প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নিক্সন ‘হুঙ্কারে দুলছে’ জাফরউল্লাহর নৌকা

আমাদের সময় – ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন) আসনে গতবার বিএনপিহীন নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মজিবুর রহমান নিক্সন। তিনি আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহকে হারিয়ে চমক দেখান। এর পর গত পাঁচ বছরে এখানে শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার আত্মীয় তরুণ এ রাজনীতিক। এবারও দারুণ দাপট দেখাচ্ছেন নিক্সন চৌধুরী।
অবশ্য মাঠে বিএনপির প্রার্থী থাকায় এবার সমীকরণটি জটিল। তার পরও ‘সিংহের হুঙ্কারে দুলছে’ নৌকা। আর এই সুযোগ কাছে লাগাতে চান বিএনপি প্রার্থী। তবে ভোটারসহ সব মহলের প্রশ্ন- ভোটের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কে পড়বেন বিজয়ের মালা।
এদিকে এ আসনে ভোটের মাঠে ক্রমেই উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে বর্তমান স্বতন্ত্র এমপি মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরীর সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কাজী জাফরউল্লাহর সমর্থকদের মাঝে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এর মধ্যে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকটি নির্বাচনী ক্যাম্প ভাংচুর হয়েছে। দুপক্ষের একাধিক মামলাও হয়েছে। নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগও করা হয়েছে। ফরিদপুরের চারটি আসনের মধ্যে সবচেয়ে নির্বাচনী সহিংসতা হয়েছে এ আসনটিতেই।
আর ভোটের মাঠের দুই প্রার্থীর সমর্থকদের এই উত্তাপের সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ইকবাল হোসেন সেলিম। স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সমর্থকদের মাঝে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সুযোগে সেখানে বিএনপির প্রার্থী ব্যাপক নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ আসনটি মূলত আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও ২০০৮ সালে ভাঙ্গার সঙ্গে যোগ হয় সদরপুর-চরভদ্রাসন উপজেলা। চরভদ্রাসন উপজেলাটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এই হিসেবে এ আসনে বিএনপির ভোট বেড়েছে বহুগুণে। গত নির্বাচন বিএনপি বর্জন করায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মজিবুর রহমান নিক্সন। তিনি আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী, প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাকে হারিয়ে দিয়ে চমক দেখান। আওয়ামী লীগ ঘরানার হওয়ায় স্বতন্ত্র এমপি নিক্সনের সঙ্গেই আছেন বেশিরভাগ আওয়ামী লীগ নেতা। ফলে এ আসনে আওয়ামী লীগের ভোট ভাগ হয়ে যাচ্ছে। পক্ষান্তরে গত নির্বাচনে বিএনপির বেশিরভাগ ভোট পান স্বতন্ত্র এমপি নিক্সন চৌধুরী। এবার বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় নিক্সন চৌধুরী বিএনপির অনেক ভোটই পাবেন না। ফলে এ আসনে এবার লড়াই হবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কাজী জাফরউল্লাহ, স্বতন্ত্র প্রার্থী নিক্সন চৌধুরীর সঙ্গে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিমের। এ আসনে এবার বিএনপির প্রার্থী ইকবাল হোসেন সেলিম চমক দেখাতে পারেন বলে ভোটাররা ধারণা করছেন।
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে স্বতন্ত্র প্রার্থী মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী গত পাঁচ বছরের উন্নয়নের ফিরিস্তি নিয়ে ভোট প্রার্থনায় নেমেছেন। অন্যদিকে সরকারের উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরে নৌকায় ভোট চাইছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী। আর আওয়ামী লীগের ‘দুঃশাসনের’ চিত্র তুলে ধরে ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী ইকবাল হোসেন সেলিম। স্থানীয় ভোটাররা জানান, এবারের নির্বাচনে তিন প্রার্থীর মধ্যে বেশ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।

সর্বাধিক পঠিত