প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাজারদরের চেয়ে ডলারের সরকারি মূল্য কম বিপিসি’র এলসি খুলছে না কোনো ব্যাংক

আবু বকর : বাজারদরের চেয়ে ডলারের সরকারি মূল্য কম হওয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) জ্বালানি তেল আমদানির এলসি খুলতে চাইছে না। কারণ বিপিসির একেকটি এলসি খুলতে ব্যাংকের প্রয়োজন হয় ২৫ থেকে ৩০ মিলিয়ন ডলার। ফলে বিপিসি’র এই বিশাল অঙ্কের এলসির বিপরীতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে লোকসানের সম্মুক্ষিন হতে হয়। এ কারণে ডলার সংকটের কথা বলে সকল ব্যাংক বিপিসির এলসি খোলা থেকে বিরত থাকছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় গত নভেম্বর মাসে বিপিসি’র এলসি খোলার জন্য রাষ্ট্রায়ত্ব সোনালী, জনতা, অগ্রণী এবং রূপালী ব্যাংককে ৫০০ মিলিয়ন ডলার দেয়া হয়েছিলো। ব্যাংগুলো এই ডলার বিপিসি’র এলসি না খুলে অন্য ব্যাবসায় বিনিয়োগ করছে এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্ট চার ব্যাংকে বিশেষ অডিট পরিচালনা করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ এন্ড ট্রেজারী ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের মহাব্যাবস্থাপক কাজী রফিকুল হাসান জানান, অডিটে কোন অনিয়ম ধরা পড়েনি।

বিপিসি’র অভিযোগ, ডলারের সংকটের কথা বলে বিদেশি খাতের স্টান্ডার্ড চার্টার্ড, এইচএসবিসি ও সিটি ব্যাংক এনএ এবং বেসরকারি খাতের ওয়ান ব্র্যাক ও প্রাইম ব্যাংক প্রায় ছয় মাস তাদের এলসি খোলা থেকে বিরত আছে। আগস্ট থেকে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ এলসি খুললেও বর্তমানে তারাও অপারগতা প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে আর্থিক ক্ষতির কথা বলে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোও তাদের এলসি খুলতে অনীহা প্রকাশ করছে এবং এলসি খুলতে ডলারের বাজার মূল্য দাবি করছে। এতে জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব বরাবর চিঠি পাঠান বিপিসির চেয়ারম্যান মো. সামছুর রহমান। এর পরিপ্রেক্ষিতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে কোনো ডলার সংকট নেই। তিন থেকে চার মাস আগে ডলার সংকট থাকলেও এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। তারপরেও ব্যাংকগুলো বিপিসির এলসি খুলছে না কেন সেটি আমি বলতে পারব না। তবে বাজারে এখন ডলারের কোনো সংকট নেই। তাছাড়া ডলারের যদি কোনো সংকট থাকত তবে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা সেটা বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাত।
বিপিসির চিঠিতে বলা হয়, বিপিসি রাষ্ট্রায়ত্ত এবং বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে জ্বালানি তেল আমদানি করে সরকার নির্ধারিত হ্রাসকৃত মূল্যে সারা দেশে সরবরাহ করে থাকে। এ রাষ্ট্রীয় গুরুদায়িত্ব পালনে ব্যাংকগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিপিসিকে জ্বালানি তেল আমদানি ও অর্থায়নে সর্বাঙ্গীন সহায়তা প্রদান করে আসছে। তবে পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে বিদেশি খাতের এইচএসবিসি, স্টান্ডার্ড চার্টার্ড ও সিটি ব্যাংক এনএ এবং বেসরকারি খাতের ব্র্যাক, ওয়ান ও প্রাইম ব্যাংক ডলার সংকট উল্লেখপূর্বক এলসি খোলা থেকে বিরত আছে। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ আগস্ট থেকে একটি করে এলসি খুলে এলেও বর্তমানে তারাও এলসি খুলতে পারবে না মর্মে বিপিসিকে অবহিত করে।

অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক জ্বালানি তেলের এলসি খুলে এলেও তাদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে মর্মে ডলারের বাজার মূল্য দাবি করছে। এছাড়া বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো অন্য উৎস হতে বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করতে না পারায় এবং বাংলাদেশ ব্যাংক হতে চাহিদামতো বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহ না করায় প্রায় প্রতিটি এলসির পেমেন্ট ও ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইটিএফসি) রিপেমেন্ট সময়মতো করছে না। প্রতিটি পেমেন্টেই ব্যাংকগুলো ১০ থেকে ১২ দিন বিলম্ব করছে। এতে তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে বিলম্বজনিত চার্জ এবং কার্গোর ফাইন্যান্সিয়াল হোল্ডের কারণে ড্যামারেজ দিতে হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং দেশে জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এমন অবস্থায় চিঠিতে জ্বালানি তেল আমদানির চলমান প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে এবং যথাসময়ে আইটিএফসির ঋণ পরিশোধ, এলসি খোলা ও এলসি মূল্য পরিশোধের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের মাধ্যমে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ করা হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত