প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আরোপের চিন্তা অলীক কল্পনামাত্র: সর্বোচ্চ নেতা

ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ ইরানের সকল সামরিক শক্তিই প্রতিরক্ষামূলক। এগুলোর কোনোটাই পরমাণু অস্ত্র বহনের উপযোগী করে বানানো হয় নি। তারপরেও যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় কোনো কোনো দেশ ইরানের প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিরুদ্ধে অভিন্ন সুরে কথা বলে ইরান-ভীতি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বারবার ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে ইরানের ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধের দাবি জানিয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি ভিত্তিহীন ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ইরান তার বৈধ প্রতিরক্ষা শক্তির উন্নয়নে কোনো আপোষ করবে না। তিনি বলেছেন, প্রতিরক্ষা শক্তির উন্নয়ন ২ হাজার ২৩১ নম্বর প্রস্তাব পরিপন্থি নয়। কারণ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি প্রচলিত এবং এর লক্ষ্য প্রতিরক্ষামূলক, আগ্রাসী নয়। ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছে পরমাণু অস্ত্র বহন উপযোগী করে যেন ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা না হয়। ইরান প্রস্তাবের ওই শর্ত মেনেই ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে।

মার্কিন বিশ্লেষক গ্রিস পোর্টার আলজাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, এটা স্পষ্ট যে ইরানের ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি প্রতিরক্ষামূলক। যেহেতু ইরানের ওপর হামলা করার জন্য ইসরাইল এবং সৌদিআরবের কাছে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, তাই ইরান প্রতিরক্ষার স্বার্থেই ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে।

ইউরোপের কোনো কোনো দেশের এই ভিত্তিহীন দাবির উদ্দেশ্য হলো ইরান-ভীতি প্রচার করা এবং ইরানের প্রতিরক্ষা শক্তি দুর্বল করা। অথচ ফ্রান্স এবং আমেরিকাসহ কোনো কোনো ইউরোপীয় দেশ এ অঞ্চলকে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অস্ত্রাগারে পরিণত করে রেখেছে।

ফ্রান্স একদিকে পরমাণু সমঝোতা রক্ষা করতে চায় আবার আমেরিকার সঙ্গেও মিত্রতা বজায় রেখে স্বার্থ রক্ষা করতে চায়। তাদের এই চিন্তা পুরোপুরিই একপেশে এবং ভুল বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী ইমাম খোমেনি (রহ) এর ২৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া বক্তৃতায় বলেছেন, ইরানের ওপর ইরাকের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের সময় আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র ছিল না। সে সময় ইরানের সীমান্ত শহরগুলো এবং তেহরানের ওপর দিনরাত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল। কিন্তু এখন তরুণ বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের প্রচেষ্টায় ইরান এ অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিতে প্রথম স্থানে রয়েছে। শত্রুরা জানে, যদি একটা ক্ষেপণাস্ত্র মারা হয় তাহলে দশটা ক্ষেপণাস্ত্রের মুখোমুখি পড়তে হবে।

তিনি আরও বলেন, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে তারা আশা করছে যে, ইরান নিষেধাজ্ঞাও মেনে নেবে, পরমাণু কর্মসূচিও বন্ধ করে দেবে আবার ইরানের ওপর আরোপিত সীমাবদ্ধতাও মেনে চলবে। কিন্তু তাদের জানা উচিত এটা তাদের অলীক ও অবাস্তব স্বপ্ন ছাড়া আর কিছু নয়। পারসটুডে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত