প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দাম্পত্য গল্প…

জুলফিয়া ইসলাম : খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতাব্দী পর্যন্ত এ উপমহাদেশে বিয়ের কোনো রীতি ছিলো না। যেকোনো প্রাপ্তবয়স্ক নর-নারী পরস্পর মিলিত হতে পারতো। এরপর পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় আধুনিক বিবাহ প্রথা চালু হয়। বিয়ের ধরন পাল্টানোর সাথে সাথে যুগের বিবর্তনে মানুষের জৈবিক চাহিদারও পরিবর্তন ঘটতে থাকে। যৌবনে প্রতিটি নর-নারীর মনেই নিজের পছন্দসই একজন স্বামী বা স্ত্রীর ছবি আঁকা থাকে।

পূর্বে মানুষ যৌথ পরিবারে জীবনযাপন করতো। স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ কম হতো। মেয়েরা সন্তান উৎপাদন, লালন-পালন, এবং সংসারে শ্বশুর-শাশুড়ি, দেবর-ননদ এদের দায়িত্ব পালন করতো। সামন্ত যুগে নারীর মূল্য নির্ধারিত হতো বিনিময় মূল্যের ওপর। বর্তমানে নিজেদের পছন্দের ওপর নির্ভর করছে জীবন সঙ্গীকে পাওয়ার।

ইদানীং বিয়ের পর অল্প দিনের ব্যবধানে দম্পতিরা প্রেম বিবর্জিত আকর্ষণহীন এক ভয়াবহ জীবনযাপন করে থাকে। নিত্য নৈমিত্তিক দাম্পত্য জীবনে প্রেমের আবেগে পড়ে যাচ্ছে ভাটা। নিত্যদিনের সংসার জীবন যাপনে অর্থনৈতিক টানাপোড়েন, সামাজিক দুরবস্থা, নৈতিকতার অবক্ষয় দাম্পত্য সম্পর্ককে নষ্ট করে দিচ্ছে। বেড়ে যাচ্ছে দাম্পত্য কলহ।

স্ত্রীর অভিলাষ পূরণে স্বামী যদি ব্যর্থ হয়, তবে পারিবারিক অশান্তি হবেই। সন্তানের অভাবও অনেক স্বামী-স্ত্রীর কলহের কারণ হয়। শ্বশুর বাড়ির আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে যদি সুসম্পর্ক গড়ে তোলা না যায়, তবে তাদের মধ্যে ধীরে ধীরে কলহের বিস্তৃতি অনিবার্য। প্রতিটি মানুষই ব্যক্তি স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। পারিবারিক পরিবেশে যদি তার স্বাধীনতা খর্ব হয়, সেখান থেকেও কলহের উৎস ঘটে।

নিস্তার কই? আছে। ভালোবাসা তো হারানোর জিনিস নয়। ভালোবাসার চর্চা করতে হয়। বড় প্রেম করতে হবে। যে প্রেম বিসর্জন দিতে পারে। অর্থাৎ আমাদের এই দুরূহ জীবনে নিজেদের মধ্যে সংঘাতে না গিয়ে ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। তাহলেই জীবন সুন্দর হবে। নিজের চাহিদাকে কমাতে পারলেই আনন্দ এক সময় উদ্ভাসিত হবে। অভাব আর অনুভূত হবে না, ভালোবাসাকে বিকশিত হবে।

আসলে প্রেম একটা কর্ষিত ফসল। একদিনে এর পরিস্ফুটন হয় না। অপেক্ষা করতে হয় অর্জনের। প্রেম সহজাত অনুভূতি নয়। এটি মানুষের অর্জিত অনুভূতি। এর জন্য চর্চার প্রয়োজন। সমাজে এটি হাজার বছরের মানসিক চর্চার ফসল। হাসি-আনন্দ, দুঃখ-বেদনা, সৌহার্দ-মমতা সর্বোপরি বিশ্বাস ও নির্ভরতার অপর নাম প্রেম।

লেখক : কথাসাহিত্যিক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত