প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নারায়ণগঞ্জ ৫ আসন: প্রচারণায় ভিন্ন কৌশল অবলম্বন ধান ও লাঙ্গল প্রার্থীদের

মনজুর আহমেদ অনিক, নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটি জাতীয় পার্টি ও বিএনপির দুর্গ হিসেবেই পরিচিত। ১৯৯১ সাল থেকে এ পর্যন্ত ছয়টি সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপি ৩ বার, আওয়ামীলীগ একবার এবং জাতীয় পার্টি থেকে ২ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এ আসনে ঐক্যফ্রন্ট ও মহাজোট প্রার্থীর মধ্যেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। এ আসনে নির্বাচনে অংশ নেয়া ৮ প্রার্থীরা মধ্যে দুই প্রার্থীই তাদের প্রচারণায় ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন। জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে ঐক্যফ্রন্ট ও মহাজোটের প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক এসএম আকরাম ও মহাজোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টি একেএম সেলিম ওসমান। এই দুই প্রার্থী ৪ লাখ ৪৪ হাজার ১৫৮ জন ভোটারের মনজয়ের চেষ্টায় ব্যস্ত। ২ লাখ ২৬ হাজার ৩২০ জন পুরুষ ও ২ লাখ ১৭ হাজার মহিলা ভোটার নিয়ে এ আসনটি। মহিলা ভোটারের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় দুই প্রার্থীই তাদের প্রচারণায় মহিলা ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন।

এস এম আকরাম বলেন, আওয়ামী লীগের লোক হিসেবে তাকে সবাই জানে। বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথেও তিনি পরিচিত হয়ে উঠছেন। মানুষ পরিবর্তন চায়। কৌশলগত কারণেই তিনি ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছেন।

এসএম আকরামের দাবি, ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। সে নির্বাচনে তাকে সূক্ষ্ম কারচুপির মাধ্যমে হারানো হয়েছিলো। এখন বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে তিনি অনেক বেশি শক্তিশালী।

তিনি বলেন,তাঁর নেতাকর্মীদের নানাভাবে হয়রানি করা, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা ও কর্মীদের ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন। তারপরেও জনগণ ভোট দিতে পারলে বিপুল ভোটে জয়ী হবেন বলে আশাবাদী তিনি।অপরদিকে মহাজোটের প্রার্থী সেলিম ওসমানও পিছিয়ে নেই।

তিনি তাঁর বক্তব্যে বলছেন, ১৯৯৬ সালে এসএম আকরাম আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন। ২০০১ সালেও তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে হেরে যান। এরপর তিনি ২০১৪ সালে উপনির্বাচনেও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হারেন। বিএনপির এতো বড় নেতা থাকতে সেই এসএম আকরাম ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ পান কীভাবে সেই প্রশ্নও রাখছেন সেলিম ওসমান।

অপরদিকে পক্ষে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ মহাজোটের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার জন্য নেমেছেন। তারা প্রতিটি এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে সেলিম ওসমানের পক্ষে ভোট চাইছেন। ২০১৪ সালের উপ-নির্বাচনে এ আসনে এমপি হয়েছিলেন মহাজোটের প্রার্থী সেলিম ওসমান। সেই নির্বাচনে সেলিম ওসমান পেয়েছিলেন ৮২ হাজার ৮৫৫ ভোট এবং তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী এসএম আকরাম পেয়েছিলেন ৬৬ হাজার ১১৮ ভোট।

এ আসনের ভোটারদের স্পষ্ট ভাষ্য, তারা নির্বাচনে সুষ্ঠুভাবে ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে চান। তাদের প্রত্যাশা, নির্বাচনে জয়ী হয়ে যিনি এ এলাকার সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়েন কাজ করবেন তাকেই তারা নির্বাচিত করবেন। সদর-বন্দরের সংযোগ সেতু নির্মাণ, বিভিন্ন ইউনিয়নের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি তাদের বহুদিনের। এসব দাবির সাথে তাঁরা এবারের জনপ্রতিনিধির কাছে শীতলক্ষ্যা নদীকে দূষণের হাত থেকে রক্ষার দাবি রেখেছেন। নারায়ণগঞ্জকে যিনি সন্ত্রাস ও মাদক ও গুম-খুনের ট্রানজিট থেকে মুক্ত করতে পারবেন তাকেই এবার নির্বাচিত করবেন তাঁরা এমন অভিমত ভোটারদের।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত