প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নতুন যুগসন্ধিক্ষণ ও দিরাই-শাল্লার রাজনীতি

দীপক চৌধুরী : জগাখিচুড়ি মার্কা আওয়াজ দিয়ে রাজনীতি হয় না। সুনামগঞ্জ-২ এর (দিরাই-শাল্লা) প্রচার অভিযানে এসে গ্রামেও শুনছি বিএনপির এই ভ্রান্ত আওয়াজ। একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দল বিএনপি জনগণের সঙ্গে কতরকম মিথ্যাচার করতে পারে এর  কোনো হিসেব নেই। মানুষের মনে এই ধারণা জন্মে গেছে, সাপকে বিশ্বাস করা যায় কিন্তু বিএনপিকে নয়।  দেখা যাচ্ছে, প্রত্যন্ত গ্রামেও ভোট আদায় করবার মিথ্যা চিত্র। গণসংযোগে নেমে দিরাইয়ের ধলবাজারে  দেখলাম জনগণকে ‘মিথ্যা টেবলেট’ খাওয়ানো সম্ভব হয়নি। বিএনপি বলছে,  ত্রিশ ডিসেম্বর পর্যন্ত নাকি অপেক্ষা করতে হবে। এরপর কী হবে? বাকীটুকু জানতে চাইলে ধানের শীষওয়ালারা চুপ। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে বিভাগীয় শহর, জেলা শহর এমনকি তৃণমূলে পৌঁছেও এই চিত্র দেখছি। ভুক্তভোগীরা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন বিএনপি কী ধাতুর  তৈরি। মনোনয়ন বাণিজ্যে শীর্ষে থাকা বিএনপি নিলামে তুলেছিল দলীয় টিকিট। যিনি পাঁচ কোটি টাকা দিয়ে মনোনয়ন ক্রয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাকে বাদ দিয়ে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা দিতে রাজী সেই লোকটিকে টিকিট দেওয়া হয়েছে। এটা সারাদেশেই।  বিএনপি নেতা তৈমুর আলম খন্দকার, শিল্পপতি শেখ মো. আব্দুল্লাহ, কলিম উদ্দীন মিলন, ইনাম আহমেদ চৌধুরী এমন শত উদাহরণ দেওয়া যাবে। যোগ্যতা সেখানে মূল্যায়ন করা হয়নি। তৈমুর আলম খন্দকার নিজেই ক্ষুব্ধ উচ্চারণ করেছেন, ত্রিশ ডিসেম্বরের পর ‘হাটে হাঁড়ি’ ভাঙবেন। মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে ইনাম আহমেদ চৌধুরী শেষপর্যন্ত আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। বিএনপি জনগণের সঙ্গে শেষমুহূর্তেও প্রতারণা করে আসছে। গ্রামেও  ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপির নেতারা বলছেন ‘সেনাবাহিনী নামুক, এরপর দেখা যাবে?’  কে না জানে, সারাদেশে  সেনাবাহিনী  মোতায়েন করা হবে। তারা ২৪ ডিসেম্বর  থেকে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত স্ট্রাইকিং  ফোর্স হিসেবে কাজ করবে। পরিপত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী, ‘রিটার্নিং কর্মকর্তা সহায়তা চাইলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহায়তা করবেন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। রিটার্নিং কর্মকর্তা বা প্রিজাইডিং কর্মকর্তার চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ভোটকেন্দ্রের  ভেতরে বা  ভোট গণনাকক্ষের শান্তিঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবে সশস্ত্র বাহিনী। সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রয়োজনে ইসির কাজে যাবতীয় সহায়তা  দেবে সশস্ত্র বাহিনী। প্রয়োজনে পরিস্থিতি বিবেচনা বা নির্দেশক্রমে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক-মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এই বাহিনী।’  সেনাবাহিনী বাংলাদেশের জনগণের সম্পদ, এই বাহিনী আমাদের গর্ব, অহঙ্কার। কিন্তু বিএনপি তাদের সম্পর্কে জনগণকে মিথ্যা ম্যাসেজ দিচ্ছে এই পল্লীতেও। দিরাই-শাল্লার এ আসনে নির্বাচনী প্রচারণা এখন জমজমাট। এই এলাকায় বিএনপি প্রার্থীর  কোনো  পোস্টার সাঁটাতে  কেউ বাধা দিচ্ছে না। কোনো ব্যানার টানাতেও না। এরপরও দেখা যাচ্ছে, যে গ্রামেই যাচ্ছি নৌকার আওয়াজ সর্বত্র। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী  শেখ হাসিনার প্রতি দিরাই-শাল্লার গ্রামগঞ্জের জনগণের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। বন্যায় নিঃস্ব হয়ে যাওয়া কৃষক-দিনমজুরেরা ভুলে যাননি নিঃস্বার্থভাবে দেওয়া তাঁর সরকারের  অনুদান। কোনো এলাকায়ই ধানের শীষের আওয়াজ সেরকম নেই। আওয়ামী লীগের নৌকা প্রার্থী সংসদ সদস্য ড. জয়া সেনগুপ্তার জনপ্রিয়তার কাছে ম্লান এখানকার বিএনপি প্রার্থী নাসির চৌধুরীর ধানের শীষ প্রতীক। এক সময় জাতীয় পার্টির নেতা নাসির চৌধুরীর সেই পূর্বেকার ইমেজ বর্তমানে নেই একথা স্মরণ করিয়ে দিলেন কুলঞ্জ ইউনিয়নের তৃণমূলের একদল ভোটার। স্থানীয়ভাবে  নৌকার প্রচারদলে থাকা প্রথিতযশা সাংবাদিক-কলামিস্ট, আইনজীবী, বাউলশিল্পী, শক্তিশালী তৃণমূলের নেতাকর্মী ছাড়াও  সুদুর যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি তোফায়েল আহমেদ চৌধুরীর অংশগ্রহণ নানা কারণেই ভোটারদের আকৃষ্ট করেছে বোঝা যায়। আওয়ামী লীগের ইশতেহারে গ্রামকে শহর করা কিংবা তারুণ্যের অগ্রগতিকে সামনে আনার কথা রয়েছে। ভোটারেরা লুফে নিচ্ছে এই বাস্তবতা। আমার নিজের কথা বলছি। গ্রামে থাকছি না অর্থাৎ বসবাস করছি ঢাকায়।  সবাইকে নিয়ে রাজধানীর বুকে বসবাস করলেও গ্রাম আমাকে ভীষণ টানে। বাড়িতে এসেছি  নৌকার জয়ের জন্য কাজ করছি। বলতে চাই, নিজগ্রামের নিজবাড়িতে যা আছে আমাদের রাজধানীতেও তা আছে। এটাই সম্ভবত উন্নয়ন। ল্যাপটপ চালাতে পারছি,  টেলিভিশনে খবর  দেখতে পাচ্ছি। গ্রামেও  ডিশলাইন ঘরে ঘরে এখন। ঢাকার বুকে চাইলে মনের মতো টিভি চ্যানেল  দেখতে পারি না এখানে এটি উপভোগ করছি। টাটকা মাছ-মাংস, সব্জি পাচ্ছি।  দেশি মুরগী, তাজা খাসি পাচ্ছি। দামও সস্তা। মানুষের খাঁটি আদর, সম্মান ও স্নেহ পাচ্ছি। আমার বাড়ি  পৌঁছুতে এক সময় বাইশ ঘন্টা সময়ের প্রয়োজন হত এখন মাত্র সাত ঘন্টা ব্যয় হয়। বাড়ির উঠোনে গাড়ি আসে শীত মওসুমে। পিছিয়ে থাকা আমার ‘অজপাড়া’ গ্রামের বিরাট পরিবর্তন এসেছে মাত্র দশ বছরে। এটাই বাস্তবতা, এটাই ক্ষমতায়ন। খুব শিগগিরই গ্রাম সত্যিকার অর্থেই শহর হবে। প্রায় দেড়কোটি তরুণভোটারের কথা অবজ্ঞা করার সুযোগ নেই। তাদের কর্মসংস্থানের কথা রয়েছে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে। ধানের শীষের কথার চমক আছে, মিথ্যা কথার, গুজবের ছড়ানোর চমক।

লেখক : উপ-সম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, কলামিস্ট ও ঔপন্যাসিক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত