প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নৌকা আনে সমৃদ্ধি, ধানের শীষে দুর্নীতি: প্রধানমন্ত্রী

সমকাল :  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শান্তি, নিরাপত্তা, উন্নয়ন-সমৃদ্ধি ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের কল্যাণের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আবারও দেশ সেবার সুযোগ দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, সারাদেশে নৌকার পালে হাওয়া লেগেছে। আজ নৌকার পক্ষে যে জোয়ার উঠেছে, ইনশাল্লাহ আগামী নির্বাচনে নৌকা বিজয়ী হবেই। আমরা আবারও সরকার গঠন করে দেশের মানুষের সেবা করতে পারব, তাদের উন্নত জীবন দেব।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি আরও বলেছেন, ধানের শীষ মানেই দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ, বোমা হামলা, অর্থপাচার, এতিমের টাকা আত্মসাৎ, অগ্নিসন্ত্রাস আর মানুষ পুড়িয়ে হত্যা। অন্যদিকে, নৌকা আনে স্বাধীনতা, সমৃদ্ধি, উন্নয়ন, জনগণের ভাগ্য বদল ও মানুষের কল্যাণ। তাই দেশের মানুষের কাছে আবারও নৌকায় ভোট চাই। মানুষ আগামী নির্বাচনে নৌকাকেই ভোট দেবে।

শুক্রবার রাজধানীর গুলশান-২ নম্বরের ইয়ুথ ক্লাব মাঠে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। এ সময় ঢাকাকে তিলোত্তমা রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা রাজধানীকে সুন্দর এবং বাসযোগ্য করার জন্য সকল নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং এর সৌন্দর্য বর্ধনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকতে সন্ত্রাস, খুন, দুর্নীতি, গ্রেনেড হামলা, অস্ত্র চোরাকারবার, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করেছে, বিদেশে বিপুল অর্থ-সম্পদ পাচার ও এতিমের টাকা আত্মসাৎ করেছে। নির্বাচন বানচাল ও সরকার পতনের নামে ২০১৩, ‘১৪ ও ‘১৫ সালে অগ্নিসন্ত্রাস করেছে, পেট্রোল বোমা ও আগুনে জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। যারা মানুষকে মানুষ বলে গণ্য করে না তারা কোন মুখে মানুষের কাছে ধানের শীষে ভোট চায়?

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আগামী নির্বাচনে দেশের মানুষকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কোন পথে যাবে? বর্তমান উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে- না-কি অতীতের মতো সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অন্ধকারের যুগে? ইনশাআল্লাহ, দেশের মানুষ নৌকার পক্ষেই থাকবে, নৌকাকেই বিজয়ী করবে।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ঢাকা মহানগরীতে এটি ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রথম জনসভা। তার এই জনসভাকে ঘিরে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে বিপুল উচ্ছ্বাস এবং উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা মিছিল সহকারে জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন। তাদের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষও যোগ দিয়েছেন। হাজার হাজার মানুষের ভিড় জনসভাস্থল ছাড়িয়ে আশপাশের কয়েক বর্গকিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

এ সময় নেতাকর্মীরা লাল-সবুজের পোশাক ও টুপি পরে নৌকার পক্ষে স্লোগানে স্লোগানে গোটা এলাকা উত্তাল রাখেন। ব্যানার-ফেস্টুন, নৌকা প্রতীক ও জাতীয় পতাকার পাশাপাশি বাদ্য-বাজনার তালে তালে নেচেগেয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করেন তারা। ঢাকা মহানগর উত্তর এলাকার আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের শোডাউন ছিল চোখে পড়ার মতো।

শেখ হাসিনা বলেন, আজকের বাংলাদেশ দুর্যোগ-দুর্ভিক্ষের দেশ নয়, বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। আজ কারও কাছে আমাদের হাত পেতে চলতে হয় না। আগে বাংলাদেশ নাম শুনলেই অনেকেই নাক সিঁটকাতো। বাংলাদেশ মানে তাদের কাছে ছিল দুর্ভিক্ষের দেশ, ভিক্ষুকের দেশ, দুর্যোগের দেশ। আল্লাহর রহমতে সেই বদনাম এখন আর নেই।

এ প্রসঙ্গে টানা দুই মেয়াদের তার সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সরকারের সময় বাজেট বেড়েছে অনেকগুণ। ২০০৮ সালে নির্বাচিত হয়ে এসে দেখি এ ঢাকা শহরেই পানির অভাব, বিদ্যুৎ নেই, লোডশেডিং, রাস্তাঘাটও নেই। ছিনতাই-সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ তো ছিলই। সবকিছু কাটিয়ে উঠেছি আমরা। এখন আর পানি ও বিদ্যুতের সমস্যা নেই। ২০০৮ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ৩২০০ মেগাওয়াট, এখন আমরা ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করেছি। এখন দেশে কোনো লোডশেডিং নেই। তবে জনগণকে বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজেদের ভাগ্যবদল নয়, জনগণের ভাগ্যোন্নয়নই আওয়ামী লীগের লক্ষ্য। আগে চিকিৎসার জন্য মানুষকে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হতো। আজ প্রতিটি এলাকায় হাসপাতাল করে দিয়েছি। আওয়ামী লীগ কেবল বিত্তশালীদের দিকে তাকায় না, নিম্নবিত্ত ও স্বল্পআয়ের মানুষদের জীবনমান উন্নয়নের জন্যও কাজ করে। স্বল্পআয়ের মানুষ যেন ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকতে পারে- সে ব্যবস্থাও আমরা করব। যেন মানুষ দৈনিক, সাপ্তাহিক কিংবা মাসিক হারে ভাড়া দিয়ে থাকতে পারে। স্বল্প ও নিম্নআয়ের সব মানুষ যেন সুন্দরভাবে বসবাস করতে পারে- সেজন্য আমরা কাজ করছি।

শেখ হাসিনা বলেন, শিক্ষার হার বাড়াতে স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি শিক্ষার মানও উন্নত করতে সরকার কাজ করছে। আমরা যানজট নিরসনে ফ্লাইওভার করে দিয়েছি। ঢাকায় মেট্রোরেল নির্মাণ হচ্ছে। ক্ষমতায় যেতে পারলে পাতাল রেলের ব্যবস্থা করব। ঢাকার চারপাশে এলিভেটেড রিংরোড নির্মাণ করব। রাজধানীর আশপাশে আগে অনেক ইউনিয়ন ছিল, সেগুলোকে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যুক্ত করে দিয়েছি, যেন মানুষ নাগরিক সুবিধা পায়। আমাদের লক্ষ্যই এ দেশের মানুষের উন্নয়ন করা।

সরকারপ্রধান বলেন, উন্নয়ন ও অগ্রগতি এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারা আমরা অব্যাহত রাখতে চাই। জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের স্থান বাংলাদেশে নেই। এই গুলশানেই হলি আর্টিসানে জঙ্গি হামলা হয়েছিল। অনেকে ভেবেছিল, এ অবস্থা থেকে মানুষকে উদ্ধার করা সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা মাত্র আট ঘণ্টায় সে অবস্থা থেকে উদ্ধার করেছি। তবে দুর্ভাগ্য, বেশ কয়েকজন বিদেশিকে হত্যা করা হয়েছে। এরপর কঠোর হাতে জঙ্গিবাদ দমন করেছি। এরপর মাদক নির্মূলে অভিযান শুরু করেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নৌকায় ভোট দিয়ে দেশের মানুষ মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার পেয়েছে, স্বাধীনতা পেয়েছে। নৌকায় ভোট দিয়ে মানুষের জীবনমান উন্নত হয়েছে, মানুষ ডিজিটাল বাংলাদেশ পেয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে, বেতন-ভাতা ও আয়-রোজগারও বেড়েছে সবার। ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করার সুযোগ পাচ্ছে, উচ্চশিক্ষা পাচ্ছে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, হাওয়া ভবন খুলে দুর্নীতি করে না আওয়ামী লীগ। অথচ বিএনপির সময় হাওয়া ভবনে টাকা দিতে দিতে ব্যবসায়ীদের নাভিশ্বাস উঠেছিল। আমরা এতিমের টাকা আত্মসাৎ করি না। এতিমের টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়া। সে জন্য তার সাজা হয়েছে, তাকে কারাগারে যেতে হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়ার দুই ছেলে তারেক রহমান ও প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকো অর্থ পাচার করে ধরা পড়েছে। খালেদা জিয়ার এক ছেলের বিদেশে পাচার করা অর্থ আমরা সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরত এনেছি। যত অপকর্ম ও অপরাধ করা যায়, সেটাই তারা করেছে।

দেশবাসীর উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের উন্নতি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার জন্যই আপনাদের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চাই। আমরা ইশতেহারে উল্লেখ করেছি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখানো হবে। আমরা তরুণ ও যুবসমাজের উন্নয়ন করব, তাদের মেধা ও জ্ঞানকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাব। আমরা ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করব। আপনাদের ভোটে আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় এলে আমরা একটি সুখী, উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করতে পারব। কাজেই আপনারা নৌকায় ভোট দেবেন, দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে সহযোগিতা করবেন।

এ সময় ঢাকার বিভিন্ন আসনে নৌকা মার্কার প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি আগামী নির্বাচনে তাদের জন্য ভোট চান। উপস্থিত হাজারো জনতাও দুই হাত তুলে নৌকায় ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার করেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে।

জনসভা থেকে আওয়ামী লীগ সভাপতি যেসব আসনের দলীয় প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন তারা হচ্ছেন ঢাকা-১ আসনের সালমান এফ রহমান, ঢাকা-১১ আসনের এ কে এম রহমতউল্লাহ, ঢাকা-১২ আসনের আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, ঢাকা-১৩ আসনের সাদেক খান, ঢাকা-১৬ আসনের ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, ঢাকা-১৭ আসনের আকবর হোসেন পাঠান ফারুক এবং ঢাকা-১৮ আসনের অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন। মঞ্চে না থাকলেও ঢাকা-১৪ আসনের আসলামুল হক আসলাম এবং ঢাকা-১৫ আসনের কামাল আহমেদ মজুমদারের পক্ষেও ভোট চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম রহমতউল্লাহর সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, পল্লবী থানার সভাপতি ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, গুলশান থানা সভাপতি হাজী সুলতান হোসেন, বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম আতিক, যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোল্লা মো. আবু কাওছার, ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী চিত্রনায়ক আকবর হোসেন পাঠান ফারুক প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আজিজুল হক রানা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত