Skip to main content

যে কারণে ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকা অনুচিত

ইসলামে নির্বাচন বা ভোটের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি হাদিসে এসেছে, হজরত রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন- যে ব্যক্তি কোনো কল্যাণ বা কল্যাণকর বিষয়ে কাউকে পথ দেখালো, সহযোগিতা করল; সে ওই ভালো কাজ সম্পাদনকারী বা কারীদের অনুরূপ সমপরিমাণ সওয়াব পেতে থাকবে।’ (সহিহ মুসলিম) আরেকটি হাদিসে এসেছে, হজরত নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন- ইসলাম গ্রহণের পর (বা ইসলামের মধ্যে) কেউ যদি ভালো কোনো কাজ করে (ভালো কাজের পথ দেখায়, নিয়ম চালু করে) সে তার নিজ আমলের সওয়াব প্রাপ্তির পাশাপাশি, পরবর্তীকালে যারা সেই ভালো কাজ করতে থাকবে তাদের সবার অনুরূপ সমপরিমাণ সওয়াবও পেতে থাকবে; অথচ পরবর্তীদের কারো সওয়াবও কম করা হবে না।

একইভাবে যে ব্যক্তি ইসলামে প্রবেশ করার পর কোনো মন্দ কাজের গোড়াপত্তন/সূচনা করল, তার পাপ তাকেই বহন করার পাশাপাশি, পরবর্তীকালে যারা সেই মন্দ কাজে জড়াবে তাদের সবার পাপের সমপরিমাণ পাপও তার আমলনামায় যোগ হবে। অথচ পরবর্তীদের নিজেদের কৃত পাপেও কোনো ঘাটতি হবে না। (প্রাগুক্ত)

কাউকে ভোট প্রদান করার আগে আমাদের অবশ্যই কয়েকটি বিষয়ে জানতে হবে। আমাদের প্রত্যেকের এলাকায় কয়েকজন প্রার্থী আছেন। আমরা আসলে কোন প্রার্থীকে ভোট দেব? একজন সৎ ও দ্বীনদার প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করব। কিন্তু ধরুন, নিজেদের পছন্দসই কোনো প্রার্থী নেই, এমনকি অপর কোনো সৎ ও যোগ্য প্রার্থীও নেই; কেবল এমন প্রার্থী রয়েছেন যারা কল্যাণের তুলনায় অকল্যাণই অধিক করবেন বলে প্রবল ধারণা হচ্ছে, তা হলে সেক্ষেত্রে শরিয়তের নীতি হচ্ছে, যে প্রার্থী তুলনামূলক কম অকল্যাণ করবেন বলে ধারণা হবে, তাকে ভোট দেওয়া জরুরি বলে সাব্যস্ত হবে। তবু ‘কাউকে ভোট দেব না’ বলা যাবে না।

এর কারণ, যিনি বা যে কয়জন ‘কাউকে ভোট দেব না’ বলে বিরত থাকলেন এবং ওই কয়েকটি ভোটের ব্যবধানে কম অকল্যাণকারী প্রার্থী পরাজিত হয়ে, অধিক অকল্যাণকারী প্রার্থী বিজয়ী হয়ে জনগণের ওপর অধিক নির্যাতন-নিপীড়ন চালাবেন। সেই অধিক অকল্যাণ ও নির্যাতনের দায়-দায়িত্ব ও সমপরিমাণ পাপ যারা ভোট দেয়নি, তাদের আমলনামায়ও যোগ হবে। যেহেতু তাদের ভোট না দেওয়ার কারণেই এই অসৎ জনপ্রতিনিধি বা মেম্বার/ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

অন্যান্য সংবাদ