প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ক্ষমতায় আবার আসতে পারলে দারিদ্র্য বলে কিছু থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী

আশরাফ রাজু (সিলেট) ও সাজিয়া আক্তার : আমরা প্রত্যেকটা মানুষের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি । সারাদেশের মতো সিলেট বিভাগের চার জেলায়- সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের উন্নয়নের জন্য অনেকগুলো প্রকল্প নিয়েছি। আগামীতে যদি ক্ষমতায় আসতে পারি, তাহলে দারিদ্র্য বলে কিছু থাকবে না বলে শনিবার (২২ ডিসেম্বর) সিলেটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সিলেট বিভাগের প্রত্যেকটা জেলায় সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সিলেট বিভাগ আমরা দিয়েছি, এখন অবকাঠামো নির্মাণ করে দিচ্ছি, যাতে বিভাগ হিসেবে সিলেট দাঁড়িয়ে যেতে পারে। লন্ডন থেকে সরাসরি বিমান আসা-যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। নান্দনিক স্টেডিয়াম করে দিয়েছি, যা দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ আসে।

আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তারুণ্যই নৌকার শক্তি দেশের সমৃদ্ধিতে তরুণদের অবদান সবচেয়ে বেশি। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে এই তরুণরাই নৌকার বিজয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। তিনি বলেন, নৌকা হল বিপদের বন্ধু। বিপদের দিনে নূহ নবীর নৌকা মানুষের জীবন রক্ষার একমাত্র অবলম্বন ছিল। আওয়ামী লীগের প্রতীক নৌকা উল্লেখ করে তিনি এই নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন,টাঙুয়ার হাওরে পর্যটনকেন্দ্র নির্মাণ করে দিচ্ছি। হাওরবাসী যেনো শুধু ফসল না, হাঁস-মুরগির চাষ ও অন্যান্য পেশায় যুক্ত হতে পারেন, সেজন্য কাজ করছি। তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছি। এখানকার প্রাচীন নাম ‘শ্রীহট্ট’ নামে এখানে (সিলেটে) আমরা অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দিচ্ছি।

তিনি বলেন, সিলেট বিভাগের সার্বিক উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। আপনারা জানেন, একসময় শুধু চট্টগ্রামে চায়ের নিলাম হতো। সিলেটে চায়ের নিলামের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। চা-শ্রমিকরা নৌকায় ভোট দেয়। তাদের উন্নয়নের জন্য কাজ করছি। তাদের সন্তানদের শিক্ষার জন্য উদ্যোগ নিয়েছি।

তিনি একে একে ১৯ আসনের প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে লাঙ্গল প্রতীকের জন্যও ভোট চেয়ে বলেন, আপনারা নৌকার পাশাপাশি মহাজোটের লাঙ্গলেও ভোট দেবেন। সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের পরিচালনায় ও জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে নির্বাচনী প্রচারণা সভায় বক্তব্য রাখেন, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, জাহাঙ্গীর কবীর নানক, মাহবুবুল আলম হানিফ, বাহাউদ্দিন নাসিম, মিছবাহ উদ্দিন সিরাজ, শফিকুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ।

বক্তব্যের শুরু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুবিবুর রহমান এদেশের মানুষের মুক্তি চেয়েছিলেন। ১৯৭৫ সালে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে দেশকে অন্ধকারে নিমজ্জিত করার চেষ্টা করা হয়। বিএনপির শাসনামলের নিপীড়ন নির্যাতনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এদেশের স্বাধীনতাবিরোধীদের সাথে নিয়ে এবারও বিএনপি নির্বাচন করছে। তারা এদেশে খুন রাহাজানি দুর্নীতির দুঃশাসন কায়েম করেছিল। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছিল। আওয়ামী সরকার আন্দোলন করে এদেশে গণতন্ত্র পুররুদ্ধার করেছে। বাংলাদেশ আজ সমৃদ্ধ। এদেশ আর পরনির্ভরশীল নয়। আওয়ামী লীগ সরকার দেশের টাকায় পদ্মাসেতু করে বিশ্বে বাংলাদেশের মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদ্যুতের উৎপাদন বেড়ে ২০,০০০ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে।

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ সেবার পাশাপাশি স্যোলার প্যানেলের মাধ্যমে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, দুর্গম এলাকায় যেখানে বিদ্যুৎ ছিলনা সেখানে আমরা স্যোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সেবা পৌঁছে দিয়েছি। ২০২১ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি ঘরে আলো জ¦লবে। এদেশে আর কোনো অন্ধকার থাকবেনা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, আমাদের সরকার দেশের প্রযুক্তির উন্নয়নে ব্যাপকভাবে কাজ করছে। ইন্টারনেট সেবা ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে। প্রযুক্তিতে এগিয়েছে দেশ। ইন্টারনেটের মাধ্যমে এখন ঘরে বসে আয় করার সুযোগ হয়েছে। একটি বাড়ি একটি খামার সহ আওয়ামী লীগ সরকার হাওরাঞ্চলের মানুষের উন্নতির জন্য বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। হাঙ্গুয়ার হাওরসহ দেশের হাওরাঞ্চলের মানুষ সেসব সুবিধা ভোগ করছে। আমাদের সরকার বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। কওমি মাদ্রাসার উন্নয়নে মাস্টার্স কোর্স চালু করা হয়েছে। এখন কওমি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে ছাত্ররা চাকরি করছে। আওয়ামী লীগ সরকার দেশে ৫৬০টি মসজিদ করে দিচ্ছে।

সিলেটের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সিলেটে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করা হয়েছে। এখন সিলেটে সরাসরি ফ্লাইট উঠানামা করছে। সিলেটের নদী খননসহ দেশের সবগুলো নদীর উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। সিলেটের চার জেলার সার্বিক উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। ঢাকা-সিলেট সড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আগে চায়ের নিলাম হত চট্টগ্রামে। আমরা সিলেটে চা নিলামের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। চা শ্রমিকরা সব সময় নৌকা মার্কায় ভোট দেয়। তাই চা শ্রমিকদের উন্নতি করেছি। এই সিলেটে নিজস্ব নামে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করা হচ্ছে।
দেশ এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের দারিদ্রতা হ্রাস পেয়েছে। ২০২১ সালে বাংলাদেশ দারিদ্র্যমুক্ত হবে। জিডিপিতেও দেশ এগিয়েছে। দেশের প্রবৃদ্ধি এখন ৭ দশমিক ৮৬ পার্সেন্ট।

বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি এদেশে আগুন সন্ত্রাস সৃষ্টি করেছে। তাদের শাসনামলে জ্বালাও পোড়ায় ছাড়া দেশের কোনো উন্নতি সাধিত হয়নি। বিএনপি ত্যাগ করে আওয়ামী লীগে যোগদানকারী ইনাম আহমদ চৌধুরীকে সাক্ষী করে তিনি আরো বলেন, বিএনপি নির্বাচনে নামে মনোয়ন ব্যবসা শুরু করে। প্রতি আসনে তারা ৪/৫জন করে মনোনয় দিয়ে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়েছিল। লন্ডনে থাকা তারেক রহমানের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, সে সাজাপ্রাপ্ত হয়েও লন্ডনে থেকে ষড়যন্ত্র করছে। তাকে দেশি ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত