প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সচেতনতা
শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানো ঈমানি দায়িত্ব

মাহমুদুল হক জালীস : ধীরে ধীরে শীতের তীব্রতা বেড়ে চলছে। চারদিকে বইছে শীতল শৈত্যপ্রবাহ। ফলে হাড়কাঁপানো শীতে নাকাল দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষ। পাচ্ছে না ঠিকমতো শীত নিবারণের পোশাক। দুঃখ কষ্টে কাটছে তাদের জীবন। ঋতুর পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক এই বিরূপ প্রভাব মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ এবং এর মধ্যেও মহান আল্লাহর আনুগত্যের আহ্বান ধ্বনিত হয়| তিনি ইরশাদ করেন, যেহেতু আসক্তি আছে কুরাইশদের/ গ্রীষ্ম ও শীতকালে দূরে সফরের/ তারা করুক তবে তাঁর ইবাদত/ কা’বার প্রভুর দেওয়া নির্ধারিত পথ। (কাব্যানুবাদ, কুরাইশ:০১-০৩)

এ শাশ্বত ঘোষণায় বোঝা যায় গ্রীষ্ম-শীত সবই মহান আল্লাহর হুকুম এবং সব অবস্থায় তাঁরই ইবাদত করা বান্দার কর্তব্য। পৃথিবীর আহ্নিকগতির কারণে দিন-রাত্রি এবং বার্ষিকগতির প্রভাবে ঘটে ঋতুচক্রের পরিবর্তনের সবই কিন্তু হয় মহান আল্লাহর নির্দেশেই তিনিই রাতকে দিনে এবং দিনকে রাতে পরিবর্তন করেন, তিনি সূর্য ও চাঁদকে নিয়ন্ত্রণ করছেন; প্রত্যেকেই এক নির্দিষ্টকাল আবর্তণ করে। (সুরা ফাতির:১৩) ফলে বছর ঘুরে আসে শীত, গ্রীষ্ম ও বর্ষাকাল। একটি দীর্ঘ হাদিসের বর্ণনায় জানা যায় যে- ‘দোযখ যখন শ্বাস ছাড়ে তখন পৃথিবী উষ্ণ-উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আবার যখন প্রশ্বাস নেয় প্রবল শৈত্যে আচ্ছন্ন হয় শান্তির পৃথিবী’!

শীতের কারণে বায়ুমন্ডলে তাপমাত্রা ও আদ্রতা ক্রমে ক্রমে হ্রাস পায়। আবার দিবাভাগে সূর্যের ক্ষীণতাপে বাষ্পীভূত জলীয় কণা কুয়াশায় রূপান্তরিত হয় এবং কখনো বা রাতের তাপমাত্রা বেশি কমে যাবার কারণে কোন কোন অঞ্চলে ঘটে তুষারপাত। এমন বিরূপতায় প্রকৃতি হয়ে ওঠে উষর-ধূষর রূক্ষ। এতে বয়স্ক ও শিশুসহ সব মানুষের সহনমাত্রা ছাড়িয়ে দেখা দেয় সর্দি-কাশি, জ্বর, হাপানি, পেটেরপীড়াসহ নানন জটিল রোগশোক। দৈনন্দিন কর্ম পরিবেশে ছন্দপতনের কারণে খেটে খাওয়া মানুষের কাজের সুযোগ ও সক্ষমতা কমে আসে।

শীত নিবারণের সামান্য কাপড় ও দূর্যোগকালে খাবারের অভাবে কষ্ট পায় অসংখ্য ‘বনী-আদম’। তাই সামর্থ্যবানদের কর্তব্য হলো, মানবসেবার ব্রতে এগিয়ে আসা এবং শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানো। কারণ, বাংলাদেশে শীত আসে কষ্টের বার্তা নিয়ে। আমাদের লোকভাবনার উচ্চারণ- পৌষ গেল মাঘ আইল শীতে কাঁপে বুক/ দুঃখীর না পোহায় রাতি হইল বড় দুঃখ (মৈমনসিংহ গীতিকা: ‘কমলা’)। শীতার্তসহ বিপন্ন সব মানুষের পাশে দাঁড়ানো ইসলামের আদর্শ। মহান আল্লাহ বলেন -তারা আল্লাহর প্রেমে উজ্জীবিত হয়ে দরিদ্র, ইয়াতিম ও বন্দীদেরকে খাদ্য দান করে ( সুরা দাহার:০৮)। অন্যদিকে আর্তমানবতার সেবায় উৎসাহ দিয়ে প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) বলেন, মানুষের মধ্যে সে-ই উত্তম যার দ্বারা মানবতার কল্যাণ সাধিত হয়।

 

বিপন্ন মানবতার কল্যাণ বিশ্বনবী, মানবতার কান্ডারী, আমার প্রিয়নবীর (সা.) আদর্শ। আর মানব কল্যাণের মাধ্যমে জান্নাতি সুখ লাভ করা যায়। এজন্যই প্রিয়নবী (সা.) বলেন,যে কোন মুসলমান কোন মুসলমানকে বস্ত্রহীন অবস্থায় বস্ত্র দান করলে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে সবুজ বর্ণের পোশাক পরাবেন,খাদ্য দান করলে তাকে জান্নাতের ফল খাওয়াবেন,পানি পান করালে এর চেয়েও উত্তম বস্তু পান করাবেন (আবু দাউদ)

মানুষের অবাধ্যতা ও পাপের কারণেই, মহান আল্লাহ্ মানুষকে শাস্তি দেন। কখনো কখনো মারাত্মক প্রাকৃতিক বিরূপতা নিয়ে এজন্যই দেখা দেয় খরা, বন্যা, ঝড়, জলোচ্ছাস, তাপ অথবা শৈত্য প্রবাহ। এ গুলোই মহান আল্লাহর পরীক্ষা, যা মানুষের কর্মদোষের ফলে শাস্তি হয়ে নেমে আসে। তাই পবিত্র কুরআনের সতর্কবাণী-ভূমিতে ও পানিতে সব জায়গায়/ মানুষের কুকাজ অশান্তি ছড়ায়/ যেমন কাজ তারা থাকে করিতে/ আল্লাহ চান ফলে শাস্তি দিতে। (কাব্যানুবাদ, সুরা রূম:৪১)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত