প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জামায়াতে ইসলাম নেই, বিএনপি কি অস্তিত্ব সংঙ্কটে?

সমীরণ রায় : ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর ছিল নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ। যদিও নির্বাচনী ইশতেহারে যুদ্ধাপরাধীর বিচারের কথা বলে আওয়ামী লীগ ব্যাপক সমর্থন পায় প্রবীণ-তরুণ ভোটারদের। সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট। ইশতেহার অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে আওয়ামী লীগ। মুষ্টিমেয় কয়েকজন ছাড়া ইতোমধ্যে ডাকসাইটের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে। ফলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ স্বস্তি পেয়েছেন।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশ উৎসবমুখর। তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে বিপত্তি দেখা দিয়েছে যুদ্ধাপরাধীর রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামকে নিয়ে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) জামায়াতে ইসলামের নিবন্ধন বাতিল করলেও এখনও নিষিদ্ধ হয়নি।

সঙ্গত কারণে, জামায়াতে ইসলামের দাড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। যদিও বিএনপির নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট হয়েছে। তাই নিবন্ধন বাতিল না হলেও দাড়িপাল্লায় হয়তো জামায়াতে ইসলামের প্রার্থীরা নির্বাচন করতেন না। দলটির প্রার্থীরা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, জামায়াত ইসলামের দলকে নিয়ে।

সম্প্রতি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জামায়াতে ইসলাম বলে কোনো কিছু নেই। সবাই এখন বিএনপির ধানের শীষে। তাহলে কি দেশ থেকে জামায়াত ইসলাম হারিয়ে গেলো? এমন প্রশ্ন সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে। যুদ্ধাপরাধীর দায়ে ফাঁসি হওয়া আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল ছিলেন।

সেখানে ২০১৬ সালের ৩১ অক্টোবর জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল পদে স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ডা. মো. শফিকুর রহমান। তিনি ঢাকা-১৫ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। তাহলে ডা. মো. শফিকুর রহমান কি জামায়াতে ইসলামের কেউ নন। নাকি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী হওয়ায় জামায়াতে ইসলামের নাম ধুয়ে মুছে গেছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে গণফোরাম, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, জাসদ, নাগরিক ঐক্যসহ অনেক রাজনৈতিক দল রয়েছে। তাহলে কি তাদের অস্তিত্বও নেই? তবে জামায়াতে ইসলামের শুধু ডা. শফিকুর রহমানই নয়, আরও ২৫জন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। যারা ধানের শীষের মনোনয়ন পেয়েছেন, তারা প্রত্যেকেই জামায়াতের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। এমনকি ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগে কেউ জামায়াত থেকে পদত্যাগও করেননি। আবার যোগও দেননি বিএনপিতে। তারপরেও জামায়াত প্রার্থীদের দলীয় পরিচয় অস্বীকার করছে বিএনপি।

৯ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনে (ইসি) পাঠানো বিএনপির চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের স্বাক্ষর করা চূড়ান্ত মনোনয়ন তালিকায় (স্মারক নং: জাসনি/বিএনপিসিপিও/০২ তারিখ: ৯ ডিসেম্বর, ২০১৮) জামায়াত নেতাদের দলের নাম লেখা হয়েছে বিএনপি! ২২ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনে গিয়ে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর কোনো প্রার্থী নেই। যারা ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন, তারা বিএনপির মনোনীত প্রার্থী। জামায়াত তাদের মনোনীত করেনি, বিএনপি মনোনীত করেছে। ৯ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, এখানে জামায়াত নেই, সব বিএনপি।

২১ ডিসেম্বর বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, জামায়াত নামের কোনো সংগঠনকে ধানের শীষ প্রতীক দেওয়া হয়নি। তাহলে কি ভোটের মাঠে জামায়াতের অস্তিত্বকে অস্বীকার করা বিএনপির কোনো রাজনৈতিক কৌশল? এমন প্রশ্ন কিন্তু রয়েছে। নাকি বিএনপির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে জামায়াতকে ছাড়তে পারছে না। তাহলে কি বিএনপি অস্তিত্ব সংঙ্কটে পড়েছে! তাহলে বিএনপি কেন যুদ্ধাপরাধীর দল জামায়াত ইসলামকে পুষে রাখছে? যেহেতু জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল হয়নি তাই তাদের অস্তিত্ব অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত