প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশে বাড়ছে সহিংসতা

এস এম নূর মোহাম্মদ : আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। তবে ভোটের আমেজে আনন্দের পরিবর্তে আতঙ্ক বিরাজ করছে সবার মাঝেই। ভোটাররাও নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন কি না তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। এমনকি একজন নির্বাচন কমিশনারও মনে করেন নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই।

সরকার দলীয় প্রার্থীরা নির্বিগ্নে নির্বাচনী প্রচার চালালেও হামলার শিকার হচ্ছেন বিএনপি-জামায়াতসহ ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা। এরই মধ্যে হামলার শিকার হয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড.মঈন খান, মির্জা আব্বাস, আফরোজা আব্বাস, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, রেজা কিবরিয়া, অধ্যাপক আবু সায়ীদ, সুব্রত চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা। এমনকি শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসে শ্রদ্ধা জানানো শেষে ফেরার পথে হামলার শিকার হন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড.কামাল হোসেনও। এর বাইরেও অনেক প্রার্থী হামলার শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকার দলীয়রা সারাদিন প্রচার-প্রচারণা চালালেও মাঠে নামতে পারছেনা এক্যফ্রন্টের নেতা-কর্মীরা। এরইমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে কয়েক হাজার নেতা-কর্মীকে। আবার অনেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন গ্রেফতার এড়াতে। কেউ বাড়িতে থাকলেও ভয়ে নির্বাচনী কোন কাজে অংশ নিচ্ছেন না। এমনকি ধানের শীষের পোস্টার লাগাতেও ভয় পাচ্ছেন নেতা-কর্মীরা। রাজধানীর দু-একটি এলাকায় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা লোকজন নিয়ে প্রচারে বের হলেও কোথাও কোন পোস্টার চোখে পড়ছে না। বেশিরভাগ নেতারা ঘরোয়া বৈঠক করলেও মাঠে নামতে ভয় পচ্ছেন। এরইমধ্যে ধানের শীষ প্রতীকের ১১ প্রার্থীকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর বাইরে অনেকে প্রার্থী হয়েও গ্রেফতার আতঙ্কে রয়েছেন।

এদিকে নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় সারাদেশে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের ১৫০ জন প্রার্থীর ওপর আওয়ামী লীগের লোকজন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হামলা করেছে বলে দাবি করেছে দলটি। সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতে এসব হামলাগুলো হয়। সব আসনে বিএনপি প্রার্থীর পোস্টার লাগাতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। গণ গ্রেফতার চলছে ৩০০ আসনেই।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, সহিংসতা রোধে নির্বাচন কমিশনকেই মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। কমিশনকে নিরপেক্ষ আচরণ করতে হবে। আর ইচ্ছে করলে পুলিশই সহিংসতা বন্ধ করতে পারে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে হামলার ঘটনা কমে যাবে বলে জানান তিনি। মনজিল মোরসেদ বলেন, যে প্রার্থীর লোকজন সহিংসতা করছে তার প্রার্থীতা বাতিল করা যেতে পারে। তাহলে অন্যরাও সতর্ক হবে বলে মনে করেন সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী।

সুপ্রিম কোর্টের অপর আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকেই পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচন কমিশনের অধিনে। মূলত সহিংসতা রোধ করে নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারকেই ভূমিকা পালন করতে হবে। সিইসি আসলে তার কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হচ্ছেন। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন এই আইনজীবী।

বর্তমান অবস্থা চলতে থাকলে বিএনপিও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে বলে জানিয়েছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক। এরইমধ্যে বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস বলেছেন, হামলা করতে আসলে আর পিঠ পেতে না দিতে। বিএনপি জোট পাল্টা জবাব দিতে শুরু করলে সারা দেশেই সহিসংসতা চরম আকার ধারণ করতে পারে বলে ধারনা করছেন বিশ্লেষকরা। তাই সুষ্ঠু নির্বাচন চাইলে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

যদিও ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে অনেক আগেই বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি তোলা হয়েছে। এমনকি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকেও বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনামোতায়েনের দাবি জানানো হয়। তবে ২৪ ডিসেম্বর থেকে সারা দেশে সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত