেন। আমি বলছি না, তারা দাবি করলেই শেখ হাসিনা সেটা মেনে নেবেন। কিন্তু শেখ হাসিনার সামনে নির্বাচন বাতিলের দাবি তুলতে পারাটাও কম নয়। কিন্তু না গেলে তো কিছুই মিলবে না। তাই আমি মনে করি, বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে চা-চক্রে যাওয়া উচিত। সমঝোতার, কাছে আসার সুযোগগুলো যেন আমরা বন্ধ না করি।

লেখক : হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত