প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সমন্বয়হীনতার অভাবে ধীরগতিতে চলছে দুই সিটির উন্নয়ন প্রকল্প

শাকিল আহমেদ : রাজধানীর উন্নয়নের জন্য ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। কিন্তু দফায় দফায় মেদ বাড়লেও তেমন কোন অগ্রগতি নেই এসব প্রকল্পের। তবে সেবা সংস্থার সমন্বয়হীনতার কারনেই এমনটি হচ্ছে বলে মনে করেন নগর পরিকল্পনাবিদ মোবাশ্বের হোসেন।

মোবাশ্বের হোসেন বলেন, রাজধানীর রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ঠ রয়েছে ৫৪টি প্রতিষ্ঠান ও সাতটি মন্ত্রণালয়। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই আবার একে অন্যের ওপর প্রাধিকার প্রাপ্ত বলে মনে করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সমন্বয়হীনতা দেখা যায়।

জানা যায়, চলতি অর্থবছরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় বাস্তবায়নাধীন পাঁচটি প্রকল্প বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত আছে। এর মধ্যে ৭৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ে শ্যামপুর, দনিয়া, মাতুয়াইল ও সারুলিয়া এলাকায় সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রকল্পটি অন্যতম। প্রকল্পটির ২০২০ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও। এখন পর্যন্ত অগ্রগতি ৫৮ শতাংশ। ২০১৭ সালে ৭২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে মাতুয়াইল স্যানিটারি ল্যান্ডফিল্ড উন্নয়নের প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২০ সালে এর কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজের অগ্রগতি ৫৫ শতাংশ।

ডিএসসিসি এলাকায় বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নে ৯৮ কোটি টাকার প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী বছরের জুনে। এখন পর্যন্ত এ প্রকল্পের অগ্রগতি ৫৫ শতাংশ। ডেমরা, মান্ডা, নাসিরাবাদ ও দক্ষিণগাঁও এলাকার সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৪৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প শুরু হয় চলতি বছরের জানুয়ারিতে যা ২০২০ সালে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু প্রকল্পের কাজে টেন্ডার আহŸান ছাড়া আর কোনো অগ্রগতি নেই। দক্ষিণ সিটির বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নে ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে ১ হাজার ২১৬ কোটি ৫৫ লাখ ব্যয়ে একটি প্রকল্প নেয়া হয় যা আগামী বছরের জুন পর্যন্ত মেয়াদ রয়েছে। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পটির বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে ৫৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

এবিষয় ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রকৌশলি বিভাগে জনবলের সংকট রয়েছে। যে কারনে এমনটি হচ্ছে। এখোন থেকে প্রতি মাসে কাজের অগ্রগতি ও গুনগতমান মান নিয়ে সকল প্রকৌশলিদের নিয়ে আমরা মিটিং করবো। আশকরি খুব শিগগীরি কাজের গতি ফিরে আসবে।

এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে (ডিএসসিসি) বিভিন্ন ধরনের নয়টি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ডিএনসিসি এলাকায় ৪০ হাজার আধুনিক এলইডি সড়কবাতি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে যা ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ রয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কাজই শুরু করতে পারেনি সংস্থাটি।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) তেজগাঁও থেকে উত্তরা হাউজ বিল্ডিং পর্যন্ত ১১টি ইউটার্ন নির্মাণ করছে। আগামী বছরের জুনে নির্মাণ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত কাজ এগিয়েছে মাত্র ৬ শতাংশ। জমি অধিগ্রহণ জটিলতার করনে এ কাজে ধীরগতির কারণ বলে জানান ডিএনসিসি কর্মকর্তারা। এছাড়া ২০১৬ সালের জুনে ১ হাজার ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ডিএনসিসির এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণের একটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয় যার বর্তমান অগ্রগতি মাত্র ৬২ শতাংশ। ভূমিকম্প ও অন্যান্য দুর্যোগ মোকাবেলায় ৭৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে আরবান রেজিলিয়েন্স প্রজেক্ট (ইউআরপি ডিএনসিসি অংশ) প্রকল্পের কাজ চলছে, যার মেয়াদ ২০১৫ সালের জুন থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত। প্রকল্পের অগ্রগতি এখন পর্যন্ত ৩০ দশমিক ৭৪ শতাংশ। ২৭৯ দশমিক ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ডিএনসিসি এলাকায় ২২টি পার্ক ও চারটি খেলার মাঠ উন্নয়ন, ১৫টি ফুটওভার ব্রিজ উন্নয়ন ও সৌন্দর্যকরণ, ৭৩টি স্বাস্থ্যকর পাবলিক টয়লেট নির্মাণ এবং চারটি কবরস্থানের উন্নয়নকাজ করা হবে। এ প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি মাত্র ৮ শতাংশ। ৬১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘ইসিবি চত্বর থেকে মিরপুর পর্যন্ত সড়ক প্রশস্ত করণ ও উন্নয়ন এবং কালশী মোড়ে ফ্লাইওভার নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের কাজ চলমান আছে, যার মেয়াদ আগামী বছরের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ১০ শতাংশ। ২৪ দশমিক ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক উন্নয়নকাজের জন্য অ্যাসফল্ট প্লান্ট-সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি ক্রয় ও স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে আগামী বছরের জুন পর্যন্ত। এখন পর্যন্ত প্রকল্পের অগগ্রগতি ১০ শতাংশ। ২০১৭ সালের জুনে ১৭৭ দশমিক ৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ে গাবতলী সিটি পল্লীতে ক্লিনারদের জন্য চারটি ১৫ তলা আবাসিক ভবন ও একটি স্কুল নির্মাণের কথা রয়েছে। প্রকল্পের
মেয়াদ আগামী বছরের জুনে হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত অগ্রগতি মাত্র ৬ শতাংশ।

এবিষয়ে ডিএনসিসির ভারপ্রাপ্ত মেয়র জামাল মোস্তফা বলেন, আমাদের কাজ চলমান রয়েছে। আমাদের চীফ ইঞ্জিনিয়ার সব সময়ই মাঠে মনিটরিং করছে। ঠিকাদারদের গাফলতির জন্য কাজে ধীরগতি হচ্ছে। আমরাতো তাদের বিল নিয়ে গাফলতি করিনা। তবে খুব শীগ্রই আমরা ঠিকাদারদের নিয়ে মিটিং করবো। যারা ঠিকমত কাজ করবেনা, কাজের ধীরগতি করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত