প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

একশন কি হবে, ডঃ কামাল হোসেন?
যদি মহাজোট-ঐক্যফ্রন্ট ১২০-১২০ আসন পায় আর স্বতন্ত্র ৩৫ প্লাস?

আমান-উদ-দৌলা, কন্ট্রিবিউটিং এডিটর,।। অন-দ্য-স্পট ।। : ডঃ কামাল হোসেন মাত্র একটি কথাই বললেন। ‘পজেটিভ একশন’। যার বাংলা অর্থ ‘ইতিবাচক ক্রিয়া’ আরো সহজ করলে দাড়ায়।

পছন্দের কাজ। অপছন্দের অকর্ম তো তিনি সাধন করছেন না। একটি ইংরেজি প্রশ্নের উত্তরে তিনি ইংরেজিতেই উত্তর দিচ্ছিলেন। তিনি বললেন, We are in the ‘Positive Action’.

ভেরি ফাইন। কিন্তু আমার-ও কিছু প্রশ্ন এসে যাচ্ছিলো। কিছুই করতে পারলাম না।

কিছুটা সমালোচনা করে নেই। প্রেস কনফারেন্স-গুলোতে। প্রেসক্লাবে বা অন্য কোথাও হয়। সেখানে পার্টির লোকজন, বা যেকোনো নন-পার্টি প্রেস কনফারেন্স-গুলোতেও আমি দেখেছি।
প্রথম দুই-তিন সাড়ির আসনগুলোতে ওদের লোক বসে থাকে। সাংবাদিক যারা কাভার করতে আসেন। তারা কোনায় কোথাও দাঁড়িয়ে পড়েন। এটা বোঝা তাদের কর্তব্য। এটা প্রেস কনফারেন্স। এখানে সাংবাদিকদের ভালো ভাবে বসতে দিতে হবে। দরকার হলে তারা দাঁড়িয়ে থাকবেন।

আরো এক ঝামেলা। দুই-একজন আছেন। তারা ছবি তোলেন। নবীন ফটো-সাংবাদিক মূলত। একদম সামনে দাঁড়িয়ে যান। ফলে তার পশ্চাত-দেশ দেখতে হয়। কয়েক-রো বসা বা দাঁড়ানো লোক-জনকে। আমি জনৈক ফটো-সাংবাদিক ভাইকে বোঝানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হলাম। অবশেষে উঠে গিয়ে তার সামনের কাতারে। তাকে ব্লক করেই দাঁড়িয়ে বুঝিয়ে দিলাম। তোমার যেমন লাগছে। তোমার পেছনের অনেকেরই সেই রকম লাগছে। সেটা বোঝানোর জন্য আমি তার মুখের সামনে দাঁড়িয়ে পড়েছিলাম। কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে সরে গেলাম। তখন তার লজ্জা হলো।

যাই-হোক। আমার প্রশ্ন করা হলো না। কিন্তু কি প্রশ্ন করতে চেয়েছিলাম। আমি এখানে বলতে চাই। প্রধান প্রশ্নটা হলো। যুদ্ধ-অপরাধের বিচার চলছে সেটা অব্যাহত থাকবে। এই কথা ঐক্যফ্রন্ট তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছে। কিন্তু বিএনপি একক দল-গত-ভাবে সে কথা বলে নাই। বোঝা গেলো জামাতের লোকজন তাদের সঙ্গে আছেন। এতোদিন বিএনপি ট্রাইবুনাল প্রশ্নে চুপ ছিলো। এখন হঠাত করে বলা উচিত না। এই কাজটা সিনসিয়ারলি করেছে মনে হলো। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে। তারা ক্ষমতায় আসলে এই ট্রাইবুনালের কি হবে? অনেকের বিচার হয়েছে। অনেকের বিচার বাকি বাকি। অনেকের রায় উপরের আদালতে এখনো পেন্ডিং আছে। কি হবে সে সব?

আরো প্রশ্ন আছে। বর্তমান ভোটার ১০ কোটি ৪০ লাখ। এর ৪ ভাগের ১ ভাগ। আড়াই কোটি ভোটারের বয়স ১৮ থেকে ২৮ বছর। হিসাবে ৩০০ আসনের ৯০ আসন পাবার কথা। কিন্তু ২৫ শতাংশ প্রার্থী ( ১৮-২৮ বছর) বিএনপি-গণফ্রন্ট-জেএসডি-কৃষক শ্রমিক পার্টি- নাগরিক কেন্দ্র মিলে যে ঐকফ্রন্ট। তাদের একজন-ও ঐ বয়সের ছেলে-মেয়েরা নমিনেশন পায় নি। কিন্তু কেনো?

আরো প্রশ্ন হলো। খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান কনভিক্টেড হয়ে আছেন। ইন-ফ্যাক্ট তারা এখন প্রকাশ্য নেতা নন কোনো দলের এবং কিংবা জোটের। যে কারণে ডঃ কামাল তাদের একক নেতা হয়েছেন ঐক্যফ্রন্টের।

পার্লামেন্টে তাদের কে নেতা হবে। কামাল হোসেন বলেছেন। যখন নতুন সংসদ বসবে। তখন ঠিক হবে। এটা ইংল্যান্ডের ওয়েষ্ট মিনিষ্ট্রি ডেমোক্র্যাটিক প্রাক্টিস। কিন্তু এটা তো আমাদের দেশ। আমরা জানি না। কে হবেন আমাদের পার্লামেন্ট নেতা। ভোটারদের এইসব তো ইনফ্লুয়েন্স করবেই। নাকি?

আরো এক প্রশ্ন আছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী এখন ৫০-এর উপরে দাড়িয়েছেন। ৩৫ জনের মতো জয়ী হয়ে আসবে ধারণা করছি। যদি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট এবং ডঃ কামাল নেতৃত্বাধীন ঐক্যজোট। এই নির্বাচনের প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী । তারা দুই পক্ষই ১২০ আসন প্লাস-মাইনাস পেয়ে গেলো। সরকার গঠনের জন্য জয়-লাভের ১৫১ প্রয়োজন। ৩০-৩৫টি স্বতন্ত্র নির্বাচিতরাই। তখন সরকার গঠনের প্রধান ব্যক্তিত্ব তারাই হয়ে উঠবেন।

এমন সমুহ-সম্ভাবনাময় সময়ের জন্য প্রস্তুত কিনা ডঃ কামাল হোসেন? (মহানগরের ঢাকা-৪ থেকে ঢাকা-১৮ প্রতিটি আসনে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত একই সময়ে জনসভা ও গণমিছিল। ২৭ ডিসেম্বর দুপুর ২টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু। যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু। দলটির কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী। গণফোরাম নেতা জগলুল হায়দার আফ্রিক প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে ধানের শীষের প্রার্থীসহ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার। তাদের ওপর হামলা। উল্টো মামলা দেওয়া। উচ্চ আদালতের নির্দেশে ১৩টি আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থিতা শূন্য হয়েছে। এইসব নিয়ে সারাদেশের চিত্র তুলে ধরেন ড. কামাল। ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে ওই শূন্য আসনগুলোয় পুনঃতফসিল ঘোষণারও দাবি জানানো হয়।)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত