Skip to main content

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কর্তব্য

নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব লাভের পর জনপ্রতিনিধির কিছু কর্তব্য রয়েছে। পবিত্র কোরআন এবং হাদিস শরিফ থেকে এ সম্পর্কে কিছু নির্দেশনা তুলে ধরা হলো:

নেতা কঠিন হবে না : ‘হে নবী! আপনি যদি কর্কশবাসী, রুঢ় প্রকৃতির ও কঠোর স্বভাবের হতেন তবে লোকেরা আপনার আশপাশ ছেড়ে চলে যেত।’ (সূরা আলে ইমরান : ১৫৯)

নেতা স্নেহশীল হবে : ‘তোমাদের কাছে এসেছে তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রাসুল। তোমাদের দুঃখ-কষ্ট তাঁর পক্ষে দুঃসহ। তিনি তোমাদের কল্যাণকামী, মোমিনদের প্রতি স্নেহশীল, দয়াময়।’ (সূরা তওবা : ১২৮)

নেতা ধৈর্যশীল হবে : ‘তারা ক্ষতিগ্রস্ত নয়, যারা ঈমান আনে, সৎকাজ করে, পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় ও ধৈর্যধারণে পরস্পরকে উদ্বুদ্ধ করে।’ (সূরা আসর : ৩)

নেতা হবে হিতাকাঙ্খী : জাবের (রা.) বলেন, ‘সাহাবা (রা.) আরজ করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! সাকিফ গোত্রের তীরগুলো আমাদের শেষ করে দিল। আপনি তাদের জন্য বদদোয়া করুন। তিনি এরশাদ করেন, আয় আল্লাহ সাকিফ গোত্রকে হেদায়েত দান করুন।’ (তিরমিজি : ৩৯৪২)

নেতা পরামর্শ করে চলবে : আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) অপেক্ষা অধিক নিজের সাথীদের সঙ্গে পরামর্শ করতে আমি কাউকে দেখিনি।’ (তিরমিজি : ১৭১৪)

নেতা সুসংবাদ শুনাবে : আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘লোকদের সঙ্গে সহজ আচরণ কর এবং তাদের সঙ্গে কঠিন আচরণ করো না। সুসংবাদ শুনাও এবং তাদের বিমুখ করিও না।’ (বোখারি : ৬৯)

নেতৃত্বের লোভ থাকবে না : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তোমরা নেতৃত্বের লোভ পোষণ কর, অথচ কেয়ামতের দিন তা লজ্জার কারণ হবে। কতই উত্তম দুগ্ধদায়িনী এবং কতই না মন্দ পানে বাধাদানকারিণী।’ (অর্থাৎ নেতৃত্বের শুরু দুধপান করার মতো আর শেষ দুধ ছাড়ার মতো কষ্টকর)। রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, ‘আল্লাহর কসম! আমরা এসব বিষয়ে এমন কোনো ব্যক্তিকেই নেতা বানাব না, যে নেতা চায় অথবা তার খায়েশ রাখে।’ (মুসলিম : ৪৭১৭)

সৎ কাজের আদেশ, অসৎ কাজের নিষেধ করবে : জারির বিন আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমি রাসুল (সা.) কে বলতে শুনেছি, নবী করিম (সা.) বলেন, ‘যদি কোনো কওম বা জামাতের মধ্যে কোনো ব্যক্তি কোনো গোনাহের কাজে লিপ্ত হয় এবং ওই কওম বা জামাতের মধ্যে শক্তি থাকা সত্ত্বেও তাকে ওই গোনাহ থেকে বাধা না দেয়, তাহলে মৃত্যুর আগে দুনিয়াতেই তাদের ওপর আল্লাহর আজাব এসে যায়।’ (আবু দাউদ)