প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডিসিদের নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ, উড়ো চিঠির সন্ধানে গোয়েন্দারা

বাংলা ট্রিবিউন  :  দেশের কয়েক জেলার জেলা প্রশাসককে (ডিসি) ভয়ভীতি দেখিয়ে বেনামি চিঠি পাওয়ার পর সারা দেশেই ডিসি ও তার পরিবারের অপরাপর সদস্যদের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একইসঙ্গে এই উড়ো চিঠির সন্ধানে নেমেছে দেশের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। ইতোমধ্যেই জেলা প্রশাসকদের কাছে হাতে লেখা চিঠিগুলো গোয়েন্দা দফতরে পাঠানো হয়েছে। তারা চিঠির ভাষা ও হাতের লেখাগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা করছেন। গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা, নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কারণেই দেশের বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসককে ভয় দেখানোর জন্য এ ধরনের হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল  জানিয়েছেন, সারা দেশের ডিসিসহ যারাই নির্বাচনি কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তাদের ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। এরই মধ্যে জেলা প্রশাসকসহ নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানান, নির্বাচন যতো ঘনিয়ে আসছে, সারাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ততোই বাড়ানো হবে। যারা ২০১৩-২০১৪ ও ২০১৫ সালে দেশে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ করেছিল সেই মহলটি এখনও সক্রিয়। তারা যে কোনও উপায়ে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করবে, যা খুবই স্বাভাবিক। তাই সরকারের পক্ষ থেকে সারা দেশেই কয়েকস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

জানা গেছে, এরই অংশ হিসেবে শহরের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে মানুষ এবং যানবাহনে তল্লাশি চালাচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনায় নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদেশিদের যাতায়াত আছে এমন স্থানে পুলিশি তৎপরতা আগের তুলনায় বাড়ানো হয়েছে। নগরীর আবাসিক এলাকা, বাস ও রেল স্টেশনসহ বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। আবাসিক হোটেল, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই) এলাকায় পুলিশি টহলের পাশাপাশি তল্লাশি জোরদার হয়েছে। নিরাপত্তা বাড়ানোর প্রয়োজনে পুলিশ ফোর্সের তদারকিও বেড়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনাতেও নিরাপত্তা টহল অব্যাহত রয়েছে। পোশাকের পুলিশের বাইরে সাদা পোশাকের সদস্যরাও নগরজুড়ে টহল দিচ্ছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র  জানিয়েছেন, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের সব গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে যশোরের বেনাপোল, চুয়াডাঙ্গার দর্শনা ও সাতক্ষীরার ভোমরা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এলাকায় সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। গোয়েন্দা, পুলিশ ও র‌্যাবের একাধিক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ ও আনসারবাহিনীর সদস্য। থানা, ফাঁড়ি ও আইসিতে লোকবল বাড়ানো হয়েছে।

ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, দেশে যাতে কোনও জঙ্গি বা সন্দেহভাজন ব্যক্তি প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য বাড়তি সতকর্তা অবলম্বন করা হচ্ছে। পাশ্ববর্তী দেশগুলো থেকে যারা আসছেন তাদের পাসপোর্টসহ অন্যান্য কাগজপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাত্রীদের পাসপোর্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এক্সিট দেওয়া হচ্ছে। বহিরাগত পাসপোর্ট দালালরা যাতে ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে সে ব্যাপারে ইমিগ্রেশন গেটে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি ডিসেম্বরের ১৯ তারিখ ফরিদপুর ও মাদারীপুরের জেলা প্রশাসককে হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়। ফরিদপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা উম্মে সালমা তানজিয়া  জানিয়েছেন, নাম ঠিকানাবিহীন এক পাতার চিঠিতে তাকে ও তার পরিবারকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে তার অফিসের ঠিকানায় চিঠিটি এসেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মো.ওয়াহিদুল ইসলাম একইরকম চিঠি পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে জানান, চিঠিটি তিনি বুধবার সন্ধ্যায় পেয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফরিদপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা উম্মে সালমা তানজিয়া  ফরিদপুর প্রতিনিধিকে জানান, ‘বুধবার অফিসে চিঠির ডাক এসেছিল। তার সঙ্গে একটি চিঠির খাম আসে। এতে লাল কালিতে লেখা ছিল ‘অতীব গোপনীয়’ বিষয়। আর চিঠিতে লেখা ছিল, নির্বাচনে নিরপেক্ষতা বজায় না রাখলে আমাকে ও আমার পরিবারকে দেখে নেওয়া হবে। চিঠিটি হাতে লেখা ছিল, তবে কারও নাম লেখা ছিল না।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহমেদ জানান, সরকারি কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের নজরে আছে। ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়াও যারা ডিসিদের হূমকি দিয়ে বেনামি চিঠি পাঠিয়েছে তাদের খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্টরা মাঠে কাজ করছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত