প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আবদুল হাই মাস্টার-নেই মিছিল, নেই স্লোগান তবুও তিনি প্রার্থী (ভিডিও)

আক্তারুজ্জামান : নির্বাচন মানেই স্লোগান, মিছিল, পোস্টারের উপর পোস্টার লাগানো। নির্বাচন মানেই বাইক শোডাউন, কর্মী ভাড়া করে নিজের নাম ও প্রতীক প্রচারণা করা, চা স্টল থেকে পাঁচ টাকার চায়ের বিনিময়ে জনগণের পাঁচ বছর কেনার লড়াইয়ে নামা। এমনটা আমরা অনেক দিন থেকেই আসছি। কিন্তু এই ধারনা ভুল প্রমাণ করে দিয়েছেন কুড়িগ্রামের প্রার্থী আবদুল হাই মাস্টার। কুড়িগ্রাম-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন তিনি। নির্বাচন আসার আগেই মানুষের মন জয় করেছেন তিনি।

অভিনব প্রচার ও সহজ-সরল ভাষায় মানুষের কাছে পেয়েছেন জনপ্রিয়তা। নিজের ভোটের মাইকিং তিনি নিজেই করছেন। তার পেছনে নেই কোনো কর্মী বাহিনী, নেই ঢাক-ঢোল, নেই স্লোগান কিংবা পোস্টার। তিনি নিজেই মাইকিং করে জনগণকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।

এই ধরনের পরিবেশবাদী কাজের জন্য বারবার প্রসংশিত হয়েছেন আবদুল হাই মাস্টার।

আবদুল হাই মাস্টার জাকের পার্টি থেকে কুড়িগ্রাম-১ আসনে নির্বাচনে নেমেছেন। তার মধ্যে ভান ভনিতা কম, এটাই তাকে বোধহয় সবার চেয়ে স্বতন্ত্র করে তুলেছে। তার নির্বাচনী হলফনামা থেকে জানা যায়, ভুরুঙ্গামারী উপজেলা সদর ইউনিয়নের দেওয়ানের খামার গ্রামের মৃত এন্তাজ আলীর সন্তান তিনি। শিক্ষাগত যোগ্যতা- বিএ পাস। সম্পত্তি বলতে ভিটা-বাড়িসহ ২৮ শতক জমি, একটি টিভি, ৫ ভরি স্বর্ণ এবং নগদ ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা। কোনো ধরনের ঋণ বা মামলা নেই।

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল হাই মাস্টার নির্বাচনী প্রচারণার জন্য নিয়েছেন একটা ইজিবাইক। যার দুই পাশে দুটি মাইক লাগিয়ে নিজের প্রচারবার্তা চালাচ্ছেন নিজেই। মাইকিংয়েও বলছেন সহজ কিছু কথা, ‘আামি আপনাদের হাই মাস্টার, ভাই বোনদের বলে যাই গোলাপ ফুল মার্কায় ভোট চাই। আমাকে ভোট দিয়ে এলাকার সমস্যা সমাধানের জন্য সংসদে কথা বলার সুযোগ দিন।’ ব্যস এতটুকুতেই শেষ! তার এই অভিনব প্রচারে আকর্ষিত হচ্ছে এলাকার জনগণও। তারা বেশ অবাকই হচ্ছেন বর্তমান নির্বাচনের বাজারে এমন প্রচারাভিযান দেখে। যেখানে অন্যান্য দল, অন্যান্য এলাকার প্রার্থীরা নিজের শক্তিমত্তা দেখানোর জন্য প্রতিদিন শোডাউন নামায়, কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করে প্রচারকাজে, সেখানে এই মানুষটার এমন সরল প্রচার কৌশল!

সহজ সরল এই আবদুল হাই মাস্টারের পরিচিতি বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন শো ‘ইত্যাদি’ থেকে। ইত্যাদির মঞ্চ থেকে তাকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় অভিনব কাজের জন্য। উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালীন পরিবেশ রক্ষার জন্য নিজেই অদ্ভুত কাজ করতেন। অন্য সবার মতো বক্তৃতা না করে নেতা হিসেবে সামনে থেকেই কাজ করে উদাহরণ তৈরি করতে নিজেই ময়লার ভাগাড়ে নেমে গিয়ে ময়লা পরিষ্কার করতেন। নিজের ভুরুঙ্গামারী উপজেলা ছাড়াও অন্যান্য এলাকাতেও করেছেন এই ধরনের কাজ। বিনা প্রচার ও বিনা স্বার্থে এরকম কাজের জন্যেই তাকে ডাকা হয়েছিল ইত্যাদির মঞ্চে।

ইত্যাদির সেই আবদুল হাই মাস্টার এবার জাতীয় নির্বাচনের প্রার্থী। নিজের নামে একটা পোস্টারও করেননি। এর পেছনে তার যুক্তি হলো, টাকার অপচয়। পছন্দ করেন না কোনো ধরনের মোটর শো ডাউনও। তিনি তাই নিজেই মাইকিং করে জনসংযোগ করে যাচ্ছেন। ভোটারদের সাথে মিশে যাচ্ছেন আপন মানুষের মতো। কোথাও গিয়ে তাদের কাছ থেকেই চেয়ে চা-পান খাচ্ছেন।
জাতীয় নির্বাচনের এই ডামাডোলে আবদুল হাই মাস্টার যেন বিরল এক দৃষ্টান্ত। তার মার্কা গোলাপ। গোলাপ মার্কা জিতবে কিনা সেটা ভোটের ফলাফল বলে দিবে। তবে, মানুষ হিসেবে আবদুল হাই মাস্টার নিশ্চিতভাবে অনেকের মন জিতে নিয়েছেন এ কথা বলায় যায়!

নিউজ টুয়েন্টি ফোরে আবদুল হাই মাস্টারকে নিয়ে প্রচারিত প্রতিবেদনের ভিডিওটি দেখে নিন……

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত