প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মুহূর্তেই থেমে গেল সুরের মূর্ছনা

ডেস্ক রিপোর্ট : সমুদ্র পাড়ঘেঁষা মঞ্চ। সন্ধ্যা রাত পেরিয়েছে। আকাশে তখন সুরের মূর্ছনা! আলো-আঁধারি পরিবেশে দুলছে সবাই। সংগীত পরিবেশনায় মত্ত শিল্পীরা। কেউ যন্ত্র বাজাচ্ছেন, কেউ গাইছেন-নাচছেন—বৈষয়িক জগৎ থেকে সবাই অনেক দূরে। হঠাৎ মঞ্চের পেছন থেকে জলরাশির আক্রমণ! কিছু বুঝে ওঠার আগেই সবাই গেলেন তলিয়ে। পরে অনেকের লাশ মিলেছে। কাউকে আহত অবস্থায় পাওয়া গেছে। কারো কারো এখনো হদিস নেই।

শনিবার ইন্দোনেশিয়ার সুন্দা প্রণালির সৈকতে সুনামির আঘাতে এই করুণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ বিতরণকারী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পিএলএনের সৌজন্যে ওই পপ কনসার্টের আয়োজন করা হয়। উন্মুক্ত পরিবেশে এ আয়োজন উপভোগ করছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ২৫০ জন কর্মী।

পিএলএনের মুখপাত্র আই মেড সুপ্রাটেকা বলেন, “তানজুং লেসং সৈকতে আমাদের বার্ষিক বনভোজন চলছিল। এর অংশ হিসেবে সেখানে কনসার্টের আয়োজন করা হয়। এতে সংগীত পরিবেশন করছিল স্থানীয় ব্যান্ড ‘সেভেনটিন’। কনসার্টের মধ্যভাগে সুনামি আঘাত হানে। এতে অনুষ্ঠানস্থলের অন্তত সাতজন ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। নিখোঁজ আছে ৮৯ জন।”

নিহতদের মধ্যে ব্যান্ড ম্যানেজার ও বেস গিটারিস্ট আছেন বলে জানিয়েছেন সেভেনটিনের প্রধান গায়ক রিফিয়ান ফাজারসাহ। তিনি বলেন, ‘আমি শুধু বলতে পারি, আমাদের বেস গিটারিস্ট বানি ও ব্যান্ড ম্যানেজার ওকি উইজায়া মারা গেছেন।’ ব্যান্ডের তিনজন সদস্যের পাশাপাশি ফাজারসাহর স্ত্রীও নিখোঁজ আছেন। প্রধান গায়ক বলেন, ‘অনুগ্রহ করে প্রার্থনা করুন, যাতে অ্যান্ডি (ড্রামার), হারমান (গিটারিস্ট), উজ্যাং (কর্মী) এবং আমার স্ত্রীকে খুঁজে পাই।’

এক বিবৃতিতে সেভেনটিন ব্যান্ড জানিয়েছে, সমুদ্রের খুবই কাছে ছিল মঞ্চ। স্রোতে তা ভেসে গেছে। উচ্চমাত্রার স্রোতের আঘাতে সবাই তলিয়ে গেছে।

উপকূলীয় বাসিন্দারা বলছে, তারা আগে থেকে সুনামির কোনো লক্ষণ দেখতে বা অনুভব করতে পারেনি। সুনামির আগে সাধারণত ভূমিকম্প বা স্রোত দুই মিটার উঁচুতে উঠতে দেখা যায়।

শনিবারের সুনামিতে এখন পর্যন্ত মোট ২২২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা। আহত হয়েছে ৮৪৩ জন এবং নিখোঁজ আছে ২৮ জন।

ইন্দোনেশিয়ান মিটিঅরোলজি, ক্লাইম্যাটোলজি অ্যান্ড জিওফিজিক্যাল এজেন্সির (বিএমকেজি) ধারণা, এই সুনামির সৃষ্টি হয়েছে ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সাগরতলে ভূমিধসের কারণে। ফের সুনামি আঘাত হানতে পারে—সে কারণে সুন্দা প্রণালির উপকূলে অবস্থানরত পর্যটক ও স্থানীয়দের ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সৈকত থেকে দূরে থাকতে বলা হচ্ছে।

ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থানের কারণে ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্প হয়। সর্বশেষ গত সেপ্টেম্বরে ভূমিকম্প ও সুনামিতে ইন্দোনেশিয়ার পালু শহরের বালারোয়া ও পেতোবো এলাকায় অন্তত দুই হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। সূত্র : আলজাজিরা, সিএনএন, এএফপি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত