প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পুলিশের বেতারযন্ত্রে ফাঁস হচ্ছে গোপন তথ্য, সতর্ক হচ্ছে অপরাধী!

ডেস্ক রিপোর্ট: নারায়ণগঞ্জে পুলিশের বেতারযন্ত্রের (ওয়ারলেস) মাধ্যমে গোপন তথ্য পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা। আর এ নিয়ে এখন পুলিশ প্রশাসনে চলছে তোলপাড়। কোনো কোনো পুলিশ সদস্য এ নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতেও পড়েছেন।

সূত্র বলছে, অত্যন্ত তাতপূর্যপূর্ণ পুলিশের বেতারযন্ত্র। এই যন্ত্রের মাধ্যমে জেলা পুলিশ সুপারের গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ পৌঁছানো হয়। যা একযোগে জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্য (যাদের হাতে এই যন্ত্র রয়েছে) সে মেসেজ পেয়ে থাকেন। এসব মেসেজের মধ্যে থাকে নানা ধরণের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। এরমধ্যে যেমন, অভিযান, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ নানা মেসেজই প্রদান করা হয়।

শুধু যে পুলিশ সুপার বার্তা পাঠাচ্ছে তা নয়, স্থানীয় থানা থেকে ওয়ারল্যাস অপারেটররাও সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের কাছে জরুরী বার্তা প্রেরণ করে থাকেন। থানা থেকে যেসব বার্তাগুলো প্রেরণ করা হয় তারমধ্যে অপরাধ সংঘটিন কর্মকান্ড নিবৃত করা এবং অপরাধী গ্রেফতারের বার্তাই থাকে সব থেকে বেশি। কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্য যে, এসব বার্তা সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্য পাওয়ার সাথে তা পৌঁছে যাচ্ছে অপরাধীদের কাছে। আর এতে করে অপরাধীরা আগের থেকেই সতর্ক হয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

এদিকে সূত্র আরও জানায়, জেলায় বেশ কয়েকজ ভিআইপি ব্যক্তি এবং বর্তমান সাংসদসহ প্রার্থীদের নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত রয়েছে পুলিশ সদস্য। তাদের কাছে এই বেতারযন্ত্রটিও রয়েছে। আর এই যন্ত্রের মাধ্যমে আগাম তথ্য পেয়ে যাচ্ছে সংশ্লিস্ট ব্যক্তিরা। এতে করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও পাচার হচ্ছে বলে জানা গেছে। এসব খাবর প্রকাশ পেলে এ নিয়ে জেলা পুলিশের বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্তকর্তা রয়েছেন বিব্রতকর অবস্থায়।

অপরদিকে বিশেষজ্ঞ মহল বলছেন, ভিআইপি হোক বা যা-ই হোক একজন নাগরিকের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব পুলিশ তথা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। পুলিশ সংশ্লিষ্ট দপ্তর যদি মনে করে কারো জীবন ঝুঁকির সম্মুখিন তাহলে তার নিরাপত্তার জন্য পুলিশ সদস্য নিয়োগ দিতে পারে, এটা আইনেও রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে নিয়োগকৃত পুলিশ সদস্য অস্ত্রধারী হতে পারে কিন্তু বেতারযন্ত্র (ওয়ারল্যাস) বহন করাটা অনুচিত। কেননা, এই যন্ত্রের মাধ্যমে প্রেরিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো জনসাধারণের কাছে ফাঁস হয়ে যেতে পারে। আর সেটি হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা পুলিশের জন্যই সমস্যা হবে। ফলে পুলিশের স্বার্থেই এই যন্ত্রটি কারো নিরাপত্তা কাজে থাকা কোনো সদস্যকে ব্যবহার করতে না দেওয়াটাই যথার্থ।

এ প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের মিডিয়া উইং ইন্সপেক্টর সাজ্জাদ রোমন বলেন, ব্যাপারটি আমার জানা নেই। তবে নিরাপত্তা কাজে নিয়োজিত কোনো সদস্যের কাছে কিনা এবং সেটি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ বা তথ্য ফাঁস হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল/ নারায়ণগঞ্জ টুডে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত