প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যাচ্ছে তাই বলা ও করার ব্যবস্থার নাম গণতন্ত্র নয়!

মাসুদ রানা :  অশিক্ষা, কুশিক্ষা কিংবা অল্প শিক্ষার কারণে গণতন্ত্র সম্পর্কে অদ্ভুত ধারণা রয়েছে অনেকের। তাদের মধ্যে এমনকি পশ্চিমের গণতান্ত্রিক দেশে বাসকরা লোকজনও আছে, যারা মনে করে যাচ্ছেতাই বলা ও করাই বুঝি গণতন্ত্রিকতা!

যাচ্ছেতাই বলা ও করার সাথে গণতন্ত্রের কোনো সম্পর্ক নেই। যাচ্ছেতাই বলা ও করা হয়তো কোনো কোনো নৈরাষ্ট্রবাদ অনুমোদন করে, যাকে ইংরেজিতে অ্যানার্কিজম বলা হয়। বিশ্বের কোথাও এমন গণতন্ত্রের ধারণা নেই, যেখানে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার আন্দোলনের অনুমোদিত হয়। কাউকে রাজা হতে দিয়ে যেমন রিপাবলিক হয় না, তেমনি গণতন্ত্রবিরোধী শাসনতন্ত্রের আন্দোলনের অনুমোদন দিয়ে গণতন্ত্র হয় না।

যাচ্ছেতাই করা বা বলার নাম গণতন্ত্র নয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ভোট দিয়ে সংখ্যালঘু মানুষের অধিকার হরণ করার নামও গণতন্ত্র নয়। গণতন্ত্র হচ্ছে কতিপয় সকলের জন্যে সমান মানবাধিকার স্বীকার করে তার পরিপূরক অন্য বিষয়াদিতে সংখ্যাগরিষ্ঠের যুক্তিসিদ্ধ ও বস্তুনিষ্ঠ ধারণা ও মতের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা। যে আদর্শবাদ মানুষের তৈরি শাসন ব্যবস্থায় বিশ্বাস না করে তাদের দাবিমতো একটি প্রাচীন রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে ঐশ্বরিক ও পবিত্র মনে করে তা দেশ ও জাতির ওপর আরোপ করতে চায়, তা সংজ্ঞানুসারে গণতন্ত্রবিরোধী। আর গণতান্ত্রিক হওয়ার পূর্বশর্ত হচ্ছে এই প্রবণতার বিরুদ্ধে লড়া।

পরিশেষে ঐশ্বরিক ও পবিত্র দাবি করা শাসনতন্ত্র কিংবা ঈশ্বরের আশির্বাদপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও তার বংশের লোকদের পূর্ব নির্ধারিত ও আরোপিত শাসনের প্রত্যাখ্যান ও পরাস্ত করা ছাড়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। গণতন্ত্রকে জন্ম নিতে হয় এসব পূর্ব নির্ধারিত ও আরোপিত শাসনের কবরের ওপর।

দুর্ভাগ্যবশত বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি নিলেই যেমন প্রকৃত শিক্ষিত হওয়া যায় না। একইভাবে গণতান্ত্রিক দেশে বাস করে গণতন্ত্রের সুবিধাদি ভোগ করলেই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ অর্জন করা যায় না। গণতন্ত্র হচ্ছে একটি সেক্যুলার দার্শনিক ধারণা, যেখানে ধর্মীয় শাসনতন্ত্রের কোনো স্থান নেই। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত