প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভোট উৎসব এখন আমাদের সংস্কৃতির একটা অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে : ডা. কামরুল হাসান

সৌরভ নূর :  ডিসেম্বর মাস এমনিতেই উৎসের মাস, আনন্দের মাস, বিজয়ের মাস। আর ছোট বেলা  থেকেই দেখে আসছি ভোটের সময়টাও এই শীতের সময়েই আসে সাথে নিয়ে আসে নির্বাচনী কলাহোল ও প্রচারণার কাজে ব্যস্ত মানুষের ছুটাছুটি। এখন ভোট উৎসব আমাদের সংস্কৃতির একটা অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডিসেম্বর শুক্রবার ডিবিসি টেলিভিশনের টকশোতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক  ডা. কামরুল হাসান খান এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, এখন কিন্তু রাজনীতির সাথে সম্পৃপ্ত হয়ে গেছে সারাদেশের মানুষ শুধু ইলেকশন বলে না। সারা বছরই গ্রাম-গন্জের চায়ের দোকান গুলোতে মানুষ রাজনৈতিক আলোচনা নিয়ে মেতে থাকে। এছাড়া স্বাবাভিকভাবেই দিন দিন মানুষ রাজনীতিতে ঝুকছে, প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। বিভিন্ন পেশাজীবি মানুষ এবারের নির্বাচনে অংশ নিয়েছে কণ্ঠশিল্পি, অভিনেতা, ক্রিকেটারসহ অনেকেই।

‘নির্বাচনের এই উৎসবমূখর পরিবেশের জন্য মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর একটা বড় ভ’মিকা রয়েছে। কারণ এর আগে রাজনীতিতে বিরোধপূর্ণ মুখোমুথি অবস্থান ছিলো। ড. কামাল হোসেন যখন সংলাপের আহ্বান করলেন তখন কে ভেবেছিলো একটি সংলাপের মধ্যদিয়ে পুরো দেশের হালচাল বদলে যাবে। এরপরই কিন্তু দলগুলোর মধ্যে নির্বাচন মুখি প্রবণতা শুরু হয়েছে। এজন্য উভয় পক্ষকেই ধন্যবাদ জানাতে হয়।’

এক প্রশ্নের জবাবে কামরুল হাসান বলেন, বিরোধী দলের অভিযোগ- বিরোধ তো থাকবেই। বিশ্বজুড়েই নির্বাচন এখন জটিল পর্যায়ে চলে গেছে। আমেরিকার গত নির্বাচনের দিকে তাকান দেখবেন, সেখানেও বাক-বিতর্ক, দ্বিমত ছিলো এমনকি এখন পর্যন্ত সেই বাকযুদ্ধ চলতেই আছে। এছাড়া আমাদের দক্ষিণ এশিয়াতে মিটিং- মিছিলের মাত্রা একটু বেশিই। যে কারণে একটু ক্রসিং হলেই শুরু হয়ে যায় হানা-হানি। যেমন, ভারতের লোকসভা নির্বাচনের সময় মিছিলের মধ্যে ধাক্কা-ধাক্কিতে পদদলিত হয়ে মারা গিয়েছিলো কয়েকশ লোক। মানে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আনান্দও আছে আবার সংঘাতও আছে। এবং থাকবেই, এটা নিয়ে উদ্বিগ্ন হবার কিছু নেই। কয়টা যায়গায় সংঘাত হচ্ছে ? ৩০০ আসনের মধ্যে দশ থেকে বিশ যায়গাই সংঘাত সৃষ্টি খুব একটা অস্বাভিক নয়। কিনÍু সাংবাদিকরা যখন রির্পোট করছে এবং টেলিভিশনগুলোতে একযোগে সম্প্রচার করা হচ্ছে তখন সংঘাতের সংখ্যাকে বেশিই মনে হয়।

তবে আমরা চেয়েছিলাম একটি শক্ত কমিশন। তারপরেও বিরোধ-মতবিরোধ পেরিয়ে নির্বাচন কমিশন একটা অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন বাস্তবায়ন করতে চলেছে। এছাড়া বিরোধী দলের দাবি মানতে শুরু করেছে সরকার। ভোটের মাঠেও অনেকটা সমতা এসেছে।  যেমন, বিরোধী দলের দাবি ছিলো সেনাবাহিনী মোতায়ন নিয়ে, নির্বাচন কমিশন এটাও মেনে নিয়েছে। সে অনুযায়ী আগামী চব্বিশ তারিখ থেকে মাঠে নামবে সেনাবাহিনী। তারপরেও আমরা চায় উৎসব মূখর পরিবেশে অভিযোগের পাল্লা কমে আসুক। এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহনযগ্য নির্বাচনের পরিবেশ বিরাজমান থাক।

কামরুল হাসান আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশটা তো আমাদের সবার, এখন দেশবাশি যেটা চাই, এরকম একটা স্থিতিশীল পরিস্থিতি দেশের রাজনীতিতে বিদ্যমান থাক। দেশটা যেন আবার পিছিয়ে না য়ায়। এই দায়িত্ব অবশ্যই রাজনৈতিক দলগুলোর কাধে, দেশের উন্নয়ন তাদেরকেই নিশ্চিত করতে হবে।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত