প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘ভাতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেকারকে ‘উৎসাহিত’ করা হয়েছে’

সাব্বির আহমেদ : রাজনৈতিক দলগুলোর ঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহারের বিভিন্ন বিষয়ের সমালোচনা করে কয়েকটি দাবি জানিয়ে শিক্ষা ও গবেষণাভিত্তিক সংগঠন ‘মুভমেন্ট ফর ওয়ার্ল্ড এডুকেশন রাইটস’। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দেওয়া বেকার ভাতা প্রদানের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে সংগঠনটি বলেছে, তরুণরা এ রকম প্রতিশ্রুতি প্রত্যাশা করেনি। তারা চায় বেকার সমস্যার সমাধান। বেকার ভাতা দেওয়ার কথা বলে বেকার শব্দটিকে ‘উৎসাহিত’ করা হয়েছে। রোববার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে ‘নির্বাচিত সরকারের কাছে তারুণ্যের ইশতেহার’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এ কথা বলেন।

লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের আহবায়ক ফারুক আহমাদ আরিফ বলেন, বিশেষ করে আমরা আওয়ামী লীগ ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনি ইশতেহার নিয়ে গবেষণা করেছি। তফাৎ খুঁজেছি। খুব একটা ফারাক নেই। ইশতেহারে দুয়ো জোটই তারুণ্যভিত্তিক ইশতেহারের কথা বললে আদতে তা ফুটে উঠেনি। তরুণদের অনেক চাওয়ার বিষয়গুলো আমলে নেয়নি কোনও দলই।

তিনি বলেন, ইশতেহারে সবাই শিক্ষাখাতে আমূল পরিবর্তনের কথা বলেছেন, কিন্তু কোন প্রক্রিয়ায় তা করবে- তার বিস্তারিত কিছু নেই। নির্বাচিত সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে জনগণকে সরকারি চিকিৎসামুখী করে তোলার ব্যবস্থা নেবে। কেননা গ্রামে এখনও ভালো চিকিৎসক না থাকায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সরকারি চিকিৎসায় আস্থা নেই।

সংগঠনের সদস্য ও স্থপতি মারুফ আহমেদ বলেন, সংবিধানের ১৬ অনুচ্ছেদে নগর ও গ্রামের বৈষম্য দূর করার বিষয়টি মহাজোটের চিন্তাটি প্রশংসনীয়। তবে গ্রামকে শহরে পরিণত করা কোনভাবেই ঠিক হবে না। সকল গ্রামকে শহর বানিয়ে ফেলার প্রতিশ্রুতি আওয়ামী লীগের ভুল সিদ্ধান্ত হবে। কারণ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কখনোই চাননি গ্রামকে শহর বানাতে। তিনি গ্রামকে আধুনিকায়নের কথা বলেছেন। কেননা গ্রাম ও শহরের অবকাঠামো দুই রকম।

ইশতেহারে আওয়ামী লীগ বলেছে, ফের ক্ষমতায় গেলে ঢাকায় নতুনভাবে খাল খনন করবে। কিন্তু খননের প্রশ্ন আসছে কেনো? বহু বেদখল খাল উদ্ধারের কোনও পরিকল্পনা নেই। আগে এসব পুনরুদ্ধারে জোরালো কর্মতৎপরতা চালাতে হবে।  সংগঠনটির দাবি, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে দুই দলই সাপে নেউলে অবস্থানে রয়েছে। কিন্তু আদৌ সমাধান আসবে কি না- তরুণরা সন্দিহান। গণমাধ্যমে চাকরির কোনও কার্যকর নীতিমালা গ্রহণের উদ্যোগ নেই। কাগজে উভয়েই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের কথা বললেও কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি অস্পষ্ট।

তাদের প্রত্যাশা, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস উদঘাটন করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ণসহ মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান-মর্যাদা বৃদ্ধিতে যুগোপযুগী পদক্ষেপ নেয়া। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী অনার্স পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা। ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে ‘মনিটরিং সেল’ গঠন। যে সেল ইশতেহারের বাস্তবতা পর্যবেক্ষণ করে রিপোর্ট করবে।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত