Skip to main content

নির্বাচন, ভোট ও ইসলাম

Article Highlights

যারা নতুন ভোটার বা যারা তুলনা করতে পারবেন না কোন প্রার্থী তুলনামূলক ভালো, কোন প্রার্থী মন্দ, তারা প্রবীণদের সাথে বা এ বিষয়ে জ্ঞান রাখেন এমন কারও সাথে পরামর্শ করে নেবেন। ইসলাম এটিকে অনেক গুরুত্ব দেয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘কাজের ব্যাপারে এদের সাথে পরামর্শ কর। তারপর (সে পরামর্শের ভিত্তিতে) সংকল্প একবার যখন তুমি করে নেবে তখন (তার সফলতার জন্য) আল্লাহর উপর ভরসা কর।’ (সূরা আল-ইমরান :১৫৯)

মাত্র দু’দিন পরেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আমাদের এই প্রতিনিধি নির্ধারণের দিন। আমাদের কাক্সিক্ষত জাতীয় একাদশ সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণ প্রতিনিধিদের বেছে নেবেন। আর এই বেছে নেয়ার নামই হচ্ছে ভোট বা সাক্ষ্যদান। এই সাক্ষ্যদানের মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হবে আগামী পাঁচ বছর কারা হবেন আমাদের রাষ্ট্রপ্রতিনিধি। বিষয়টি কিন্তু মোটেও ছোটখাটো বিষয় নয়; অতীব গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনে আমরা যারা ভোটার, তাদের উপরই নির্ভর করছে আগামী পাঁচ বছরের ভবিষ্যৎ। তাই ভোটদানের সময় অবশ্যই ভাবতে হবে কোন প্রার্থীকে ভোট দিলে জনগণ, সমাজ, রাষ্ট্র এবং পরকালের কল্যাণ সাধিত হবে।

এ ব্যাপারে মানবতার ধর্ম ইসলাম খুবই সুন্দর ও তাৎপর্যমূলক বিধান দিয়েছে। ইসলাম রাষ্ট্রপ্রতিনিধি হওয়ার জন্য প্রার্থীর বেশ কিছু গুণ থাকা আবশ্যক করেছে। গুণসমূহ হচ্ছে:
১. রাষ্ট্রপ্রধানকে অবশ্যই ঈমানদার হতে হবে।
২. রাষ্ট্রনেতাকে ন্যায়বিচার, নিরপেক্ষতা ও সুবিচারের অধিকারী হতে হবে।
৩. রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব যথাযথ পালনের যোগ্যতা থাকতে হবে।
৪. রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় দূরদৃষ্টি এবং বুদ্ধিমত্তায় হতে হবে চৌকশ।
৫. আইন-জ্ঞানে দক্ষতা ও পারদর্শিতা থাকতে হবে।
৬. দেশের স্বাধীন নাগরিক হতে হবে।
৮. জন্মসূত্রে পবিত্র হতে হবে। অবৈধ সন্তান হতে পারবে না।

যে প্রার্থীর মধ্যে এসকল গুণ পাওয়া যাবে, ইসলাম তাকেই আল্লাহ তায়ালার প্রতিনিধি বলে স্বীকৃতি দেয়। কারণ সে যে মতাদর্শে রয়েছে, এটা আল্লাহর পথেরই মতাদর্শ। এমন ব্যক্তির পক্ষেই ভোট বা সাক্ষ্য দিতে নির্দেশ করেছদ ইসলাম। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর জন্য সত্যের সাক্ষ্য প্রতিষ্ঠা করো।’ (সূরা আত তালাক :২) আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা আরও বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইনসাফের সাথে আল্লাহর জন্য সাক্ষী হয়ে দাঁড়াও।’ (সূরা আন নিসা :১৩৫)

এর বিপরীতে কোনো অসৎ ও অযোগ্য ব্যক্তিকে ভোট বা মিথ্যে সাক্ষ্যদানে নির্বাচিত করাকে ইসলাম মহাপাপ বলে সাব্যস্ত করে। কোরান ও হাদিসে এমন কাজ করতে নিষেধ করে বলা হয়েছে, ‘তোমরা মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান থেকে বিরত থাক।’ (সূরা হজ্ব : ৩০)

আর যদি কোনো প্রার্থীকেই সৎ, যোগ্য ও দ্বীনদার বলে মনে না হয় কী করবেন? নির্বাচন থেকে দূরে থাকবেন? 
না। এমনটি করা মোটেও সমীচীন নয়। এ ক্ষেত্রে যা করতে হবে তা হচ্ছে, তুলনামূলকভাবে যিনি ভালো, তাকেই ভোট দেয়া। কেননা, অন্যায় ও অপরাধ যার মাধ্যমে বেশি হবে, তার তুলনায় যার মাধ্যমে অন্তত কম হবে, তাকে গ্রহণ করা না হলে অধিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। এ জন্যই ইসলাম ভোট প্রদানকে অতীব গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

যদি ভয় বা অলসতায় ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকা হয়, তাহলে অসৎ ও অযোগ্যদের হাতে প্রতিনিধিত্ব চলে যাবে। যা দেশ, জাতি ও ধর্মের জন্য ক্ষতিকারক। তাই যারা নতুন ভোটার বা যারা তুলনা করতে পারবেন না কোন প্রার্থী তুলনামূলক ভালো, কোন প্রার্থী মন্দ, তারা প্রবীণদের সাথে বা এ বিষয়ে জ্ঞান রাখেন এমন কারও সাথে পরামর্শ করে নেবেন। ইসলাম এটিকে অনেক গুরুত্ব দেয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘কাজের ব্যাপারে এদের সাথে পরামর্শ কর। তারপর (সে পরামর্শের ভিত্তিতে) সংকল্প একবার যখন তুমি করে নেবে তখন (তার সফলতার জন্য) আল্লাহর উপর ভরসা কর।’ (সূরা আল-ইমরান :১৫৯)