প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ট্রাম্পের ‘আবদারে’ আংশিক অচল মার্কিন সরকার

কালের কন্ঠ  :  প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৫০০ কোটি ডলারের ‘বায়না ধরায়’ যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার আংশিক অচল হয়ে পড়েছে। মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর নির্মাণের জন্য এ অর্থ চাইছেন তিনি। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেস সদস্যরা ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে শুক্রবার থেকে এ অচলাবস্থা তৈরি হয়। চলতি বছর এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হলো।

আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালনার জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন বরাদ্দের প্রস্তাবে গত বুধবার অনুমোদন দেয় পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস)। কিন্তু মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর নির্মাণের জন্য ৫০০ কোটি ডলার ওই বরাদ্দে অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এ নিয়ে ট্রাম্পের দল থেকে (রিপাবলিকান) নির্বাচিত পার্লামেন্ট সদস্যদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এর মধ্যে ট্রাম্প শর্ত দিয়ে বসেন, ৫০০ কোটি ডলার অন্তর্ভুক্ত না করা পর্যন্ত তিনি ওই বরাদ্দে স্বাক্ষর করবেন না।

নিয়ম অনুযায়ী, সরকারের খরচসংক্রান্ত যেকোনো বিল নিম্নকক্ষের অনুমোদন পেতে হলে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন লাগবে। বর্তমানে নিম্নকক্ষে ট্রাম্পের দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। তবে সদ্যঃসমাপ্ত মধ্যবর্তী নির্বাচনে হেরে যাওয়ায় জানুয়ারিতে নিম্নকক্ষের আধিপত্য চলে যাবে ডেমোক্র্যাটদের হাতে।

ট্রাম্পের জোরাজুরিতে শেষমেশ অন্তর্বর্তীকালীন বরাদ্দে ৫৭০ কোটি ডলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরই মধ্যে তা পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে পাসও হয়েছে। কিন্তু প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর নেওয়ার আগে প্রস্তাবটি অন্তত ৬০ ভোটে সিনেটে (পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ) পাস হতে হবে। সেখানে রিপাবলিকানদের দখলে রয়েছে মাত্র ৫১টি আসন। অর্থাৎ সিনেটের অনুমোদন পেতে হলে বেশ কয়েকজন ডেমোক্র্যাটের সমর্থন লাগবে। এ নিয়ে গত শুক্রবার উভয় দলের সিনেট সদস্যরা আলোচনায় বসেন। কিন্তু কোনো সমঝোতা না হওয়ায় স্থানীয় সময় অনুযায়ী শুক্রবার থেকে কেন্দ্রীয় সরকার আংশিক অচল হয়ে পড়ে। অচল হয়ে পড়া বিভাগের মধ্যে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, পরিবহন, কৃষি, পররাষ্ট্র ও বিচার বিভাগও রয়েছে। এখন এসব বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরবর্তী বাজেট না হওয়া পর্যন্ত বেতন ছাড়াই কাজ করে যেতে হবে। এ ছাড়া অস্থায়ীভাবে ছুটিতে পাঠাতে হবে তিন লাখ ৮০ হাজার কর্মীকে। তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, সীমান্ত টহল, মেইল ডেলিভারি সার্ভিস ও বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে।

এদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের অচলাবস্থার জন্য ডেমোক্র্যাট সিনেটরদের দোষারোপ করেছেন ট্রাম্প। এক টুইটার বার্তায় তিনি বলেন, ‘রিপাবলিকানদের এখন আর কিছু করার নেই। অচলাবস্থা থেকে উদ্ধারের বিষয়টি এখন ডেমোক্র্যাটদের ওপরই নির্ভর করছে।’

ট্রাম্প কেন প্রাচীরের পক্ষে

ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে অন্যতম একটি ছিল মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর নির্মাণ। অবৈধ অভিবাসীদের প্রবেশ ঠেকাতে এ প্রাচীর নির্মাণ করতে চান তিনি। গত শুক্রবার এক টুইটার বার্তায় তিনি ওই প্রাচীরের একটি নকশাও প্রকাশ করেন। এ ছাড়া অভিবাসী ইস্যু নিয়ে তিনি একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। সঙ্গে বলেছেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রে শত্রুদের অনুপ্রবেশ চাই না। এ জন্য যে যা-ই বলুক না কেন, সীমান্তে প্রাচীর ও শক্তিশালী নিরাপত্তাব্যবস্থার বিকল্প নেই।’ শুরুর দিকে ট্রাম্প বলেছিলেন, প্রাচীর নির্মাণের অর্থ মেক্সিকোর কাছ থেকেও নেওয়া হবে। যদিও মেক্সিকো সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত