প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মৃত্যু নিয়ে প্রয়াত হুমায়ুন ফরিদী সাক্ষাৎকারে যা বলেছিলেন (ভিডিও)

ডেস্ক রিপোর্ট : দেশের মিডিয়া জগতে একটি স্থায়ী আফসোস তৈরি করে ২০১২ সালে না ফেরার দেশে পারি জমান শক্তিমান অভিনেতা হুমায়ুন ফরিদী। তার মৃত্যুতে অনেকের আফসোস ছিলো এমন শক্তিমান অভিনেতা ছাড়া মনের মতো চরিত্র ফুটিয়ে তোলার মতো আর কেউ থাকলো না! সবার দীর্ঘশ্বাস-‘এ দেশে এ ক্যারেক্টার কেবল ফরিদী ভাই-ই পারতেন। তিনি নেই । দীর্ঘশ্বাস বাড়ে। দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়। মিডিয়াপাড়া থেকে টেলিভিশন স্ক্রিন, সিনেমার পর্দা, মঞ্চের আলো-আঁধারি- সব জায়গায় তীব্র হয়ে বাজে তার অনুপস্থিতি।

শ্রদ্ধাঞ্জলি বা আবেগ নয়, এটা স্পষ্ট অভাব। অপূরণীয় অভাব। এই অভাব পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। ফাল্গুনের প্রথম দিনে চলে যান তিনি। তার চলে যাওয়ার আগের বছর অর্থ্যাৎ ২০১১ সালের ২৯ মে তার ৬০ তম জন্মদিনে বাংলাভিশনের ‘আমার আমি’ তারকা অনুষ্ঠানে এসে জীবন মৃত্যু নিয়ে দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দেন। তার দীর্ঘ সাক্ষাৎকারের মৃত্যু নিয়ে কিছু কথা মানুষের আবেগ ছুঁয়ে যায়। তার কিছু কথা আমাদের সময় ডট কমের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

সাক্ষাৎকারটিতে মৃত্যু নিয়ে তিনি বলেছিলেন, মৃত্যুও মতো এতো স্নিগ্ধ, এতো গভীর সুন্দর আর কিছু নেই। কারণ মৃত্যু অনীবার্য, তুমি যখন জন্মেছো তখন মরতেই হবে। মৃত্যুর বিষয়টি মাথায় থাকলে কেউ পাপ করবে না। যেটা অনীবার্য তাকে ভালোবাসাটায় শ্রেয়।

তিনি এই অনুষ্ঠানে আরও বলেন, মৃত্যুকে ভয় পাওয়াটা মূর্খতা। জ্ঞানীরা মৃত্যুকে ভয় পায় না। মৃত্যুকে আলিঙ্গন করো। গ্রহণ করো, বরণ করে নাও তাহলে দেখবে জীবন কত সুন্দর।

মানুষের অসময়ে চলে যাওয়া নিয়ে কষ্ট প্রকাশ করে বলেন, মানুষের খুব তাড়াতাড়ি চলে যাওয়াটা কষ্টের। সঠিক সময় মানুষের মৃত্যু বরণ করাটায় আন্দোলিত হয়,তবে খুশি হয় না। মানুষ কখনও বৃদ্ধ হয় না। মানুষ মনে মনে ২৮ বছরে থেকে যায়। দূরআশা ভালো জিনিস না। আশা করো ক্ষমতার ভিতরে। যা অর্জন করতে পারবে তাই করো। এই আশা নিয়েই মানুষ বাঁেচ।

১৯৫২ সালের ২৯ মে ঢাকার নারিন্দায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। মঞ্চ থেকে তার অভিনয় যাত্রা শুরু। এরপর ছোটপর্দা অথবা বড় পর্দা সব ক্ষেত্রেই তিনি দেখিয়েছেন অভাবনীয় সাফল্য। তাঁর নান্দনিক অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে মুগ্ধ করেছেন কোটি মানুষের হৃদয়। অভিনয় শিল্পের এক অনন্য কারিগর হুমায়ুন ফরীদি। অভিনেতা হিসেবে তিনি যেমন শক্তিমান, মানুষ হিসেবেও ছিলেন অনন্য। শহিদুল্লাহ কায়সারের উপন্যাস অবলম্বনে আবদুল্লাহ আল মামুন নির্মিত ‘সংশপ্তক’ নাটকে কানকাটা রমজান চরিত্রে অভিনয় করে দারুণ প্রশংসিত হন হুমায়ূন ফরীদি। ৯০ এর দশকে তিনি পা রাখেন চলচ্চিত্র জগতে। খলনায়ক-নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন অসংখ্য সিনেমায়।

নান্দনিক অভিনয়ের জন্য ২০০৪ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। এছাড়াও চলতি বছর হুমায়ূন ফরিদীকে মরণোত্তর একুশে পদক দেওয়া হয়েছে। কিংবদন্তি এই অভিনেতা ২০১২ সালের ১৩ ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অভিনয়ের সাথে জড়িত ছিলেন তিনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত