প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রচারণায় এখনও বাধা দেওয়ার অভিযোগ ঐক্যফ্রন্টসহ বিভিন্ন দলের

বাংলা ট্রিবিউন :  একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের প্রচারণা চলছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি রাজধানীতে তুমুল প্রচারণা চালালেও রবিবারও (২৩ ডিসেম্বর)জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের প্রচারণা রাজধানীতে অনেকটাই কম দেখা গেছে। কিছু-কিছু এলাকায় বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্টের প্রচারণায় অংশ নিলেও সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা ও মারধরের অভিযোগ করেছেন তারা। এদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা-৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী আফরোজা আব্বাস। সরকারি দলের দুর্বৃত্তরা তার প্রচারণায় তিন দফা হামলা চালায় এবং তাকে পিঠে ও পায়ে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এছাড়াও রাজধানীর বাইরেও ধানের শীষ, বিকল্প ধারা ও ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থীদের প্রচারণায় হামলার অভিযোগ উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট প্রার্থী ও তাদের দলীয় কর্মীদের অভিযোগ, এসব হামলায় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা যুক্ত।

কাছে তিনি দাবি করেন, আজকে প্রচারণায় তিন জায়গায় আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা চালায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। ওরা খুব সাহসী, ওরা বলেছে ওদের ছবি তুললেও সমস্যা নেই। দু’দফায় প্রশাসনের সহযোগিতায় সরাসরি ওদের হামলার শিকার হওয়া এড়াতে পারলেও তৃতীয় দফায় আমার ওপরও আক্রমণ হয়েছে। আমার বাসা একটি মিনি হাসপাতাল হয়ে উঠেছে। মহিলাসহ আহত হয়েছে অন্তত ১৫-২০ জন। আমার পিঠে, পায়ে লাঠির বাড়ি দেওয়া হয়েছে।

আফরোজা আব্বাস জানান, তিনি হামলার বিষয় অবহিত করতে নির্বাচন কমিশনে যাবেন আজ (রবিবার) রাতেই।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার মুগদা এলাকার মানিকনগর পুকুরপাড় এলাকায় মিছিলের পেছন থেকে এ হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। আফরোজা আব্বাস বলেন, হামলাকারীদের চিহ্নিত করতে পেরেছি। তারা হলো, মান্ডা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি শামীম, সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল, মুগদা থানা ছাত্রলীগ সভাপতি রুবেল, সাধারণ সম্পাদক শাম্পু, মুগদা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শামীম হোসেন, মানিকনগর যুবলীগ নেতা জীবন, মুগদা আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া রাজাসহ ২০-২৫ জনের একটি দল।

অন্যদিকে, চট্টগ্রামে হামলা হয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ও কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর. জেনারেল অব. সৈয়দ মুহম্মদ ইব্রাহিমের গাড়ি বহরে। তিনি বলেন, ‘আমার ওপর এবং আমার গাড়ি বহরের ওপর হামলা হয়েছে। চিকনদন্ডি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাথায় আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত, ড্রাইভার আহত, আমি হালকা আহত। লক্ষ্যবস্তু ছিলাম আমি। পাথর ও ইট আমাকে লক্ষ্য করে মারে কিন্তু মিস করে। সঙ্গীদেরকে লক্ষ্য করে যা মারা হয়, সেগুলো তাদেরকে হিট করে। আরও মারার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল, কিন্তু, রাজনৈতিক সহকর্মীরা তড়িৎ গতিতে আমার গাড়িকে ঘিরে ফেলায় আমরা নিরাপত্তা পাই।’

সৈয়দ মুহম্মদ ইব্রাহিম অভিযোগ করেন, ‘হাটহাজারী উপজেলা ফতেহপুর ইউনিয়ন এর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শামীম এর বড় ভাই মোহাম্মদ সেলিম এবং এই নির্বাচনে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ লাঙ্গলের তথা মহাজোটের সমর্থক ছাত্র সংগঠনের শাহ আলম এর নেতৃত্বে একদল তরুণ এই আক্রমণ করে।’

বাসদ মনোনীত বাম গণতান্ত্রিক জোটের প্রার্থী জয়পুরহাট -১ আসনের অধ্যক্ষ ওয়াজেদ পারভেজ, চাঁদপুর-৩ শাহজাহান তালুকদার প্রচারণায় হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে। কেন্দ্রীয় বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান দাবি করেন, ওয়াজেদ পারভেজের জয়পুরহাটের জামালগঞ্জ এলাকায় পথসভাকে লক্ষ করে ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটানো হয় এবং চাঁদপুর সদরে নির্বাচনি প্রচার করার সময় আদালত এলাকায় নারী কর্মীসহ ৩ জনকে মারধর করা হয়। একইসঙ্গে প্রচার মাইক ও মেশিন ভেঙে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

ইসলামী ফ্রন্টের মিডিয়া সেল প্রধান মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম  জানান, ‘রবিবার বিকালে ফটিকছড়ি ভুজপুর কাজিরহাটে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শাহজাদা সৈয়্দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী মাইজভাণ্ডারীর মোমবাতি প্রতীকের নির্বাচনি গণসংযোগকালে গাড়িবহরে সন্ত্রাসী হামলা হয়। এতে ১১জন আহত ও ৪টি গাড়ি ভাঙচুর হয়।’

নোয়াখালী-১ আসনে বিকল্পধারার প্রার্থী, দলটির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার ওমর ফারুক  কাছে অভিযোগ করেছেন, ‘তার এলাকায় তিনি নির্বাচনি প্রচারণায় নামতেই পারছেন না ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বাধার কারণে। তিনি বলেন, ‘আমার প্রচারের কাজে যুক্ত নেতাকর্মীদের বাড়িতে যায় পুলিশ। নেতাকর্মীদের প্রচারণায় নামতেই দিচ্ছে না স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।’ এ বিষয়ে বিকল্প ধারার পক্ষ থেকেও কোনও খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে না বলেও জানান ওমর ফারুক।

রাজধানীতে প্রচারণা চালিয়েছেন জাপার ঢাকা-৪ আসনের মহাজোটের প্রার্থী সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা। লাঙ্গলের পক্ষে প্রচারণা চালানোর জন্য একমঞ্চে উঠেছেন বাবলা, সানজিদা খানম এমপি ও ড. আওলাদ হোসেন। রবিবার ৫২ নং ওয়ার্ড আয়োজিত মুরাদপুরে এক জনসভায় বাবলার একপাশে বসেন সানজিদা খানম এমপি, আরেক পাশে বসেন ড. আওলাদ হোসেন। এদিকে দিনব্যাপী ঢাকা ম্যাচ ও আলমবাগে গণসংযোগ ও প্রচার মিছিল করেন বাবলাপত্নী সালমা হোসেন। ঢাকা-১৭ আসনে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পক্ষে প্রচারণা চালান এস এম ফয়সল চিশতী।

ঢাকা-৬ আসনের মহাজোটের প্রার্থী কাজী ফিরোজ রশিদ রবিবার দিনব্যাপী তার নির্বাচনি এলাকা ৩৮নং ওয়ার্ডের সিলবার্ড স্কুল, কাপ্তানবাজার, ঠাঁটারিবাজার, নবাবপুর রোড, গোয়ালঘাট, জগীনগর রোড ও বিসিসি রোডে গণসংযোগ, প্রচার মিছিল এবং বিভিন্ন পথসভা করেন।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের মধ্যে ঢাকা-১৮ আসনে শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, ঢাকা-১১ আসনে শামিম আরা বেগম, ঢাকা-৪ আসনে সালাউদ্দিন আহমেদ প্রচারণা চালিয়েছেন। তাদের প্রচারণায় কোনও বাধার খবর পাওয়া যায়নি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত