প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এটি একটি পারিবারিক আয়োজন

অনলাইন ডেস্ক : আচরণবিধি লঙ্ঘন করে কক্সবাজার-৪ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শাহীন আক্তারের অভিনব নির্বাচনী পোস্টার। ছবি: সংগৃহীতআচরণবিধি লঙ্ঘন করে কক্সবাজার-৪ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শাহীন আক্তারের অভিনব নির্বাচনী পোস্টার। খবর প্রথম আলো।

টেকনাফ বাজার হয়ে উখিয়া, এমনকি সেন্ট মার্টিন দ্বীপ—সর্বত্রই ছেয়ে আছে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শাহীন আক্তারের পোস্টার আর ব্যানার। তবে দেশের অন্য এলাকাগুলোর চেয়ে এই প্রার্থীর পোস্টার অন্য রকম। কক্সবাজার-৪ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাওয়া শাহীন আক্তারের ব্যানার ও পোস্টারে তাঁর নামের পাশে ব্র্যাকেটবন্দী অবস্থায় থাকছে বিভিন্নজনের নাম।

অনেক পোস্টারে লেখা এমপি আবদুর রহমান বদির সহধর্মিণী, কোনোটায় লেখা আছে উখিয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম নুরুল ইসলাম চৌধুরী (প্রকাশ ঠান্ডা মিঞার) সুযোগ্য কন্যা। একাধিক ব্যানারে শাহীন আক্তারের পাশে লেখা এমপি বদির বউ। পোস্টার-ব্যানারে স্বামী আবদুর রহমান বদির বড় আকারের ছবিও রয়েছে। একটি পোস্টারে দেখা গেল ছেলে শাওন আরমানের ছবি। তাতে লেখা, ‘শাহীন আক্তার (আমার আম্মুকে) নৌকা মার্কায় ভোট দেন’। শাহীন আক্তার এখানে হয় বধূ, নয় মাতা অথবা কন্যা। পুরোটাই যেন একটা পারিবারিক আয়োজন।

শাহিন আক্তার আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নতুন, তবে সারা দেশেই তিনি আলোচিত। ইয়াবা-বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগে বর্তমান সাংসদ আবদুর রহমান বদিকে মনোনয়ন না দিয়ে প্রার্থী করা হয় তাঁরই স্ত্রী শাহীন আক্তারকে। মুখে মুখে টেকনাফ-উখিয়ায় এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক চলছিল। তবে ব্যানার ও পোস্টারে এই প্রার্থী স্বামী, সন্তান ও পিতার নাম ব্যবহার করে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন এ নিয়ে প্রথম আলোকে বলেন, ‘পোস্টার ও ব্যানারে একজন প্রার্থীকে তাঁর ভোটার তালিকায় যে নাম আছে, সেই নাম ব্যবহার করতে হবে। আমি যতটুকু জানি, শাহীন আক্তারের নামের পাশে এমপি বদির বউ পরিচয়টি থাকার কথা না। নির্বাচনী প্রচারে এভাবে সাংসদ স্বামী, প্রভাবশালী পিতা ও সন্তানের নাম ব্যবহার করা নির্বাচনের আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আর যিনি একজন সম্মানিত সাংসদ হওয়ার জন্য প্রার্থী হয়েছেন, তাঁকে কেন অন্যের পরিচয়ে পরিচিত হতে হবে?’ এ ব্যাপারে শাহীন আক্তারের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার ভক্তরা বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে এ ধরনের পোস্টার-ব্যানার লাগাতে পারেন। আর আপনারা শুধু এগুলো দেখেন। আমরা নিজেরা যে পোস্টারগুলো লাগিয়েছি, সেগুলো নির্বাচন কমিশনের আইন মেনেই করা হয়েছে। ভক্তরা কিছু করলে তাতে আমাদের তো কিছু করার নেই।’

শুধু পোস্টার ও ব্যানারে নয়, নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণাতেও শাহীন আক্তারের সমর্থকেরা প্রতিদিনই আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন বলে এলাকার অনেকেই অভিযোগ করলেন। টেকনাফ ও সেন্ট মার্টিনে সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মাইকে বিকট শব্দে প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চলছে। ভ্যানের মধ্যে মাইকে করে দিনরাত বাজছে প্রচারণার গান।

এসব প্রচারণা নির্বাচনের আচরণবিধির সঙ্গে কতটুকু সামঞ্জস্যপূর্ণ, জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ ধরনের প্রচারণা আচরণবিধির লঙ্ঘন কি না, তা আমি খতিয়ে দেখছি। এমন কিছু হলে অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা নেব।’

তবে টেকনাফ-উখিয়ার ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণা খুব একটা দেখা যায়নি। কোনো মিছিলও চোখে পড়েনি। গত এক সপ্তাহে টেকনাফ ও উখিয়ার বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার হওয়ার পর ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা কমে গেছে। দলটির বেশির ভাগ নেতা-কর্মী বাড়িতে থাকছেন না বলে দলটির নেতারা বলেছেন।

কেবল পোস্টার-ব্যানার নয়, বদির একটি বক্তব্য নিয়েও খুব আলোচনা হচ্ছে। ১৮ ডিসেম্বর এক নির্বাচনী জনসভায় বদি বলেছিলেন, কক্সবাজারের অনেক বদনাম রয়েছে, এখান থেকে নাকি ইয়াবা সারা দেশে সরবরাহ হয়। এ ইয়াবা সরবরাহ বন্ধ করতে হবে। যারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের শাস্তি পেতে হবে। তাদের কোনো রকমের রেহাই দেওয়া হবে না। ইয়াবা ব্যবসায়ী এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকদের ভোট দেবেন না। এ সময় তিনি আরও বলেছিলেন, মাদক একেকটা পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়। এ মাদকের ছোবলে মানুষের জীবন শেষ হয়ে যায়। মানুষ যখন মাদক সেবন শুরু করে, সে পুরুষত্ব হারায়, সে তার চিন্তাশক্তি হারায়, সে অসুস্থ হয়ে অকালে মৃত্যুবরণ করে। কোনো মা-বাবা চান না যে তাঁদের সন্তান অকালে মৃত্যুর পথে চলে যাক।

চলতি বছরের জুন মাসেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের করা ৭৩ প্রভাবশালী ইয়াবা কারবারির (গডফাদার) তালিকায় সাংসদ আবদুর রহমান বদির নাম ছিল। নির্বাচনের সময় তাঁর এই বক্তব্য এখনো এলাকাবাসীর মুখে মুখে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত