প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এক হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার ২১ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজে অগ্রগতি নেই

শাহীন চৌধুরী: দেশের ২৩টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মধ্যে ২১টির কাজে কোন অগ্রগতি নেই। ২০০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার (আইপিপি) খাতে এই ২১টি প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। এসব প্রকল্পের উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৫১ মেগাওয়াট। মাত্র দুটি প্রকল্প এখন পর্যন্ত তাদের কার্যক্রম শেষ করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিচ্ছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
সূত্রমতে, সুনামগঞ্জের ধরমপাশায় ৩২ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সোলার পার্ক নির্মাণে বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে চুক্তি করে ইডিসান পাওয়ার পয়েন্ট এবং হাওর বাংলা-কোরিয়া গ্রিন এনার্জি লিমিটেড। এ পার্কের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ধরা হয়েছে দশমিক ১৭ ডলার বা ১৪ টাকা ২৬ পয়সা। গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রকল্পটি চালু হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ের পর আরো এক বছরের বেশি সময় পার হলেও এখনো নির্মাণকাজ শেষ হয়নি।

একই ভাবে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ৩০ মেগাওয়াট ক্ষমতার অন্য একটি সোলার পার্ক স্থাপনে পিডিবির সঙ্গে চুক্তি করেছে ইন্ট্রাকো সিএনজি লিমিটেড ও জুলি নিউ এনার্জি কোম্পানি লিমিটেড। চলতি বছরের জুনে প্রকল্পটি চালু হওয়ার কথা থাকলেও চুক্তি ছাড়া প্রকল্পের আর কোনো অগ্রগতি নেই। ব্যক্তি খাতে এ ধরনের ২৩টি সোলার পার্কের মধ্যে ২১টিরই কোনো অগ্রগতি নেই। যদিও এসব প্রকল্পের বেশ কয়েকটি গত বছর ও তার আগের বছর চালু হওয়ার কথা ছিল। এখন পর্যন্ত দুটি প্রকল্প ছাড়া বাকিগুলোর কাঙ্খিত অগ্রগতি নেই। উচ্চ মূল্যহারে প্রকল্প নিয়ে তা বাস্তবায়নে উদাসীনতা বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। যেসব প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যর্থ হবে, তাদের বিদ্যুতের দর কমিয়ে পুনরায় নির্ধারণ করা হবে।

সূত্রে জানা যায়, ২৩টি প্রকল্পের মধ্যে দুটি জাতীয় গ্রীডে বিদ্যুৎ দিতে সক্ষত হয়েছে। এর একটি হচ্ছে কক্সবাজারের টেকনাফে জুলস পাওয়ার লিমিটেডের (জেপিএল) ২০ মেগাওয়াট। অন্যটি গত বছর জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বিপিডিবির তিন মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সোলার পার্ক। ওই সোলার পার্ক থেকে সরিষাবাড়ী এলাকার চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, দেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ৩ শতাংশ আসছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত থেকে। বর্তমানে এ খাত থেকে ৫৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। যেখানে সৌরবিদ্যুৎ থেকে যোগ হচ্ছে মাত্র ২৮৬ মেগাওয়াট। ২০২০ সালের মধ্যে সোলারসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির অন্যান্য উৎস থেকে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালেদ মাহমুদ বলেন, ব্যক্তি খাতের সোলার পার্কগুলো নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করার জন্য আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছি। প্রয়োজনে কিছু কিছু প্রকল্প বাতিল করাও হতে পারে। শিগগিরই এ ব্যাপারে আমরা কঠোর সিদ্ধান্ত নেব।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত