প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাজনৈতিক দলগুলো ইশতেহার দিলেও তা মনে রাখে না- সুজন

মো. ইউসুফ আলী বাচ্চুঃ রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিবছরই নির্বাচনী ইশতেহার দেয়, কিন্তু কেউ তা মনে রাখে না উল্লেখ করে সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজন সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেছেন, ‘বর্তমান আওয়ামী লীগের যে নির্বাচী ইশতেহার আছে, তাতেও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তারা গত ১০ বছরে করেননি কেন? এমন তো না যে তাদের দেশ শাসনে বাধা ছিল। এমন প্রশ্ন মানুষের মনে আসে। তবুও আশার কথা এখন নতুন করে তারা ইশতেহার দিয়েছে।’রোববার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮ উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘কোন দলের কেমন ইশতেহার?’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

বর্তমান নির্বাচন কমিশনের উপর মানুষের আস্থার অভাব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে সহিংসাতর বিষয়ে আমরা আপনারা সবাই উদ্বিগ্ন। আমরা চাই নির্বাচন কমিশন আরও একটিভ হোক। এজন্য কমিশন, রাজনৈতিক দল ও সরকারের স্বদিচ্ছাও প্রয়োজন। আমরা আশা করি নির্বাচনী মাঠ সমান হয়ে যাবে। সেনাবাহিনী মোতায়েন হলে কিছু পরিবর্তন হতে পারে।’

অনুষ্ঠানে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘ভোটের মাধ্যমে যদি সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয় তার জন্য অনেকগুলো সংস্কার ও পরিবর্তনের সৃষ্টি করতে হবে। রাজনৈতিক দলের আচরণে পরিবর্তন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন থেকে আরম্ভব করে আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের মধ্যে একতা ও পরষ্পর শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে। তবে যারা অন্যায় করেছে, দোষ করেছে তাদের কঠোর শাস্তি হতে হবে।

জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট যুদ্ধাপরাধের বিচার চলমান রাখার যে অঙ্গিকার করেছেন তা কতটুকু সম্ভব? এমন প্রশ্নের জবাবে সুজন সম্পাদক বলেন, ‘এটা ভালো একটি অঙ্গিকার। ইতিবাচক। বাস্তবায়ন হবে কি না তা বলাতে হলে আমাকে জ্যোতিষী হতে হবে। এটা সম্ভবও না, এটা বলা সমুচিনও হবে না। তবে তা কতটুকু বাস্তবায়ন সম্ভব তা দেখার বিষয়।’

নির্বাচনে সাংবাদিকদের জন্য নির্বাচন কমিশনের সাংবাদিক নীতিমালার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি সাংবাদিকদের প্রতিবন্ধকতার পরিবর্তে সহায়তা দেওয়া উচিৎ। তাহলে নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরের পরিবেশ সৃষ্টি হবে। আমরা কমিশনের কাছে আহ্বান করবো তারা যেন সবাইকে সহায়তা দেন।’ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে এটা ইতিবাচক। তবে দলের পাশাপাশি এতে ভোটারদের অংশগ্রহণ না হলে অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচন হবে না বলেও মন্তব্য করেন ড. বদিউল আলম মজুমদার।

নির্বাচন উপলক্ষ্যে সবদলের ইশতেহার বিষয়ে লিখিত বক্তব্যে সুজন বলেছে, অতীতের ন্যায় নির্বাচনী ইশতেহার যেন নিতান্তই কথার ফুলঝুরিতে পরিণত না হয়। আমরা আশা করেছিলাম দলগুলো তাদের ইশতেহার বাস্তবায়নে একটি কর্ম-পরিকল্পনার রূপরেখা দেবে। তবে ইতিবাচক বিষয় হচ্ছে ইশতেহারে অনেক ক্ষেত্রে ঐক্যমত, রাজনৈতিক দলঘুলোর ভেতরে ঐক্যের সম্ভাবনা, বিকেন্দ্রীকরণ ও বৈষম্য নিরসনের প্রতিশ্রুতি এবং প্রান্তিক ও অবহেলিত গোষ্ঠীবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। এই দিকগুলো আগামীতে গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় বুনিয়াদ সৃষ্টি করতে পারে, যদি রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের পর তাদের ইশতেহারকে মনে রাখে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত