প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নারীরাই পরবে রেশমের কাপড়

আল-আমিন : পরিধানযোগ্য সব পোশাকের মূল বিধান হচ্ছে– বৈধ; যদি না কোন পোশাক হারাম হওয়ার পক্ষে দলিল থাকে; যেমন- পুরুষদের জন্য রেশমের কাপড় পরা হারাম যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হারাম ঘোষণা করেছেন। একইভাবে মৃতপ্রাণীর চামড়া পরিধান করা অবৈধ, তবে দাবাগত তথা প্রক্রিয়াজাত করলে বৈধ। আর ভেড়া, উট ও ছাগলের পশম দিয়ে তৈরী পোশাক এর বিধান হচ্ছে– এগুলো পবিত্র ও বৈধ।

পুরুষের জন্য রেশমের কাপড় পরা ও তার ওপর বসা নিষিদ্ধ। একবার ওমর (রা.) একসেট রেশমের পোশাক বিক্রি হতে দেখলেন। অতঃপর তা নিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল (সা.) এটা কিনুন, এ দ্বারা ঈদের জন্য ও প্রতিনিধি দলগুলোর জন্য সুসজ্জিত হোন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘এ পোশাক শুধু তার জন্য, যার পরকালে এটা প্রাপ্য নেই।’

এরপর বেশ কিছু দিন কেটে গেল। তারপর একদিন রসুলুল্লাহ (সা.) ওমর (রা.) এর কাছে রেশমের একটি জুব্বা পাঠালেন। তখন ওমর (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.) এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল (সা.) আপনি বলেছেন, এটা সে ব্যক্তির পোশাক, যার পরকালে এটা প্রাপ্য নেই। তারপর আবার এটা পাঠিয়েছেন? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘ওটা আমি তোমার পরিধানের জন্য পাঠাইনি, পাঠিয়েছি যাতে তুমি সেটা বিক্রি করে নিজের প্রয়োজন মিটাতে পার।’ (বোখারি : ৯৪৮)

ওমর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা রেশম পরিধান করো না। যে ব্যক্তি দুনিয়ায় রেশম পরিধান করবে, সে আখেরাতে তা পরিধান করতে পারবে না।’ (মুসলিম : ২০৬৯; ছহিহুল জামে : ৭৪৪৪)

রেশম পরা মহিলাদের জন্য বৈধ : রেশমের বস্ত্র পরিধান করা মহিলাদের জন্য হালাল। হাদিস শরিফে এসেছে, আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) কে একটা রেশমের পোশাক উপহার দেয়া হলো। পরে তিনি সেটি আমার কাছে পাঠিয়ে দিলেন। আমি সেটি পরলাম। এতে তার চেহারায় অসন্তোষের চিহ্ন দেখতে পেলাম। তিনি বললেন, ‘ওটা তোমার নিকট এ জন্য পাঠাইনি যে, তুমি পরবে। বরং এটা তোমার কাছে এজন্য পাঠিয়েছি যে, তুমি ওটা টুকরো করে ওড়না বানিয়ে মহিলাদের মধ্যে বিতরণ করবে।’ (মুসলিম : ২০৬৮)

মহিলাদের জন্য নির্ধারিত বা তাদের পোশাকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ পোশাক পুরুষদের পরিধান করা নিষিদ্ধ। তেমনি পুরুষদের জন্য নির্ধারিত বা তাদের পোশাকের সাদৃশ্যপূর্ণ পোশাকও মহিলাদের জন্য পরিধান করা হারাম। হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) নারীর পোশাক পরিধানকারী পুরুষ এবং পুরুষের পোশাক পরিধানকারী নারীর প্রতি অভিসম্পাৎ করেছেন। (আবু দাউদ : ৪০৯৮)। ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুল (সা.) পুরুষদের মধ্যে নারীর বেশ ধারণকারীদের এবং নারীদের মধ্যে পুরুষের বেশ ধারণকারিণীদের অভিশাপ দিয়েছেন।’ (বোখারি : ৪৪২৯)

যে পোশাক অন্যান্য মানুষের চেয়ে খ্যাতি বা প্রসিদ্ধি লাভ করার জন্য পরা হয় তা হারাম। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি দুনিয়ায় খ্যাতির পোশাক পরবে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে লাঞ্ছনার পোশাক পরাবেন।’ (ইবনু মাজাহ : ৩৬০৬)

ভিন্নধর্মীয় পোশাক পরিধান করা যাবে না। অর্থাৎ যে পোশাক অন্য কোনো ধর্মের নিদর্শন প্রকাশ করে বা পরিচয় দান করে। হাদিসে এসেছে, আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আছ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমার পরিধানে দুইটি রঙিন কাপড় দেখে বললেন, ‘এটা কাফেরদের কাপড়। অতএব তা পরিধান করো না।’ (মুসলিম : ২০৭৭)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত