প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আ.লীগের ১০ বিদ্রোহী প্রার্থী এখনো মাঠে

অনলাইন ডেস্ক : আওয়ামী লীগের অন্তত ১০ জন বিদ্রোহী প্রার্থী এখনো মাঠে রয়েছেন। ভোট থেকে সরতে চাইছেন না। আজীবন বহিষ্কারের হুঁশিয়ারিও উপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত ভোটে থাকার কথা জানিয়েছেন তারা। খবর টাকা টাইমসের। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের রায়ে তাদের প্রার্থিতা স্থগিত হয়ে গেছে। ফলে ভোট করতে পারছেন না ময়মনসিংহ-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ হাসান সুমন এবং রংপুর-১ আসনের আসাদুজ্জামান বাবলু।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া সাতজন অবশ্য ভোটের লড়াই থেকে ক্ষ্যান্ত দিয়েছেন। আর চট্টগ্রামের একটি আসনে একজন বিদ্রোহী সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এবার আওয়ামী লীগে ভোটের প্রস্তুতি শুরুর আগে থেকেই দলের ভেতর সম্ভাব্য বিদ্রোহীদের নিয়ে উদ্বেগ ছিল ক্ষমতাসীন দলে। বারবার বলা হয়েছে, দল-মনোনীত প্রার্থীকে মেনে না নিলে আজীবন বহিষ্কার করা হবে। এসব হুঁশিয়ারির মধ্যেও ৭৬ আসনে অন্তত ৯৫ জন নেতা ‘স্বতন্ত্র’ প্রার্থী হয়েছিলেন। তবে বেশ কিছু নেতার প্রার্থিতা যাচাই-বাছাইয়ে বাতিল হয়। আর ৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় শেষ হওয়ার আগে ভোট থেকে সরে দাঁড়ান বৈধ আরও বেশ কয়েকজন।

তবে এখনো অন্তত ১৮টি আসনে স্বতন্ত্র পরিচয়ে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ নেতারা প্রার্থী হিসেবে রয়ে গেছেন। তাদের মধ্যে যারা ভোটে লড়বেন না জানিয়েছেন, তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ নেই। ফলে তাদের মার্কা রয়ে যাবে ব্যালট পেপারে। যারা বিদ্রোহী হয়েছেন তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন নৌকার বিরুদ্ধে, বেশ কয়েকজন মহাজোটের শরিক নেতার বিরুদ্ধে লড়ছেন।

তবে বিদ্রোহীরা সরে দাঁড়ালে তাদের সমর্থকদের মধ্যে প্রভাব পড়বে এই আশায় আওয়ামী লীগ বাকিদেরও ভোট থেকে সরানোর চেষ্টা করছে। তবে এই চেষ্টা কতটা সফল হবে, সেই সংশয় রয়েই যাচ্ছে। কারণ, কেন্দ্রের হুঁশিয়ারির মধ্যেই একাধিক আসনে বিদ্রোহীরা সংবাদ সম্মেলন বা অন্যভাবে জানাচ্ছেন, তারা ভোটে থাকছেন।

সরতে রাজি নন যারা

ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে ওয়ার্কার্স পার্টির ইয়াসিন আলীকে না মেনে নৌকার বিরুদ্ধে ভোটে দাঁড়িয়েছেন দলটির সাবেক সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ইমদাদুল হক। তার মার্কা মোটরগাড়ি।

এই আসনে তাকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে গত কয়েক মাস ধরেই নানা কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন ইমদাদুল। ঢাকা টাইমসকে তিনি বলেন, ‘বহিষ্কারের কথা মাথায় নিয়েই নির্বাচনে নেমেছি। কেন্দ্রের নেতারা ভুল করলেও ভোটাররা ভুল করবে না।’

গাইবান্ধা-১ আসনে মহাজোট মনোনীত জাতীয় পার্টির প্রার্থী শামীম হায়দার পাটোয়ারীকে মানতে চাইছেন না উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এমদাদুল হক। তিনি স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী হয়েছেন এবং বেশ ভালোভাবেই ভোটে আছেন।

এমদাদুল হক জানিয়েছেন, তিনি বহিষ্কারের ভয় পাচ্ছেন না। বলেন, ‘কৌশলগত কারণে মাঠে আছি। দল আমাদের বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না।’

কী সেই কৌশল সেটা অবশ্য প্রকাশ করেননি এমদাদুল। বলেন, ‘কৌশলটা ফোনে বলতে পারছি না। তবে আমাদের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, কিছু কিছু জায়গায় কৌশলের কারণে প্রার্থী আছেন, আপনারা শুনেছেন। আমিও ভোটের মাঠে আছি, থাকব।’

এই আসনে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আফরুজা বারীও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তবে তার পক্ষে কোনো তৎপরতা নেই।

আসনটিতে ২০ দলের শক্তিশালী প্রার্থী আছেন। জামায়াত নেতা মাজেদুর রহমান লড়ছেন ধানের শীষ নিয়ে।

পিরোজপুর-৩ আসনে জোট প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির রুস্তম আলী ফরাজীকে মানছেন না সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আশরাফুর রহমান। মঠবাড়িয়া উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে তিনি প্রার্থী হয়েছেন আপেল প্রতীকে।

আশরাফুর বুধবারও বিশাল সমাবেশ করেছেন এলাকায়। গতকাল বলেছেন, ‘আমি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করব না। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে লড়ব।’ এই আসনে বিএনপিরও আছে শক্তিশালী প্রার্থী। ধানের শীষ নিয়ে লড়ছেন রুহুল আমিন দুলাল।

যশোর-৫ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী স্বপন ভট্টাচার্যের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের লড়াইয়ে আছেন দলের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহ-সম্পাদক কায়সার হাসান বারীও। তার মার্কা ‘ঢাক’।

এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য খান টিপু সুলতানের অনুসারীরা আছেন কায়সারের পক্ষেই। আর তিনি জয়ের ব্যাপারেও আত্মবিশ্বাসী। গতকাল কায়সার বলেন, ‘আমি সরব না, কাউকে সমর্থনও দেব না। ৩০ তারিখ ভোট গণনা পর্যন্ত ফাইট করে যাব।’ এই আসনে ধানের শীষ নিয়ে লড়ছেন জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের নেতা মোহাম্মদ ওয়াক্কাস।

নরসিংদী-৩ আসনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক পাওয়া জহিরুল ইসলাম মোহনকে না মেনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন সিরাজুল ইসলাম মোল্লা। ২০১৪ সালেও মোহনের প্রতিপক্ষ হিসেবে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে জয় পান সিরাজুল ইসলাম মোল্লা। তার মার্কা সিংহ।

সিরাজুল মোল্লা বলেন, ‘আমি মাঠে আছি, মাঠে থাকব। নেতাকর্মীদের ইচ্ছার বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।’ মাদারীপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মন্ত্রী শাজাহান খান নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন। এই আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আল আমিন মোল্লা ‘সিংহ’ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তিনি বেশ ভালোভাবেই আছেন প্রচারের যুদ্ধে।

গতকাল আল আমিন মোল্লা বলেন, ‘আমি শেষ পর্যন্ত নির্বাচন করব। দল আমাকে বহিষ্কার করলেও করব।’এই আসনে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো কোনো অবস্থান নেই। তাই শাজাহান খানের সঙ্গে আল আমিন মোল্লারই লড়াই হতে পারে।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে মহাজোট মনোনীত জাতীয় পার্টির লিয়াকত হোসেন খোকাকে না মেনে বিদ্রোহী হিসেবে আছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সার। কায়সার সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, ‘কেউ কেউ অপপ্রচার করেছিলেন আমি নির্বাচনে থাকব কি থাকব না। যদি নির্বাচনে না থাকতাম, তাহলে আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দিতাম। সুতরাং নির্বাচনে আমি থাকছি এবং শেষ পর্যন্ত থাকব।’ ‘এত দিন ধরে কথা আসছে আমি নির্বাচন করব কি না। বসে পড়ছি কি না, শুয়ে পড়ছি কি না। আমি যদি বলতাম, তাহলে আজকেই বলতাম। আমি শুইনি, বসিনি, দাঁড়িয়েই আছি।’ বলেন কায়সার।

মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মৃণাল কান্তি দাসকে মানতে চাইছিলেন না জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিনের ছেলে পৌর মেয়র ফয়সাল বিপ্লব। তবে তিনি ভোটে দাঁড়াননি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন তার স্ত্রী চৌধুরী ফাহরিয়া আফরিন। তিনি একতারা প্রতীকে ভোটের লড়াইয়ে আছেন। আফরিন বলেন, ‘মাঠের পরিস্থিতি ভালোই দেখছি। প্রচার চালিয়ে যাচ্ছি।’ শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবেন কি না, এই প্রশ্ন করলে লাইন কেটে দেন আফরিন।

এই আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুল হাই। তিনি ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত মুন্সিগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য ছিলেন। তবে ২০০৮ সালে সীমানা পুনর্গঠনে আসনটি মুন্সিগঞ্জ-৩ হয় এবং ওই নির্বাচনে তিনি হেরে যান।

ফরিদপুর-৪ আসনে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহকে সিংহ প্রতীকে চ্যালেঞ্জ করেছেন নিক্সন চৌধুরী। তিনি ২০১৪ সালেও দলের সমর্থন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে জিতে যান। বিদ্রোহী এই প্রার্থী বলেন, ‘নিক্সন চৌধুরী কোনো অপশক্তির কাছে মাথা নত করার মতো লোক নয়। জাফরুল্যাহ সাহেব যদি মনে করেন, তার হেরে যাওয়ার আশঙ্কা আছে, তাহলে তিনি সরে যেতে পারেন, নিক্সন চৌধুরী নয়।’ এই আসনে বিএনপির লড়াই করার মতো শক্তি নেই। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নৌকা আর সিংহ প্রতীকে হবে, এটা অনুমেয়। ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে এই আসনে তিন হাজার ৯৩৭ ভোট পেয়ে জামানত বাজেয়াপ্ত হয় বিএনপির।

লক্ষ্মীপুর-২ আসনে মহাজোট মনোনীত জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ নোমানের পাশাপাশি প্রার্থী হয়েছেন কুয়েত আওয়ামী লীগের সাবেক আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম পাপুল। তবে দল সমর্থন না করায় তিনি স্বতন্ত্র পরিচয়ে ভোট করছেন। পাপুলের পক্ষে এলাকায় চলছে প্রচার। তার ঘনিষ্ঠ একজন বলেন, ‘নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নাই।’

ফেনী-১ আসনে মহাজোটের প্রার্থী জাসদের শিরিন আখতারকে আপেল প্রতীকে চ্যালেঞ্জ করছেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শেখ আবদুল্লাহ। তিনি প্রচার চালাচ্ছেন এলাকায়।

নিজের উপজেলা ফুলগাজীর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদক ছাড়া বাকি সবাই দৃশ্যমান প্রচারে আছেন। পরশুরাম ও ছাগলনাইয়াতেও একই ধরনের পরিস্থিতি। তবে এ নিয়ে ফোনে কথা বলতে চাইছেন না আবদুল্লাহ। এই আসনে নির্বাচন করতেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি নির্বাচন করতে পারছেন না বলে এখানে বিএনপি ধানের শীষ দিয়েছে রফিকুল ইসলাম মজনুকে।

বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক অবশ্য দাবি করেছেন, এখন পর্যন্ত চারটি আসনে কেবল বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন। বলেছেন, ‘তারাও সরে যাবেন, নাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

যারা সরে দাঁড়িয়েছেন

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে তরীকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভা-ারীকে সমর্থন জানিয়ে ভোট থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন চট্টগ্রাম উত্তর আওয়ামী লীগের সদস্য এ টি এম পিয়ারুল ইসলাম। ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে দলের বর্ধিত সভায় এ ঘোষণা দেন তিনি।

ময়মনসিংহ-৯ আসনে দলীয় প্রতীক না পেয়ে নির্বাচন করতে চাওয়া আব্দুস সালাম কুড়াল মার্কা পেলেও তিনি ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
মানিকগঞ্জ-১ আসনে বিদ্রোহী এ বি এম আনোয়ারুল হকও ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন। গত মঙ্গলবার তার স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠান গণমাধ্যমে।

কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে নোঙ্গর প্রতীক পাওয়া উপজেলা যুবলীগের নেতা আব্দুল্লাহ নজরুলও ভোট থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। প্রতীক পেলেও তার পক্ষে কোনো তৎপরতা ছিল না।

ফেনী-৩ আসনে জাতীয় পার্টির মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে আর লড়বেন না যুবলীগের সভাপতিম-লীর সদস্য আবুল বাশার। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মিজান চৌধুরীর মধ্যস্থতায় দুই পক্ষে সমঝোতা হয় বুধবার আর লাঙ্গলের পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন বাশার। এই আসনে বাশারের ছেলে ইশতিয়াক আহমেদও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে পেয়েছেন ‘নোঙ্গর’ মার্কা। তবে তার পক্ষে কোনো তৎপরতা নেই।

আদালতের নির্দেশে সরতে বাধ্য হয়েছেন যারা

রংপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাকে চ্যালেঞ্জ করা আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান বাবলু এবং ময়মনসিংহ-৮ আসনে জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমামকে চ্যালেঞ্জ করা আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদ হাসান সুমনের প্রার্থিতা স্থগিত করেছে হাইকোর্ট।

বাবলু রংপুরের গঙ্গাচড়া এবং সুমন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান ছিলেন। পদত্যাগ করে তারা সংসদ নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তবে পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়ায় জাতীয় পার্টির দুই নেতার রিট আবেদনে বৃহস্পতিবার প্রার্থিতা স্থগিত করে আদালত।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত