Skip to main content

ভোট দিতে হবে যোগ্য প্রার্থীকে

Article Highlights

বুঝে-শুনে যার যার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে। না হলে কাল হাশরের ময়দানে আমাদেরকে কঠিন জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে। ভোট দেয়ার আগ থেকেই আমাদেরকে বিবেচনা করতে হবে যাকে ভোট দিচ্ছি সে বিজয়ী হওয়ার পর কতটুকু জনহিতকর কাজ করবে, তার জীবনাচার কেমন, জনগণের প্রতি তার দরদ কেমন, তার মূল লক্ষ্য কী...

ইসলামি শরিয়ত ভোট ও ভোটাধিকারকে একটি সাক্ষ্য এবং সুপারিশ বলে মনে করে। ভোটার ব্যক্তি যাকে ভোট দিচ্ছেন তার অর্থ হচ্ছে, ভোটদাতা সংশ্লিষ্ট ভোটপ্রার্থী সম্পর্কে সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, ‘এই প্রার্থী সংশ্লিষ্ট কাজের (রাষ্ট্র পরিচালনার) যথাযথ যোগ্যতাও রাখেন এবং পরিপূর্ণ সততা ও আমানতদারীতাও তার মধ্যে আছে। এখন বাস্তবে যদি সেই প্রার্থীর মধ্যে এসকল গুণ ও যোগ্যতা অনুপস্থিত হয়, তা সত্তে¡ও ভোটদাতা জেনেশুনে তাকেই ভোট দেয়, তাহলে তা হবে মিথ্যা সাক্ষ্যর নামান্তর। আর ইসলামের দৃষ্টিতে মিথ্যা সাক্ষ্য একটা গুরুতর গুনাহ। তাই অযোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিলে ভোটদাতা মিথ্যুক ও কবিরা গুনাহে লিপ্ত বলে গণ্য হবেন। নবি করিম (সা.) মিথ্যা সাক্ষ্যকে শিরকের পরবর্তী পর্যায়ের অপরাধ হিসেবে গণ্য করেছেন। (মেশকাতঃ ৫৩৬৩)

মিথ্যা সাক্ষ্য প্রসঙ্গে কোরানে কারিমে ইরশাদ হচ্ছে, ‘তোমরা মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান থেকে বিরত থাক।’ (সুরা হজঃ ৩০) এক হাদিসে নবী করিম (সা.) মিথ্যা সাক্ষ্যকে অন্যতম কবিরা গুনাহ বলে ইরশাদ করেছেন। (বুখারিঃ ৬৩৭৩)

একবার সাহাবাগণ (রা.)  রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল!  কেয়ামত কখন হবে?’ রাসুল (সা.) জবাব দিলেন, ‘যখন আমানতের খেয়ানত করা হবে, তখন।’ সাহাবাগণ (রা.) আবার প্রশ্ন করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমানতের  খেয়ানত কীভাবে হয়?’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘যখন অযোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব  দেয়া হবে, তখন কিয়ামতের জন্য অপেক্ষা করবে।’ (মুসলিমঃ ৩৫৩৩)

তাই বুঝে-শুনে যার যার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে। না হলে কাল হাশরের ময়দানে আমাদেরকে কঠিন জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে। ভোট দেয়ার আগ থেকেই আমাদেরকে বিবেচনা করতে হবে যাকে ভোট দিচ্ছি সে বিজয়ী হওয়ার পর কতটুকু জনহিতকর কাজ করবে, তার জীবনাচার কেমন, জনগণের প্রতি তার দরদ কেমন, তার মূল লক্ষ্য কী, ইসলাম, মানবতা, দেশ আর সমাজের জন্য কতটুকু কাজ করবে? এসকল দিক বিবেচনা করে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করতে হবে আমাদের।

নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য ইসলাম সর্বদা ব্যক্তির সততা, যোগ্যতা, খোদাভীতি, ঈমান, জ্ঞান, আমল, চারিত্রিক গুণাবলী ও বংশকে প্রাধান্য দিয়েছে। ইসলামের দৃষ্টিতে নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হওয়া যেমন প্রয়োজন, প্রার্থী বা নির্বাচিত ব্যক্তিও  তেমন সৎ, যোগ্য, জ্ঞানী, চরিত্রবান, খোদাভীরু, আমানতদার, ন্যায়পরায়ণ, দেশপ্রেমিক, মানবদরদী ও দায়িত্বানুভূতি সম্পন্ন হওয়া তার চেয়ে আরও বেশি প্রয়োজন। তাই তো আমরা দেখতে পাই, নবি করিম (সা.) এর মৃত্যুর পর সাহাবায়ে কেরাম (রা.) এসকল দিক বিবেচনা করে হজরত আবু বকর (রা.)-কেই খলিফা হিসেবে নির্বাচিত করেন। আমাদেরকেও এ সকল দিক লক্ষ্য করে ভোট দিতে হবে।

অন্যান্য সংবাদ