প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আইন প্রণয়ন ও যথাযথ বাস্তবায়নই দুর্নীতি রোধের সঠিক পথ

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী : দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে। নির্বাচিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় নেতাকর্মী, মন্ত্রী, এমপিদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণেও তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার দৃঢ় অবস্থানের কথা দেশবাসীকে জানিয়েছেন। সর্বত্র এখন বর্তমান মেয়াদে শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কথা আলোচিত হচ্ছে। বিশেষত গত দশ বছর দেশে ব্যাপক উন্নয়নের ধারা সৃষ্টি হওয়ায় সচেতন মহলে সুশাসন প্রসঙ্গে বেশ আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। কেননা উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষাঙ্গন, বিচারালয়সহ সর্বত্র অবৈধ অর্থ লেনদেন, ঘুষ ও দুর্নীতির প্রভাব লক্ষ করা গেছে। এর ফলে দেশের সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার, স্বস্তি ও সমৃদ্ধি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দুর্নীতিপ্রবণ মানুষরা সেক্ষেত্রে অর্থের বিনিময়ে অবৈধ্যভাবে সুযোগ-সুবিধা নিজেদের ঘরে তুলে নিচ্ছে। এটি সব মহলেই গভীরভাবে লক্ষ্য করছে। এমনকি জাতীয় বেতন স্কেলে কর্মকর্তাদের বেতন দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি করার পরও প্রধানমন্ত্রী আশা করেছিলেন যে, প্রশাসনে দুর্নীতি সেভাবে থাকবে না। কিন্তু মনে হয় অভিজ্ঞতা তা বলছে না। দুর্নীতি সেখানে বাসা বেঁধে আছেই। এর ফলে আমাদের উন্নয়নের গতিধারা যতোখানি বেগবান হতে পারতো তা শেষ পর্যন্ত হতে পারছে না। সরকারের রাজস্ব যে পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার কথা ছিলো দুর্নীতির কারণে তার থেকে অনেক নিচেই সরকারকে থাকতে হচ্ছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সাধারণ মানুষ দুর্নীতি চর্চায় যুক্ত হতে বাধ্য হচ্ছে- এটি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সে কারণেই সরকারপ্রধান হিসেবে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের উন্নয়ন গতিধারাকে মানুষের কল্যাণে পরিচালিত করার লক্ষ্যে সুশাসনকে নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা গভীরভাবে অনুধাবন করেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা ঘোষণা করেছেন। এটি সচেতন মহল স্বাগত জানিয়েছে।

প্রশ্ন হচ্ছে দীর্ঘদিনের দুর্নীতিপ্রবণ সমাজ ব্যবস্থাকে কীভাবে সুশাসন দানে সক্ষম হওয়া যাবেÑসেই পথ ও পদ্ধতি নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে বিতর্ক আছে। কেউ কেউ মনে করছেন আইনের কঠোর প্রয়োগ হলে দুর্নীতি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও গোষ্ঠী ভয়ে নিয়ম-নীতিতে অবস্থা হয়ে উঠবে। এটি খুব সেকেলে ধারণা। কেননা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান কাদের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে সেটি এক মস্তবড় প্রশ্ন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রশাসনকেই দুর্নীতি রোধে উদ্যোগ নিতে হয়, ব্যবহারও করতে হয়। অথচ প্রশাসনের  ভেতরেই রয়েছে দুর্নীতির গোপন আয়োজন। সুতরাং অভিযান পরিচালনা করা কিংবা কঠোরতা প্রদর্শনের হুমকি দামকি দেওয়ার মাধ্যমে সমাজের এতোসব খাতে চলে আসা দীর্ঘদিনের ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলাকে নিয়ন্ত্রণ করা কিংবা রোধ করা মোটেও সহজ কাজ নয়। সে কারণেই বেশিরভাগ আধুনিক মনষ্ক বিশেষজ্ঞের মতো হচ্ছে সর্বত্র আইন প্রণয়ন, নবায়ন এবং যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই দুর্নীতি রোধের ছিদ্রগুলো বন্ধ করা সম্ভব। সারা বিশ্বব্যাপী এখন তথ্য প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আমাদের দেশেও এরই মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তির বেশ কিছু প্রয়োগ ঘটানো সম্ভব হয়েছে। যেসব খাতে তথ্য প্রযুক্তির প্রয়োগ ঘটেছে সেখানের দুর্নীতির সুযোগ অনেক কমে এসেছে। এমন উদাহরণ থাকার পর আমাদের মনে হয় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক প্রসার ও প্রয়োগ ঘটিয়ে আর্থিক সব ধরনের লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে ঘটানো গেলে ঘুষ, দুর্নীতির উৎস মুখগুলো অনেকটাই বন্ধ হয়ে আসতে বাধ্য।

আমাদের অনেক ক্ষেত্রে আইনের অপূর্ণতা রয়েছে। সেইসব জায়গাগুলোতে দ্রুত আইন প্রণয়ন ও যথাযথ কার্যকর করার ব্যবস্থা করা দরকার। আইন প্রয়োগে দলমত, ব্যক্তি, গোষ্ঠী,  সামাজিক ও আর্থিক অবস্থান কোনোভাবেই যেন প্রভাব বিস্তার করতে না পারে- উন্নত দেশগুলোতে যেমনটি কার্যকর হয়েছে ঠিক একইভাবে আমাদের এখানেও তা কার্যকর করতে হবে। সেটি করা গেলে ঘুষ, দুর্নীতি কমে আসা অনেক বেশি সহজ হবে। বাংলাদেশে ঘুষ, দুর্নীতি বন্ধ করা যাবে না এমন তত্ত্ব যারা দিয়ে থাকেন তারাও হয়তো তথ্যপ্রযুক্তি ও আইন যথাযথ ব্যবহারের ফলাফল দেখে হয়তো বিশ্বাস করতে সক্ষম হবেন যে তাদের ধারণা সঠিক নয়।

লেখক : শিক্ষাবিদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত